Biography
নিজেকে এখনো লেখক বলতে পারি না। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার প্রথম এবং একমাত্র বই প্রকাশিত হয় আমার ৪০ বছর বয়সে। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করছিল যে ৪০ বছর বয়সে থ্রিলার লেখকরা কেমন ছিলেন। পড়েছি, জেনেছি এবং জানাতে চাচ্ছি। ১০ জন লেখক এলোমেলো ভাবে বাছাই করেছি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী চেষ্টা করবো তুলে ধরতে।
সিরিজের নাম দিলাম “৪০ এ প্রথম বই”…
#পর্ব_৫
*******
ই. এল. ডক্টরো: ইতিহাসের অন্ধকারে মানুষের গল্প খুঁজে পাওয়া এক কথাশিল্পী
Edgar Lawrence Doctorow (1931-2015)
ই. এল. ডক্টরো নামটি শুনলে প্রথমেই যে বিষয়টি মনে আসে, তা হলো ইতিহাস। কিন্তু তাঁর ইতিহাস কখনো শুধু তারিখ, যুদ্ধ, রাজনীতি কিংবা বিখ্যাত মানুষের কাহিনি নয়। তাঁর কাছে ইতিহাস ছিল মানুষের গোপন ভয়, অপরাধ, আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং বেঁচে থাকার গল্প। তিনি এমনভাবে ইতিহাসকে উপন্যাসে নিয়ে এসেছেন, যেখানে সত্যিকার মানুষ ও কাল্পনিক চরিত্র পাশাপাশি হাঁটে, আর পাঠক ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্য হয়তো ইতিহাসের ঘটনাগুলো নয়, বরং সেই ঘটনাগুলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা মানুষগুলো।
ই. এল. ডক্টরোর পুরো নাম Edgar Lawrence Doctorow। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ৬ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে। তাঁর পরিবার ছিল রুশ-ইহুদি বংশোদ্ভূত। বাবা ডেভিড ডক্টরো একটি মিউজিক স্টোর চালাতেন এবং মা রোজ ছিলেন পিয়ানোবাদক। তাঁর নামের Edgar অংশটি রাখা হয়েছিল বিখ্যাত লেখক Edgar Allan Poe-এর নাম থেকে। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তাঁর অস্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল। পরে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলায় হাতে যা পেতেন তাই পড়তেন। কিন্তু একসময় শুধু গল্পের পরিণতি জানার কৌতূহল তাঁর মধ্যে থাকল না, তিনি ভাবতে শুরু করলেন, একজন লেখক কীভাবে শব্দ দিয়ে পাঠককে একটি জগতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন? এই প্রশ্নটিই শেষ পর্যন্ত তাঁকে লেখক বানায়।
ব্রঙ্কসের পরিবেশ তাঁর কল্পনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরে তাঁর অনেক লেখায় নিউইয়র্কের পুরোনো শহর, অভিবাসী পরিবার, দরিদ্র মানুষ, অপরাধী জগত, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং আমেরিকার সামাজিক রূপান্তরের ছায়া দেখা যায়। তিনি Bronx High School of Science-এ পড়াশোনা করেন এবং পরে Kenyon College-এ ভর্তি হন। সেখানে তিনি দর্শন ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং বিখ্যাত শিক্ষক ও কবি John Crowe Ransom-এর প্রভাব পান। কলেজে থাকতেই থিয়েটারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর তিনি Columbia University-তে উচ্চতর পড়াশোনা করেন।
কিন্তু লেখক হওয়ার আগে ডক্টরোর জীবন ছিল একেবারেই অন্যরকম। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন এবং জার্মানিতে অবস্থান করেন। সেনাবাহিনী থেকে ফিরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে story reader হিসেবে কাজ করেন। অর্থাৎ বিভিন্ন গল্প ও চিত্রনাট্য পড়ে সেগুলোর সম্ভাবনা বিচার করা ছিল তাঁর কাজ। এই কাজটি তাঁর লেখকজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এখানে তিনি অসংখ্য গল্পের গঠন, চরিত্র, রহস্য, সংঘাত এবং ব্যর্থতার কারণ খুব কাছ থেকে দেখতে পান।
এরপর তিনি প্রকাশনা জগতে প্রবেশ করেন। New American Library-তে সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর হাতে এসেছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ লেখকের লেখা। তিনি Ian Fleming এবং Ayn Rand-এর মতো লেখকদের বই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি Dial Press-এর editor-in-chief হন। সেখানে James Baldwin এবং Norman Mailer-এর মতো লেখকদের বই প্রকাশের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা ছিল। অর্থাৎ নিজের প্রথম উপন্যাস লেখার আগেই তিনি আমেরিকার সাহিত্যজগতের ভেতরের একটি বড় অংশ খুব কাছ থেকে দেখে ফেলেছিলেন।
অবশেষে ১৯৬৯ সালে ডক্টরো প্রকাশনা জগতের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি লেখালেখিতে চলে আসেন। তখন তাঁর বয়স প্রায় আটত্রিশ। এই সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। একজন প্রতিষ্ঠিত সম্পাদক হিসেবে তাঁর নিরাপদ পেশা ছিল, কিন্তু তিনি বুঝেছিলেন, অন্যের বই সম্পাদনা করে জীবন কাটানোর বদলে তাঁকে নিজের গল্প বলতে হবে। এখানেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোর একটি।
