চিন্তা

অল্পপ্রতিক্রিয়া || The Bazaar of Bad Dreams || Stephen king

September 7, 2026

Md. Aftab Hossen

17
View

অল্প প্রতিক্রিয়া, কারন পুরো বই এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু কিছু কথা বা প্রতিক্রিয়া না দিয়ে পারছি না। 

লেখাটা একটু বড় হতে পারে। সময় না থাকলে শুরু করার দরকার নেই।
 

বইয়ের নাম “The Bazaar of Bad Dreams”, লিখেছেন কাজী মানে Stephen king, স্বনামধন্য লেখক। 😊
বইটা হল এমপিথ্রি, মানে বেশ কিছু রহস্যময়, থ্রিলার গল্প দিয়ে ঠাসা। শুধু ভয়ের না, অন্যরকম কিছু থ্রিলার। আমি কেবল ৫ টা শেষ করলাম, ২০ টা গল্পের মধ্যে।
 

মজার একটা জিনিস শিখলাম। হয়তো ভবিষ্যতে, আমি কোনদিন স্বনামধন্য লেখক হলে এই স্টাইলে একটা বই লেখার চেষ্টা করবো। এখন আর এই দুনিয়াতে ইউনিক কিছু নেই, কেউ না কেউ, কাউকে না কাউকে অনুসরণ করে, কপি করে, ছায়া মাড়িয়ে যায়। এমনকি এই বইতে Stephen king সাহেবও বলেছেন, উনি মাঝে মাঝে কার কার ছায়া মাড়িয়েছেন। তবে আমি যেহেতু পুরোটা আনাড়ি লেখক, আমার লেখায় কারো ছায়া পড়ে গেলেও হয়তো বুঝে উঠতে পারবো না। অতিমানবীয় পাঠকরা হয়তো ধরতে পারবে।
 

মজার জিনিস যেটা বলছিলাম, উনি সব গুলো গল্প বলার আগে, গল্পের প্লট কীভাবে ওনার মাথায় এসেছিল বা কি ভেবে উনি গল্পটা লিখেছেন তার একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেছেন। বইয়ের প্রথম দুটা গল্পে আমি ব্যাপারটা ধরতে পারিনি। তৃতীয় গল্পে এসে আমার সন্দেহ হল, “ব্যাপার কি? আসল গল্পের আগে, গল্পের কাছাকাছি কিছু কথা লেখা কেন?” মাথায় ক্লিক করলো, “আরেহ, উনি তো গল্পের পিছনের গল্প বলছেন গল্পের শুরুতে।“
সেই তৃতীয় গল্প এবং গল্পের পিছনের গল্প সংক্ষেপে একটু শেয়ার করি আপনাদের সাথে। (ভিডিও করতে পারলে ভালো হত, কিন্তু আমি ভিডিও করতে পারি না, আসে না আমার, ভাল্লাগে না।)

যাইহোক, গল্পের শুরুর গল্পে উনি লিখেছেন “Sometimes a story arrives complete-a done thing. Usually, though, they come to me in two parts: first the cup, then the handle.” বাংলাটা লিখে আর লেখা বড় করছি না। এরপরে উনি ওনার জীবনে দুটো সময়ের দুটো ছোট্ট ঘটনা বললেন, একটা হলো, উনি কোন এক রাস্তা ছোট একটা ঘটনা দেখলেন যেটা ভাগ্যক্রমে দুর্ঘট/নায় রুপ নেয়নি। দুটো বড় ট্রাক প্রায় মুখোমুখি হতে গিয়ে বেঁচে যায়। ড্রাইভার দুজন, একে অপরকে বকাবকি করে, মিড/ল ফিঙ্গার দেখায়। কিন্তু কেউ আর থামে না। ওরা থেমে ঝগড়া শুরু করলেও কিছু করার ছিল না। হাই-ওয়েতে এমন অনেক হয়, যাকে বলে “Road rage”। এটা ছিল ওনার মাথায় আসা একটা গল্পের কাপ।

এর প্রায় বছরখানেক পড়ে, উনি আর ওনার বেগম মিলে একটা হুডেলে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তখন ওনার চোখে পড়ে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক লোক খুব কষ্টে গরুর চাপ, ইংরেজিতে বলে Steak, ছুড়ি দিয়ে কেটে খাচ্ছে। অন্য টেবিলে আর একটা ছেলে খাচ্ছিল। তাঁদের মধ্যে চোখাচোখি হলে, মুরুব্বী ছেলেটাকে তার টেবিলে এসে খেতে বললেন, ছেলেটা চলে আসলো। পড়ে এমনটা আমি বুঝতে পেরেছি। তখন আমাদের স্বনামধন্য লেখক Stephen king সাহেবের মাথায় যে “Road rage” গল্পটা কাপ আকারে ছিল, তার হ্যান্ডেল চলে আসে। উনি ভাবেন, এরা দুজন তো বাপ-ব্যাটাও হতে পারে। আর তখন উনি লিখে ফেলেন ছোট থ্রিলার গল্প “Batman and Robin Have an Altercation”।

এবার গল্পটা বলি সংক্ষেপে।
বৃদ্ধ বাবা, বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। ছেলে দু সপ্তা অন্তর দেখতে আসে।
শুরুটা এমন “Sanderson sees his father twice a weak. On Wednesday evenings, after he closes the jewelry store his parents opened long ago, he drives the three miles to Crackerjack Manor and sees Pop there, usually in the common rooms.”

