Poetry

অনাহূত

September 21, 2026

54 views

চৌদ্দটি বছর আমি মানুষ ছিলাম না,
রড-সিমেন্টের শক্ত খুঁটি ছিলাম।
যেখানে আবেগ, শখ ও ইচ্ছে নামের কোনো কোষ নেই।
বাবার নুয়েপড়া কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে
ঘরটাকে ধরে রেখেছি শক্তভাবে,
যেন মধ্যবিত্তের ঝোড়ো হাওয়ায় কেঁপে না ওঠে।

নিজের স্বপ্নগুলোকে পিষে
তৈরি করেছিলাম ঘরের ভিত,
শখগুলো বিসর্জন দিয়েছিলাম
প্রতিদিনের বাজারের থলিতে।
বাবার সাথে যে সন্তান লড়াই করে গেছে,
তার বুকপকেটে জমা রক্তিম ক্লান্তি কেউ দেখেনি।

আজ সবাই নিজের ডানা বুঝে পেয়েছে,
উড়তে শিখে গেছে স্বাবলম্বিতার আকাশে।
বাবাও ওপারে চলে গেছেন ঘানি টেনে টেনে।
যে ঘর আমি রক্ত দিয়ে সিঞ্চন করেছিলাম,
সেই ঘরেই আজ আমার নাম—আগাছা।

আমার ভাঙাবুকে একটুকরো আশ্রয়ের তৃষ্ণা,
আমার পাঁচ মাসের কচি চারামানবের জন্য
বড্ড বেশি ঘর প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু যে উঠোন আমি পরিষ্কার রেখেছি চৌদ্দ বছর,
সেই উঠোনেই আমার ছোট্ট নিষ্পাপ ফুলটি
আমার মতোই সমান অবহেলিত, অনাহূত।

জীবনের শূন্য থলির দিকে তাকিয়ে ভাবি—
যে মাটি উর্বর করতে সঁপে দিয়েছি সব,
সে মাটি আমার রক্তজবা চারাগাছকেও
বড্ড পর করে দিলো ভীষণ অবহেলায়।

Picked up where you left off

Comments

তারিক হোসেন was this story’s first reader

+40 XP

    Please login to post comment. Login

  • তারিক হোসেন 3 weeks ago First reader

    আসলেই মানুষ হওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। সবাই মানুষ হতে পারে না। শুভকামনা।