একটি দৃশ্য দিয়ে শুরু করি
কল্পনা করুন একটি হাসপাতালের বেড। মেশিনের একটানা শব্দ। চারপাশে প্রিয়জনদের ভিড়, কারো চোখে পানি, কারো ঠোঁটে নিঃশব্দ দোয়া। বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটি এখন আর কথা বলতে পারছেন না, কিন্তু তাঁর চোখ দুটো খোলা — যেন শেষবারের মতো এই দুনিয়াটাকে দেখে নিচ্ছেন। এই মুহূর্তে তাঁর ব্যাংক ব্যালেন্স, তাঁর পদবি, তাঁর সামাজিক পরিচয় — কোনো কিছুই তাঁর সাথে যাচ্ছে না। যাচ্ছে শুধু একটি জিনিস — তাঁর ঈমান আর তাঁর আমল।
এই দৃশ্যটি একদিন আমাদের প্রত্যেকের জীবনেও আসবে। প্রশ্ন হলো, সেদিন যদি আজই চলে আসে, আমরা কি প্রস্তুত? আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — আমরা যাকে 'ইসলাম' বলে দাবি করছি, তা কি সত্যিই আমাদের অন্তরে ও কর্মে প্রতিফলিত হচ্ছে?
দাবি এবং বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব
আমরা অনেকেই জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কুরআনে এমন এক দলের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা মুখে ঈমানের দাবি করেছিল অথচ তাদের অন্তর তা থেকে দূরে ছিল।
মরুবাসীরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বলে দাও, তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বলো, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি। এখনো ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।— সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৪
এই আয়াতটি আমাদের জন্য একটি আয়না। প্রশ্ন হলো — আমার ঈমান কি শুধু জিহ্বার স্বীকৃতি, নাকি তা অন্তরে গেঁথে গিয়ে আমার সিদ্ধান্ত, আমার সময় ব্যয়, আমার লেনদেন — সবকিছুতে প্রকাশ পাচ্ছে?
নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করা দরকার
নিচের প্রশ্নগুলো তাড়াহুড়ো করে পড়ে যাবেন না। প্রতিটি প্রশ্নের পর কিছুক্ষণ থামুন, নিজের অন্তরের সাথে কথা বলুন।
• আমি কি আল্লাহকে ভয় করি শুধু বিপদে পড়লে, নাকি প্রতিটি সিদ্ধান্তে?
• নামাজে দাঁড়িয়ে আমার মন কোথায় থাকে — আল্লাহর সামনে, নাকি দুনিয়ার হিসেবে?
• হারাম উপার্জন বা লেনদেনের সুযোগ এলে আমি কীসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিই?
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
শুধু মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া বা নামের সাথে ইসলামি পরিচয় থাকা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত ঈমান পরীক্ষিত হয় অন্তরের বিশ্বাস ও কর্মের মাধ্যমে। পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা দেখব, রাসুলুল্লাহ ও সাহাবাদের আদর্শের সাথে তুলনা করলে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।
মুহাসাবার মুহূর্ত (আত্মসমালোচনা)
আজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একা কিছুক্ষণ সময় বের করুন। উপরের তিনটি প্রশ্নের উত্তর নিজের মুখে উচ্চারণ না করে শুধু অন্তরে অনুভব করুন। কোনো উত্তরে যদি কষ্ট লাগে, জেনে রাখুন — সেটাই তওবার শুরুর জায়গা।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আমার লেখুনিতে কোন অসংগতি এবং পরামর্শ থাকলে অবশ্যই মন্তব্যে প্রকাশ করলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকিব।