Article

A Dead Djinn in Cairo (Book Review)

September 19, 2026

6
View

গল্প পড়ে বা সিনেমা দেখে তার স্বপ্নে দেখাটা স্বাভাবিক। অনেকেই দেখে, আমিও দেখি। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে আমার স্বপ্ন গুলোতে আমি দর্শক হিসেবে থাকি। মানে ধরেন একটা বই পড়ছি, তার সাথে সম্পর্কিত কোন স্বপ্ন দেখলাম, স্বপ্নের মধ্যে হয়তো আমি চুপচাপ বসে দেখছি কি হচ্ছে। আমি সেখানে কোন কিছুতে জড়িত না।

কিন্তু এই বইটা পড়ে স্বপ্নের মধ্যে আমি কাহিনির সাথে জড়িয়ে গেলাম। শুধু আমি না, বইয়ের চরিত্র, আমার বউ, বাচ্চা সবাই। মুরুব্বীরা বলে স্বপ্ন বলা নিষেধ, তাই বললাম না। তবে স্বপ্ন দেখে আমি যে ভয় পেয়েছি, কাঁপতে কাঁপতে উঠেছি, উঠে গলায় আমার অনেক ব্যাথা অনুভব করেছি, এটা বলা যায়।

যাইহোক, আমি “A Dead Djinn in Cairo” বইয়ের কথা বলছি। এই বইটা আর একটা জিনিস প্রমাণ করেছে, সেটা হল “ছোট মরিচে ঝাল বেশী”।

হয়তো বইটা পড়ার আগে এর রিভিউ দেখে একটু বেশী উত্তেজিত ছিলাম। তাই পড়ে উল্টাপাল্টা স্বপ্ন দেখেছি। এবার একটু রিভিউ দেয়া যায় কিনা দেখি…

বইয়ের নামঃ A Dead Djinn in Cairo

লেখক: P. Djèlí Clark

জনরা: Supernatural Horror

চলুন শুরু করা যাক, lets go….

“A Dead Djinn in Cairo” খুব ছোট্ট একটা গল্প। এটি P. Djèlí Clark-এর একটি জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি/মিস্ট্রি নভেলা। এক বসাতেই শেষ করা যাবে।

কাহিনী সংক্ষেপঃ

১৯১২ সালের কায়রো। এমন এক বিকল্প পৃথিবী, যেখানে জিনরা মানুষের পৃথিবীতে ফিরে এসেছে এবং মানুষ ও অতিপ্রাকৃত প্রাণীদের সহাবস্থান তৈরি হয়েছে।

গল্পের শুরুতেই এক জিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সাধারণ কোনো মৃত্যু নয়, তার নিজের বাসস্থানের ভেতরেই তাকে খুন করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব পড়ে Fatma el-Sha'arawi এর ওপর, যিনি Ministry of Alchemy, Enchantments and Supernatural Entities এর একজন তদন্তকারী।

ফাতমা তদন্ত করতে গিয়ে বুঝতে পারে, মৃত জিনটির মৃত্যু আসলে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি রহস্যময় গোষ্ঠী, প্রাচীন বিশ্বাস এবং এমন এক বিপজ্জনক পরিকল্পনা, যা শুধু কায়রো নয়, পুরো পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গল্প যত এগোয়, ততই সামনে আসে জিন, দেবতা, পুরনো ধর্মীয় বিশ্বাস, গুপ্ত সংগঠন এবং মানুষের তৈরি ক্ষমতার রাজনীতির অদ্ভুত এক মিশ্রণ।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, Clark এখানে কায়রোকে শুধু গল্পের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেননি। শহরটাই যেন গল্পের আরেকটি চরিত্র। পুরনো কায়রোর গলি, পোশাক, স্থাপত্য, জাদু আর আধুনিক প্রযুক্তির অদ্ভুত সহাবস্থান গল্পটাকে আলাদা একটা atmosphere দিয়েছে।

আর Fatma চরিত্রটাও বেশ আকর্ষণীয়। সে শুধু রহস্যের সমাধান করতে থাকা একজন detective নয়। তার ব্যক্তিত্ব, পোশাক, বুদ্ধিমত্তা এবং supernatural জগতের সঙ্গে তার সম্পর্ক গল্পটাকে অনেক বেশি জীবন্ত করেছে।

আমার কাছে গল্পটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর world-building।

এটা নিছক "একটা মৃত জিনের খুনের তদন্ত" নয়। গল্পটা পড়তে পড়তে মনে হয়, লেখক যেন আমাদের এমন একটি কায়রোর দরজা খুলে দিয়েছেন, যেখানে ইতিহাসটা আমাদের পরিচিত, কিন্তু সেই ইতিহাসের ভেতর দিয়ে পৃথিবীটা সম্পূর্ণ অন্য পথে এগিয়েছে।

শেষদিকে mystery যখন বড় আকার নিতে শুরু করে, তখন গল্পটা detective mystery থেকে ধীরে ধীরে supernatural adventure-এর দিকে চলে যায়।

আমার অনুভূতিঃ

আমি সাধারণত রাতে পড়ি। মানে বিছানায় শুয়ে ঘুমের আগে। প্রথম দিন শুরুর কয়েক পেজ পড়লাম। দ্বিতীয় দিন অনেক টুকু পড়লাম আর ওইদিনই আমি স্বপ্নে ঢুকে ভয় পেলাম। সকালে উঠে বউকে বললাম, এই বইটা রাতে পড়া যাবে না। আমি আজকে দিনের মধ্যে শেষ করবো। তাই করলাম। রাতে পড়া যাবে না। তবে ছোট গল্প তো, আবার পড়বো এক সময়। গল্পটা আরো একটু বড় হলে জমে ক্ষীর হয়ে যেতো।

ধন্যবাদ, আবার আসবেন, বইয়ের সাথে থাকবেন।

Comments

    Please login to post comment. Login