বিয়ে কি তবে কেবল সই,
চুক্তির পাতায় নামের আঁচড়?
নাকি দু’জন মানুষের খেলা,
ভালোবাসার অন্তহীন যাত্রা?
ঘরের দরজা বন্ধ হলেই
কি দায়িত্ব ফুরোয় সব?
নাকি সেখানেই শুরু হয়
সত্যিকারের পরীক্ষার ক্ষণ?
স্বামী যখন চোখে ডাকে,
আপনি কি কেবল শরীর দেন?
নাকি হন সেই অদ্বিতীয়া—
যার জন্য তার হৃদয় কাঁদে,
যার ছায়া ছাড়া সে শূন্য হয়?
মনে করুন, একদিন আপনি ছিলেন
স্বপ্নের রাজকন্যা।
আপনাকে পেতে সে লড়েছে,
বন্ধুর সাথে ঝগড়া করেছে,
বাধা পেরিয়ে জয় করেছে আপনাকে।
তখন আপনার চোখে ছিল আগুন,
কথায় ছিল জাদু,
শরীরের বাঁকে লুকানো আকর্ষণ—
সে আগুন আজ কোথায় নিভে গেল?
আজ আপনি হাঁটেন ক্লান্তমুখে,
ঢিলেঢালা পোশাকে,
বিরক্ত স্বরে জানান দেন—
“আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।”
কিন্তু পুরুষ তো শিকারি,
সহজলভ্য শিকার তার নয় প্রিয়।
সে খোঁজে নতুন রহস্য,
অধরা আগুন, অপরূপ উত্তেজনা।
সৌন্দর্য ফুরোয় কালের সাথে,
কিন্তু আবেদন অম্লান থাকে।
ঐশ্বরিয়া পারেননি, ডায়ানাও নয়,
কারণ শুধু রূপ নয়—
প্রয়োজন মায়া, উষ্ণতা, জাদু।
পুরুষ দিনের শেষে খোঁজে—
শান্তির বুকে আশ্রয়,
স্নেহমাখা দু’টি কথা।
আপনি যদি দেন দোষারোপ,
তুলনা আর বিষাদ,
তাহলে সে পালাবে দূরদেশে।
কিন্তু যদি হন তার সঙ্গিনী,
তার নিরাপদ আশ্রয়,
তার কানে বাজতে থাকা গান,
তবে কোনো ঝড়ই
তাকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
তাই শিখুন—
চোখে আগুন জ্বালাতে,
সাজতে কেবল তার জন্য।
মিলনকে উৎসব ভাবতে,
দুষ্টু ইঙ্গিতে জ্বালাতে আগুন।
নীরব দেবী হয়ে শুয়ে নয়,
কথায় আর স্পর্শে ভাসতে দিন তাকে।
প্রশংসার আলোয় ঢেকে দিন,
তাকে জানান—সে-ই আপনার নায়ক।
তাহলেই দেখবেন,
সে আকাশ-পাতাল এক করে দেবে
আপনার হাসির জন্য।
কারণ পুরুষকে বেঁধে রাখার রহস্য
শুধু দেহে নয়—
তার হৃদয়ে, তার মগজে শান্তি দেওয়ায়।
এখন প্রশ্ন একটাই—
আপনি কি থাকবেন কেবল“বউ”,
নাকি হয়ে উঠবেন সেই নারী—
যাকে ছাড়া তার পৃথিবী অচল?