শীলা ভেবেছিল,
আমি ওর প্রেমে পড়েছি
অথবা পড়ব।
কিংবা ওকে ভালোবাসি,
না হয় ভালোবাসব।
শীলার দুধে-আলতা গা,
মাথায় ঘন কালো চুল,
চোখ কথা বলে,
বিশ্বজয়ের আত্মবিশ্বাস
সারা শরীরজুড়ে।
নীলার শ্যামবর্ণের গায়ে,
মুখে, চোখে
কেবল হারানোর ভয়।
কী হারানোর ভয় তোমার?
জানতে চেয়েছিলাম।
বলল, তোমাকে।
কৈশোর যায় যায়,
যৌবন আসি আসি করা আমি—
আমাকেও হারানোর ভয় করে কেউ,
ভেবে দিশেহারা!
শীলা তো কখনো বলেনি এমন করে।
নাকি ভেবেই নিয়েছে,
এটা কেবল তারই প্রাপ্য?
সৈয়দ সাহেবের প্রেমের উপাখ্যান
‘শবনম’ সদ্য শেষ করেছি।
তারই মতো করে বললাম
নীলাকে,
খেতে দেবে কি,
তোমার হাসির টোলে রেখে
আঙ্গুরের সুরা?
নীলা ওর কথা রেখেছিল।
এক জীবনে একটা পুরুষ
যা কিছু চায় একটা নারীর কাছে,
নীলা তার দিয়েছিল সবই।
এক বিন্দু কার্পণ্য করেনি।
আমিও করিনি দ্বিধা,
প্রতিটি বইয়ের রয়্যালটি দিতে তাকে।
তবে কেন চমকে গেলাম
হঠাৎ শুনে শীলার কণ্ঠে—
“কবিতাগুলো কেন উৎসর্গ করনি নীলাকে?”