
নামঃ হাঙ
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
জনরা: Lovecraft, অতিপ্রাকৃত, ভৌতিক, Psychological Horror
প্রকাশক: অন্যধারা
প্রথম প্রকাশ: ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৯০+
কাহিনী সংক্ষেপঃ
খুবই সংক্ষেপে, হইছে কি জানেন একটা মেয়ে, পারিবারিক ভাবে বিছিন্ন। একা থাকে এক বাসাতে। এবং চারিত্রিক ভাবে সে কিছুটা দুষ্ট। যে বাসায় থাকে সেখানে হঠাৎ করে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। ফ্রিজ থেকে গোশ হাওয়া হয়ে যায়, বাথরুমের লক আটকে যায় আরো অনেক কিছু ঘটে। বইটা পড়লেই জানতে পারবেন।
পাশাপাশি আর একটা ঘটনা এগুতে থাকে। একটা গ্রামের ঘটনা। যেখানে ভয়ংকর কিছু ঘটতে থাকে। গ্রামে হাঁস মুরগী গরু উধাও হতে থাকে। মানুষের উপরেও হামলা হয়। খুবই ভয়ে ব্যাপার, বাবারে বাবা।
কিন্তু এই দুই ঘটনা কি এক সাথে মিসেছে বা এদের সাথে কি কোন সম্পর্ক আছে। জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।
আমার অনুভূতি আর হাবিজাবি জিনিসঃ
অনুভূতি আমার অসাধারন। অনেক দিন পড়ে এমন একটা বই পড়লাম, যে না পড়লে মনে হচ্ছিল কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে বই কিন্তু আমার সাথেই। এক বসাতেই পড়া যায়, আমিও বেশ কম সময়ে পড়ে ফেলেছি।
একেবারে লাভক্রাফট ঘরনার। তবে অন্য লাভক্রাফটের মতন আমি পড়া শেষে দ্বিধায় পরিনি। খুব একটা প্রশ্ন আমার মনে জাগেনি। ভয়ের আবেশটা ছড়ানোর জন্য লেখক যেভাবে এগুচ্ছিলেন, সত্যি প্রশংসার দাবীদার উনি।
তবে হ্যাঁ, ভয় আর আতঙ্কের বাইরে একটা জিনিস আমাকে একটু নাড়া দিয়েছে। গল্পের একটা মেয়ে চরিত্র, প্রধান মেয়ে চরিত্র, সে একা থাকে। পরিবার থেকে বিছিন্ন। যদিও সে টাকার লোভে, শরীর বিকোও আর ভালোবাসার অভিনয় করে বেরায়। কিন্তু দিন শেষে সে একা। সেই একাকীত্বটা লেখক যেভাবে তুলে ধরেছেন, আমার বেশ মায়া লাগছিল। মেয়েটার জন্য না, সব এক বেঁচে থাকা মানুষের জন্য। এই মেয়েটার যে কয়টা অসহায় মুহূর্ত লেখক তুলে ধরেছেন, ওগুলো আসলেই মানুষকে ভাবাবে। কারন দিন শেষে মানুষ মানুষের জন্য।
আর মনোয়ারুল ইসলাম বাংলা horror genre-এ নিজের আলাদা atmosphere তৈরির জন্য পরিচিত। তার গল্পে প্রায়ই লোককাহিনী, অদ্ভুত গ্রামীণ পরিবেশ, psychological fear এবং supernatural mystery একসাথে মিশে থাকে।
চিন্তাতে নাড়া দেয়ার মতন কিছু উক্তি বা লাইন…
১/ সব শিকার রক্ত দেখে আসে না, কিছু আসে নীরবতায়।
২/ মানুষ অন্ধকারকে ভয় পায় না, অন্ধকারে কী আছে সেটাকে ভয় পায়।
৩/ কিছু রহস্যের উত্তর খুঁজে পাওয়া ভয়ংকর, আর কিছু রহস্যের উত্তর না পাওয়াই ভয়ংকর।
৪/ যে ভয়কে কেউ বিশ্বাস করে না, সেটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ধন্যবাদ,
আবার আসবেন।
বেশী বেশী বই পড়বেন।
#ভাউ