তবে তাঁর লেখকজীবন শুরু হয়েছিল আরও আগে।
১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস Welcome to Hard Times। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৯। বইটি দেখতে পুরোনো আমেরিকান পশ্চিমাঞ্চলের একটি Western গল্পের মতো হলেও ভেতরে ছিল মানুষের নিষ্ঠুরতা, ক্ষমতা, ভয় এবং সভ্যতার মুখোশ খুলে যাওয়ার গল্প। একজন অপরাধী কীভাবে একটি ছোট জনপদকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলতে পারে এবং সেই আতঙ্কের পর মানুষের চরিত্র কীভাবে বদলে যায়, সেটিই ছিল বইটির অন্যতম শক্তি।
প্রথম বই থেকেই বোঝা যায়, ডক্টরো প্রচলিত অর্থে শুধু গল্প বলতে চাননি। তিনি গল্পের ভেতর দিয়ে একটি সময়কে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে একজন খুনি শুধু খুনি নয়, সে একটি সমাজের আয়না। একটি শহর শুধু শহর নয়, সেটি একটি সময়ের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি।
এরপর ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় Big as Life। কিন্তু তাঁর লেখকজীবনের বড় পরিবর্তন আসে The Book of Daniel প্রকাশের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের এই উপন্যাসে তিনি বিংশ শতাব্দীর আমেরিকার একটি অত্যন্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি নির্মাণ করেন। বাস্তব ঘটনার ছায়া থাকলেও তিনি সরাসরি ইতিহাসের বই লেখেননি। বরং কাল্পনিক চরিত্র Daniel Isaacson-এর চোখ দিয়ে সেই সময়ের ভয়, সন্দেহ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ব্যক্তিগত ক্ষতকে দেখিয়েছেন।
এই জায়গাটিই ডক্টরোর লেখার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। তিনি ইতিহাসকে কপি করেন না। তিনি ইতিহাসের ফাঁকা জায়গাগুলোতে কল্পনার আলো ফেলেন।
এরপর আসে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বইগুলোর একটি, Ragtime।
১৯৭৫ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে বিংশ শতাব্দীর শুরুর আমেরিকাকে এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, যেখানে বাস্তব ঐতিহাসিক চরিত্র এবং কাল্পনিক চরিত্র একই গল্পে পাশাপাশি উপস্থিত। Harry Houdini, Henry Ford, J. P. Morgan-এর মতো বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে কাল্পনিক মানুষদের জীবন জড়িয়ে যায়। ফলে পাঠকের সামনে এমন একটি পৃথিবী তৈরি হয় যেখানে ইতিহাস আর কল্পকাহিনির সীমারেখা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যায়।
Ragtime তাঁকে National Book Critics Circle Award এনে দেয় এবং পরবর্তীতে এটি চলচ্চিত্র ও মঞ্চেও রূপান্তরিত হয়। Library of Congress তাঁর লেখাকে এমন এক ধরনের বিশাল আমেরিকান ক্যানভাস হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে প্রতিটি বই যেন একটি আলাদা সময় ও পৃথিবীকে জীবন্ত করে তোলে।
এরপর ১৯৮৫ সালে আসে World's Fair। এটি তাঁর নিজের শৈশবের নিউইয়র্ক এবং ১৯৩৯ সালের World's Fair-এর আবহ থেকে নির্মিত। বইটি তাঁকে National Book Award এনে দেয়। এখানেও তিনি বিশাল কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চেয়ে একটি শিশুর চোখ দিয়ে একটি সময়কে দেখেছেন। কিন্তু সেই শিশুর চোখ দিয়েই পাঠক দেখতে পায় একটি বদলে যাওয়া আমেরিকাকে।
১৯৮৯ সালে প্রকাশিত Billy Bathgate-এ ডক্টরো আরও স্পষ্টভাবে অপরাধজগতের দিকে এগিয়ে যান। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র Billy একজন কিশোর, যে নিউইয়র্কের বিখ্যাত gangster Dutch Schultz-এর জগতের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এখানেই ডক্টরোর লেখার thriller-ধর্মী শক্তি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
Billy শুধু একজন gang member-এর গল্পের মধ্যে ঢোকে না। সে ঢুকে পড়ে অপরাধ, ক্ষমতা, ভয়, অর্থ এবং বিশ্বাসঘাতকতার এক অন্ধকার পৃথিবীতে। সে যত বেশি সেই জগতের কাছাকাছি যায়, তত বেশি বুঝতে পারে, সেখানে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না।
এই বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর narrative tension। পাঠক শুধু জানতে চায় না, এরপর কী হবে? বরং জানতে চায়, কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? কেন এই মানুষটি এমন হয়ে উঠল? শেষ পর্যন্ত কে কাকে ব্যবহার করছে?
