দুটা পাখি কিনেছিলাম নেত্রীর আবদারে। তার জন্মদিনের উপহার। আমি এমনিতে খাঁচায় বন্দী পাখি বা পশু অথবা একুরিয়ামে মাছ পালা পছন্দ করি না। বন্দী দেখতে ভালো লাগে না। পাখি একটা ছিল নীল সাদা মিলানো আর একটা হলুদ। নীলটা ছেলে, হলুদটা মেয়ে।
কেনার সময় এরা যে খাঁচায় ছিল তখন একটা পাখিকে আমি দেখেছি একটু পায়ে সমস্যা। আর দোকানদার আমার বেখায়ালিতে সেটাই আমাকে দিয়ে দেয়। আর সেটাই হল নীল পাখিটা।
মেয়ের শখ, তাই কেনা। খাঁচার দরজা খুলে মাঝে মাঝে সে ধরে। আমি বাসায় আসলে ফ্যান বন্ধ করে, জানালা বন্ধ করে, খাঁচার দরজা খুলে বের করে দেই। ওরা উড়ে বেড়ায়। কিন্তু নীলটা খুব ক্লান্ত হয়ে যায় উড়তে উড়তে। দেখা যায় উড়ে কম বিশ্রাম নেয় বেশী। আর এদিকে হলুদটাকে ধরাই যায় না। অনেক দুষ্ট।
কিন্তু গতকাল (১৮/০৯/২০২৬) আমার নেত্রী একটা ভুল করে বসে। যদিও এটা সে আগেও করেছে, আমরাও নিষেধ করেছি। কিন্তু সে শুনত না।
বারান্দায় খাঁচা, সে তার প্রতিদিনকার দুষ্টমির খাতিরে খাঁচার দরজা খুলে হাত ঢুকিয়ে দেয়। আর সেই ফাঁকে পাখি উড়ে যায়। কিন্তু উড়ে যায় নীলটা।
আমি তখন বাথরুমে, জুম্মার আগে গোসলের জন্য ঢুকেছি। মেয়ে এসে কান্না করতে করতে দরজায় ধাক্কা, বাবা ওহ বাবা তাড়াতাড়ি আসো।
এমন ডাক আমি আগে শুনিনি। ভয় পেয়ে গেলাম। দরজার খোলার আগে জিজ্ঞেস করলাম, কি হইছে মা?
সে কান্না করতে করতে বলল, বাবা নীলটা উড়ে গেছে।
তাড়াতাড়ি বের হলাম, মেয়ে দেখিয়ে দিলো কোন দিন থেকে বাইরে গেছে। দৌড়ে নিচে নামলাম, এই আশায় যেহেতু নীলটা একটু কম উড়তে পারে। হাঁপিয়ে যায়, হয়তো কোথায় পড়ে থাকবে। কিন্তু পেলাম না। যা পেলাম, বাড়ির পাশের বড় একটা ডোবার মতন, সেখানে দুতিনটা বেজি ঘুরছে। রাস্তায় রাস্তায় বিড়াল ঘুরছে। পাখিটা নিচে পড়লে এদের কারো পেটে যাবে। উড়তে তো খুব একটা পারে না। কোথায় গিয়ে পড়ে থাকবে।
এসব ভেবে আমাদের তিনজনেরই মন খারাপ। এটা লিখতে লিখতে আমার খারাপ লাগছে।
এদিকে আমাদের হাল্কা বকা শুনে মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে কাল বলল, আমি একটা শয়তান। কেন তোমাদের কথা শুনলাম না?
এই কষ্টের মাঝেও আমরা স্বামী স্ত্রী হেসে উঠলাম।
যাইহোক, আপাতত আমাদের বাসায় শোকের বাতাস বইছে।
সবাই দোয়া করবেন।