Post

আজাইরা কথা ৩

September 16, 2026

15
View

একটু বাংলাবাজার গেছিলাম।
দেখি আর একটা বই আপনাদের উপহার দেয়া যায় কিনা। তৈরি থাকবেন।

যাইহোক, ব্যাপার এটা না।
অন্য একটা জিনিস মাথায় ঘুরতেছে। এই ধরেন, আমরা এক এক সময় এক এক চরিত্রে জীবন চালাচ্ছি। কখনো ছেলে, কখনো স্বামী, কখনো বাবা বা কখনো চিনি বাবা।
শুধু পুরুষদের চরিত্রের কথা বলেছি বলে আবার আমাকে পুরুষবাদী মনে করবেন না। একি ভাবে মেয়েরাও তাঁদের জীবন অনেক চরিত্র দিয়েই চালাচ্ছে।
ঠিক এই ভাবে ছেলেদের দুটা চরিত্র হল জামাই মানে মেয়ের জামাই আর দুলাভাই। আমি জীবনে এই দুটো চরিত্রে খুবই দুর্বল অভিনয় করে যাচ্ছি। আর আজকের পড়ে তো নিজেকে খুজেই পাচ্ছি না। FOMO তে ভোগা শুরু করেছি।

কেন? বলছি…
বাংলাবাজার আমি বাসে গেছি, বাসেই আসছি। আসার সময় রাইসা বাজার থেকে আজমেরিতে উঠলাম। সেখান থেকে বা তার একটু পর থেকে একলোক উঠলো। আমার পিছনের সিটে বসলো। এবং পুরো বাসে, বিশেষ করে এলিভেটে ওঠার আগ পর্যন্ত উনি গুষ্ঠির সবার সাথে ফোনে কথা বলে গেলেন। দাঁড়ান, দাঁড়ান, আমাকে জাজ করতে আসবেন না। উনি এতো জোরে জোরে কথা বলছিলেন, ড্রাইভার পর্যন্ত হয়তো শুনতে পেয়েছে। কিন্তু ড্রাইভার গাড়ি চালাতে ব্যস্ত ছিল তাই হয়তো বুঝতে পারেনি, আমি পেরেছি।
যাইহোক, এর মাঝে দুবার ভাবির সাথে ঝগড়াও হয়ে গেলো। এরপরে উনি একজনের সাথে কথা বলা শুরু করলেন। আম্মা, আম্মা বলছিলেন, প্রথমে ভাবলাম হয়তো মা, পড়ে বুঝলাম, উনি মা-ই, কিন্তু ওনার না, ওনার বউয়ের। ওনার শাশুড়ি আর কি। রীতিমত শাশুড়িকে বকা শুরু করলেন উনি, কেন ওনার মেয়েকে, মানে তার শালিকে রাস্তায় বের হতে দিলেন। কেন ওই মেয়ে রাস্তায় আড্ডা দেয়? এর আগে একবার আড্ডার দেবার জন্য, এলাকার পোলাপান নাকি প্রপোজ করছে। ব্লা ব্লা ব্লা…
এরপরে উনি বললেন, দেখেন আম্মা, ওকে বিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেন। আমার কাছে ছেলে আছে। সরকারি চাকরি করে (সঙ্গত কারনে বলছি না), টাকার অভাব নাই, বেতনের বাইরেও অনেক টাকা, জায়গা জমি আছে, বাপের আছে, নিজের তো আছেই। আমার থেকে এক-দুই ইঞ্চি লম্বা, দেখতে আমার মতন সুন্দর হবে। না হলেও সমস্যা নাই। আমি বলছি, আর কোন কথা নাই। ওরে সামলান, এতো দেখা দেখির কিছু নাই। ছেলের ছুটি হলে নিয়ে আসবো, বিয়ে দিয়ে দিবো।

আমি পারি না সিট থেকে উঠে ওনাকে দেখি। কি এমন সুন্দর উনি? নিজেকে মাপকাঠি বানিয়ে ফেলল।
অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে বসে রইলাম। আমি সাধারণত বাস থেকে নেমে আর পিছনে তাকাই না। অতীত পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাই সবসময়। কিন্তু আজ আমি বাস থেকে নেমেই ঘুরে দাঁড়ালাম, সুন্দর ভাইকে দেখবো বলে।
ভাই যদি মাপকাঠিতে ফেলার মতন সুন্দর হত আমি আজ এই পোস্ট লিখতাম না। বাকিটা আপনারা যা ভালো মনে করেন।

আর একটা দুঃখ খোঁচা দিলো, না পারলাম এমন গামাই হতে, না পারলাম এমন দুলাগাই হতে। ব্যর্থ হ্যাশট্যাগ…

আর সবাই আমার দ্বিতীয় বইয়ের জন্য তৈরি হয়ে থাকেন।

Comments

    Please login to post comment. Login