এই ধরনের suspense ডক্টরোর লেখার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। তিনি অনেক সময় ফলাফল বা বিপদের আভাস আগে দিয়ে দেন, তারপর ধীরে ধীরে পাঠককে সেই বিপদের দিকে নিয়ে যান। ফলে suspense তৈরি হয় শুধু তথ্য লুকিয়ে রেখে নয়, বরং পাঠককে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে একটি ঘটনার ভেতরে আটকে রেখে।
Billy Bathgate তাঁকে PEN/Faulkner Award এনে দেয় এবং বইটি পরবর্তীতে চলচ্চিত্রেও রূপান্তরিত হয়।
এরপর আসে The Waterworks। ১৯৯৪ সালের এই উপন্যাসটি ডক্টরোর thriller-ধর্মী লেখাগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উনিশ শতকের নিউইয়র্ককে পটভূমি করে একজন সাংবাদিক একটি অদ্ভুত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধান করতে থাকে। মৃত মানুষ, অস্বাভাবিক চিকিৎসা-পরীক্ষা, ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের গোপন পরিকল্পনা এবং মৃত্যুকে পরাজিত করার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে গল্পটিকে একটি historical mystery-এর আবহ দেয়।
এখানে ডক্টরোর একটি বিশেষ ক্ষমতা দেখা যায়। তিনি পুরোনো একটি শহরকে এমনভাবে লেখেন, যেন শহরটির নিজেরই কোনো গোপন রহস্য আছে। রাস্তা, নদী, পুরোনো বাড়ি, হাসপাতাল, কবরস্থান এবং মানুষের স্মৃতি সবকিছু মিলে একটি অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করে।
ডক্টরো কি Thriller লেখক?
প্রচলিত অর্থে না। তাঁকে Stephen King, John le Carré, Dan Brown কিংবা Agatha Christie-র মতো conventional thriller writer বলা ঠিক হবে না।
কিন্তু তাঁর বহু উপন্যাসে thriller-এর অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান রয়েছে।
তাঁর suspense সাধারণত তিনটি জায়গা থেকে আসে।
প্রথমত, তথ্য নিয়ন্ত্রণ। পাঠক সবকিছু একসঙ্গে জানতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, ইতিহাসের অন্ধকার জায়গা। বাস্তব কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি, তার বাইরেও অনেক কিছু অজানা থাকে। ডক্টরো সেই অজানা জায়গাটিকে কল্পনার জন্য ব্যবহার করেন।
তৃতীয়ত, মানুষের গোপন উদ্দেশ্য। তাঁর চরিত্ররা যা বলে, তারা সবসময় তা করে না। তাদের অতীত, ভয়, লোভ, অপরাধবোধ কিংবা ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় গল্পের প্রকৃত রহস্য হয়ে ওঠে।
এই কারণেই তাঁর thriller অনেক সময় “কে খুন করল?” ধরনের mystery নয়। বরং প্রশ্নটা হয়, “কেন মানুষটি এমন করল?”, “এই ঘটনাটির পেছনে আসলে কী ছিল?”, অথবা “ইতিহাস আমাদের যে গল্প বলেছে, তার আড়ালে আরেকটি গল্প কি ছিল?”