এরপরে সেখান থেকে দুই বাপ ব্যাটা একটা রেস্টুরেন্টে যায়। যে রেস্টুরেন্টে লেখক আর তার বেগম খেতে খেতে লেখকের মাথায় প্লট আসে। তারপর বাবা Steak অর্ডার করে, ছেলেও তার খাবার অর্ডার করে। এখানে catch হল, বৃদ্ধ বাবা পুরনো অনেক কথা ভুলে গেছে। যেমন, Sanderson তার মেঝো ছেলে, বড় ছেলে মারা গেছে। গল্পে বারবার সে জিজ্ঞেস করে তার বড় ছেলের কথা। ছোট বেলায় বাবা আর এই Sanderson Halloween এ Batman আর Robin সেজে neighborhood এ Trik and tricks খেলত, সেটাও অনেক বার মনে করিয়ে দেয় ছেলে। খাবারের মাঝে তাঁদের মধ্যে অনেক ঠাণ্ডা তর্ক চলতে থাকে। খাবার শেষে বাবা বলে, আমরা এখানে আবার আসবো, এখানকার Steak টা ভালো । অথচ দু সপ্তা অন্তর ওরা দুজন এখানে আসে। এভাবে লেখকের কাপের হ্যান্ডেল এগিয়ে যায়।

এবার আসেন কাপে।
খাওয়া শেষে বাপ ব্যাটা বের হয়। রাস্তায় একটা সিগ্ন্যালে এক বড় ট্রাক ড্রাইভারের ভুলে ওরা দুর্ঘটনার মুখে পড়তে যায়। সেই ড্রাইভারকে মিড/ল ফিঙ্গার দেখায় Sanderson। লেখাটা এভাবে, “’Ass/hole!’ Sanderson cries, “Jesus!” Then he makes a mistake. He pushes the button that unrolls the window, sticks out his arm, and wags his mid/dle finger at the truck.” কিন্তু লেখকের বাস্তব গল্পে ট্রাক দুটো দুদিকে চলে গেলেও এই গল্পে ট্রাক ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে নেমে আসে। Sanderson ও গাড়ি থেকে নামে, এরপরে দুজনের মধ্যে প্রথমে তপ্ততর্ক হয়। কিন্তু ট্রাক ড্রাইভার মাথা গরম, সে Sanderson কে মারতে শুরু করে। এখানে লেখক বেশ ভালো কিছু মারা/মারির সিকোয়েন্স বর্ণনা করেছেন। এরপরে Sanderson চারিদিকে র/ক্তের বন্যা বইতে দেখে। আমি প্যারাটা summary শেয়ার করতে চাচ্ছি, “Sanderson initially struggles to understand what has happened, but then recognizes that the piece of wood is the handle of a knife he has seen before. The passage explains that Pop, despite suffering from serious memory loss and no longer remembering important details about his family, still retains some of the clever ruthlessness that helped him rise from an oilfield roughneck with no college education to a successful jewelry merchant in San Antonio.” মানে, আব্বাজান ছু/ড়ি বসিয়ে দিছে ট্রাক ড্রাইভারকে।

তো এভাবেই লেখক তার কাপ আর হ্যান্ডেল এক করে একটা ছোট গল্প আমাদের উপহার দিলেন।
আর একটা মজার ব্যাপার বলি, হয়তো বা সবসময়ই লেখকরা তাঁদের আশপাশ থেকেই লেখার রশদ নেয়। এই ধরেন, আমার যে বইটা “আঁধারে লুকানো ভয়” আদী প্রকাশন থেকে বের হয়েছে, সেখানে একটা অংশে আমি এক “চা মামা”র বর্ণনা করেছি। সে খুব সুগন্ধি চা বানিয়ে খাওয়া। এবং এমন একটা চা মামা বসে আমার এলাকায়। একটা সময় অফিস থেকে আসার পথে প্রায়ই ওনার কাছে চা খেয়ে আসতাম। বইটা পড়লে জানতে পারবেন।
যাইহোক, Stephen king সাহেবের বইটা শেষ হলে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করবো। আর যদি হঠাৎ অন্য কোন গল্প এমন মনে ধরে যায় তবে এই অল্প প্রতিক্রিয়া নিয়ে চলে আসবো।

ভালো থাকবেন,
বইয়ের সাথে থাকবেন,
#ভাউ

Comments

    Please login to post comment. Login