Novel

তুষার কন্যা পর্ব-১

September 26, 2026

11 views

সালটা ১৮৯০ রাজ্যের নাম মায়া নগর তখনকার সময়ের সব চেয়ে শান্তি পূর্ণ রাজ্য বলা হতো এই মায়া নগরকে এই রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা ছিলো খুবই সুন্দর ও নিখুত।

এই রাজ্যে কোন অপরাধী সাহস পেতো না অপরাধ করতে কাকেনা এখান কার অপরাধের শাস্তি ছিলো খুবই ভয়ানক

যেমন :

খুন করলে খুনির চামরা ছুলে নেওয়া হয় এবং সেই চামরা দিয়ে বিভিন্ন পন্যা বানিয়ে বাজারে চরা দামে বিক্রি করা হয়

ধর্ষন করলে সবাই সামনে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে তার গোপন অঙ্গ কেটে সেই কাটা জায়গা দিয়ে গরম রট ঢুকানো হয় যতক্ষণ না সে মারা যায়

এই ধরনের আরো অনেক ভয়ানক শাস্তি ছিলো রাজ্যটিতে ছাড়াও সুযোগ সুবীধা ছিলো রাজ্য বাসিদের জন্য

যেমন :

যাদের শুধু কন্যা সন্তান যাদের বিয়ে দেওয়ার পর তাদের যখন দেখার কেউ থাকে না তখন রাজা প্রতি মাসে তাদের ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করে এছাড়া যাদের কখনো সন্তান হয় না তাদেরকে অনাথ আশ্রম থেকে এক বা একাধিক বাচ্চা দত্তক দেওয়া হয় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে

সব মিলিয়ে মায়া নগর রাজ্যটা ছিলো শান্তির দ্বিতীয় নাম

এই রাজ্যের প্রতিটা মানুষ খুশি কিন্তু একজন খুশি না। আর সে হলো রাজা নিজেই সে খুশি হতে চেয়েও খুশি হতে পারে না কারণ খুশি হওয়ার জন্য একজন মানুষের যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটাই নেই রাজার কাছে আর ঐ জিনিসটা হলো সন্তান। রাজার কোন সন্তান নেই সে চাইলে অনাথ আশ্রম থেকে বাচ্চা নিতে পারতো কিন্তু সে যখন বাচ্চাদের দেখতে যেতো তখন তার চোখে এমন বাচ্চা পড়েনি যে ভবিষ্যতে তার রাজ্যকে তার মতো শাসনে রাখতে পারবে রাজার একটা বিশেষ ক্ষমতা ছিলো সে কাউকে দেখলে বুঝে যেতো সে কেমন তার চরিত্র কেমন ঠিক তেমনি সে অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের মধ্যে কাউকে এমনা দেখলো না যে তার রাজ্যকে তার মতো করে সামলাতে পারবে

এইসব কথা বসে বসে ভাবছিলো রাজা এমন সময় রাজার তৃতীয় রাণী তাকে খাওয়ার জন্য ডাকে

রাজা এর আগেও দুইটা বিয়ে করেছিলো নারী লালশার জন্য নয় বরং সন্তানের জন্য তিন তিন বার বিয়ে করার পরেও যখন রাজা দেখলো তার সন্তান হচ্ছে না তখন সে বুঝতে পারে আসলে দোষটা তার। তার জন্যেই সন্তান হয় তার তাই সে তার সব রাণীকেই একসাথে রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু প্রথম দুইজন রাণী ছিলো পাশের রাজ্যের রাজ কন্যা তাই তারা সতীন্যের ঘর করবে না বলে ঠিক করে তাদের বাবার টাকা পয়সার অভাব নেই সারা জীবন বসে খেতে পারবে সে কেন সতীন্যের সংসার করবে কিন্তু ছোট রাণী ছিলো সাধারণ পরিবারের তাই সে থেকে যায় তবে সে রাজাকে কখনো সন্তানের জন্য কোনা প্রকার কথা শুনায় না

রাত ১২ টা বাজে এখন হয়তো এখন রাজ্যের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু রাজা ঘুমায়নি এখনো তার মরে যেতে ইচ্ছে করছে সে আর ঘরে থাকতে পারছে না তাই সে ছাদে চলে গেলো। রাণীও জেগে ছিলো এতক্ষন তবে সেটা রাজা জানে না রাণীও যে তার পিছন পিছন ছাদে গেছে এটাও সে বুঝতে পারেনি রাজা ছাদে পৌঁছে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলে

কি পাপ ছিলো আমার কি দোষ করেছি আমি আমি তো আমার প্রজাদের অত্যাচার করি সব সময় ন্যায়ের কথা বলি ন্যের পথে চলি নয় বিচারো করি রাজ্যের একটা মুনুস বলতে পারবে না তারা সূখী নেই এছাড়া ও অন্যান্য পাপও তো আমি করি না যার জন্য আমি এত বড় শাস্তি পাচ্ছি কি হতো একটা সন্তান থাকলে নাকি আমি ভালো কাজ করি এটা আমার অপরাধ এটা যদি অপরাধ হয় তাহলে আমি আর কারো সাথে ভালো করবে না। খারাপ হলে যদি সূখী হওয়া যায় তাহলে হলাম খারাপ তারপরেরও একটা সন্তান দাও