আর এখানেই ডক্টরোর লেখার সবচেয়ে বড় শিক্ষা একজন thriller লেখকের জন্য।
তিনি নিজেই গল্প সম্পর্কে বলেছিলেন, গল্প মানুষের জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যমগুলোর একটি। তাঁর কাছে fiction শুধু বিনোদন নয়, মানুষের পৃথিবীকে বোঝার একটি পদ্ধতি।
তাঁর লেখায় তাই ইতিহাস, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, অপরাধ, বিজ্ঞান, যুদ্ধ এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবন একসঙ্গে মিশে যায়। একজন লেখক শুধু একটি vocabulary-র মধ্যে আটকে থাকবে না, প্রয়োজন হলে সে ইতিহাসবিদের মতো গবেষণা করবে, সাংবাদিকের মতো তথ্য খুঁজবে, মনোবিজ্ঞানীর মতো চরিত্রকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং thriller লেখকের মতো তথ্যের সঠিক মুহূর্তে প্রকাশ করবে। ডক্টরোর নিজের লেখক-দর্শনের মধ্যেও এই বহুমাত্রিকতা স্পষ্ট।
তাঁর পরবর্তী উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে The March, যেখানে American Civil War-এর সময় General William Tecumseh Sherman-এর অভিযানকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মানুষের জীবন একসঙ্গে এগিয়ে যায়। বইটি National Book Critics Circle Award এবং PEN/Faulkner Award লাভ করে। তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে Loon Lake, City of God, Homer & Langley এবং Andrew's Brain।
ডক্টরো তাঁর দীর্ঘ লেখকজীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। National Book Award, National Book Critics Circle Award এবং PEN/Faulkner Award-এর পাশাপাশি তিনি ১৯৯৮ সালে National Humanities Medal পান। ২০১২ সালে New York Writers Hall of Fame-এ অন্তর্ভুক্ত হন, ২০১৩ সালে National Book Foundation-এর Medal for Distinguished Contribution to American Letters পান এবং ২০১৪ সালে লাভ করেন Library of Congress Prize for American Fiction।
একজন লেখক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত ছিল সময়কে জীবন্ত করে তোলা। তিনি এমন একটি সময়কে লিখতে পারতেন, যে সময় তিনি নিজে দেখেননি। পুরোনো নিউইয়র্ক, gangster-এর পৃথিবী, Civil War, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কিংবা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজ, সবকিছু তিনি গবেষণা করে শুধু তথ্য হিসেবে ব্যবহার করেননি। তিনি সেই সময়ের মানুষের ভয়, গন্ধ, শব্দ, ভাষা এবং মানসিকতা কল্পনা করে একটি জীবন্ত পৃথিবী তৈরি করেছেন।
২১ জুলাই ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ৮৪ বছর বয়সে E. L. Doctorow মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর Library of Congress তাঁকে আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কথাশিল্পী হিসেবে স্মরণ করে এবং তাঁর অর্ধশতাব্দীরও বেশি দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের কথা উল্লেখ করে।
কিন্তু ডক্টরোর সবচেয়ে মূল্যবান উত্তরাধিকার তাঁর বইয়ের তালিকা নয়। বরং একজন লেখক কীভাবে পৃথিবীকে দেখবেন, সেই দৃষ্টিভঙ্গি।
শৈশবে তিনি গল্প পড়তেন এই জানার জন্য যে এরপর কী হবে। পরে তিনি আরও একটি প্রশ্ন করতে শিখলেন, “এটা কীভাবে লেখা হলো?”
এই দ্বিতীয় প্রশ্নটাই একজন পাঠককে লেখকে পরিণত করে।
আর thriller লেখকের জন্য ডক্টরোর কাছ থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে আরও একটি বিষয়: রহস্য সবসময় অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে থাকে না। অনেক সময় রহস্য লুকিয়ে থাকে ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত ঘটনাটির মধ্যেই।
একটি পুরোনো রাজনৈতিক মামলা, একটি হারিয়ে যাওয়া মানুষ, একটি মৃত gangster, একটি পুরোনো শহর, একটি যুদ্ধ, একটি পরিবারের গোপন ইতিহাস কিংবা একটি ভুলে যাওয়া অপরাধ। এগুলোর প্রতিটির ভেতরেই একটি thriller লুকিয়ে থাকতে পারে। লেখকের কাজ শুধু সেটিকে খুঁজে বের করা নয়, বরং এমনভাবে বলা, যাতে পাঠক ইতিহাস পড়তে পড়তে হঠাৎ বুঝতে পারেন, তিনি আসলে একটি রহস্যের ভেতর ঢুকে গেছেন।
এটাই E. L. Doctorow-এর লেখার সবচেয়ে বড় thriller lesson।
তাঁর বইয়ে suspense অনেক সময় বন্দুকের শব্দে আসে না। আসে অজানা সত্যের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি থেকে।
এবং সেই জায়গাটিই তাঁকে একজন thriller-minded লেখকের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
সম্পাদনা-নোট: E. L. Doctorow-এর প্রথম উপন্যাস Welcome to Hard Times প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। তাঁর প্রচলিত অর্থের thriller নয়, তবে Billy Bathgate ও The Waterworks-এ crime, mystery, suspense ও psychological tension-এর শক্তিশালী ব্যবহার দেখা যায়।
Note: Info collected from www-loc-gov