এই কথাটা বলা মাত্র রাজা হাটু গেরে বসে পড়লো আর চিৎকার করে কান্না শুরু করলো এমন সময় রাজার পিঠে কে যেন হাত রাখলো রাজা মুহূর্তেই বুঝতে পারলো এটা রানীর হাত তাই সে পিছনে ঘুরলো এবং রাণীকে দেখতে পেলো তাকে দেখার সাথে সাথে রাজা রাণীকে জড়িয়ে ধরলো এবং তার কান্নার বেগ দ্বিগুণ হলো

বলো না কি দোষ আমার

রাজার এমন প্রশ্ন শুনে রাণী রাজাকে বলল তোমার কোন দোষ নেই দেখো সৃষ্টি কর্তা যা চাইবে তাই তো হবে বলো আমাদের কথায় তো আর পৃথিবী চলবে না

কি লাভ হলো রানী বলো এত টাকা পয়সা ধন রত্ন এগুলো দিয়ে কি করবো আমি

দেখুন আমি বুঝতে পারছি কিন্তু আপনিও বুঝুন একটু সব সময় আমরা যা চাই তাই পাইনা

রাণী ছিলো খুবই শক্ত ও বুদ্ধি মতি তাই সে সহজে ভেঙে পড়ে না

রাণী রাজার চোখের পানি মুছে দিলো রাজার এবার একটু বিব্রত বোধ করে তার রাণী নারী হয়েও কি শান্ত রয়েছে আর সে পুরুষ মানুষ হয়ে কিভাবে কান্না করছে পুরুষদের তো কান্নায় মানায় না কিন্তু সেই বা কি করবে তার তো একটা সন্তান লাগবেই লাগবে নয়তো তার সব কিছু শেষ হয়ে যেবে তার সখের রাজ্য্যা যে ধংশ হয়ে যাবে রাণী কোন না কোন তো রাস্তা আছে বলো কত কবি রাজ তো কত রমনের চিকিৎসা করে আমারাও কোন চিকিৎসা করি বলো

রাজাকে আবার উত্তেজিত দেখে রাণী এবারা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো

দাড়ান একটু আসছি

কোথায় যাও

আহা একটু অপেক্ষা তো করুন

ঠিকাছে

এরপর রাণী নীচে চলে গেলো

প্রায় ৫ মিনিট পড় ফিরে এলো রাণী তার হাতে একটা বি দেখলাম রাজা তাই সে প্রশ্ন করলো

এটা কিসের বই রাণী আগে তো কখনো দেখিনি

এটা আমার মামা দিয়েছিলো আমাকে এই বইয়ের একটা শক্তি আছে

রাজা রাণীর এমন কথা শুনে প্রশ্ন করলো কিসের শক্তি আর তোমার মামা এই বই কোথায় পেলো

আপনি হয়তো জানেন না আমার মামা জাদু বিদ্যা আয়োত্ব করেছিলো তার কাছে প্রায় ১০০ জ্বিন ছিলো যাদের সবারে কাছেই আলাদা আলাদা শক্তি ছিলে। মামা সকল জ্বিনকে একটা বইএ বন্দি করে রাখতো কিন্তু মামা মারা যাওয়ার পর ৯৯ টা বই একা একাই উধাও হয়ে যায় রয়ে যায় শুধু এই বইটা যা আমি দেখতে পাই এবং আমি এটাকে আমার কাছেই রাখি আমি বইটা পড়েছি এবং পরে বুঝতে পারলাম এই বইএ থাকা জ্বিন ইচ্ছে পূরণ করতে পারে এতদিন আমার কোন কাজে লাগে নি তাই আমি ঐকোনো কিছু চাইনি কিন্তু হয়তো একন কাজে লাগবে কিন্তু এই জ্বিন শুধু একটা ইচ্ছাই পূরণ করবে

রাজা তো বেজায় খুশু সাথো একটু বিরক্তও

তুমি এই কথা আমাকে আগে বলো নি কেন তাহলে তো আমরা আরো আগে বাবা মা হতে পারতাম

রাণী মুচকি হেসে জবাব দিলল রাগ করো না আমি এমনি এমনি কিছু করি নি আসলে এই জ্বিনটি একটা ইচ্ছে পূরণ করার বদলে কিছু একটা নিয়ে যায় এই ভয়ে আমি বলি নি

আরেহ যা লাগবে তাই দিবো আমার পুরো রাজ্য্যা দিয়ে দিবো আমার সব সম্পদ দিয়ে দিবো তার পরেও আমার একটা সন্তান লাগবেই লাগবে

রাজা এমন কথা শুনে রাণী দ্বিতীয় বার দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল আচ্ছা ঠিকাছে চলুন চেষ্টা করে দেখি

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+30 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login