Novel

তুষার কন্যা পর্ব-১৫

October 10, 2026

49 views

ম্যানে ওরা এখানে আছে তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছে

কি বলেছিলাম না আমাদের ভাগ্য আমাদের ঠিক জায়গায়ই পৌঁছে দিয়েছে

তোমরা এখানে কিভাবে এলো

আরিফ বলল উপরে একটা বড় গর্ত হয়ে আছে সেখানে আমরা পড়ে গিয়েছিলাম তারপর আমরা এখানে এসে পৌঁছাই

পড়ে গেছিলাম নাকি ফেলে দিয়েছিলেন

নীলা হালকা করে আরিফের কানের কাছে কথাটা বলল

ফেলে না দিলে তোমার ভাইকে পেতে?

আরিফ আর নীলা ফিস ফিস করে এতক্ষন যা

বলেছিলো তার সবই শুনেছি পরিটি

তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো

কিছু না

বলো আমাকে আমি কিছু করবো না বরং একটু সাহায্য করতে পারি চাইলে

আসলে যেই শীতের রাণী বর্তমানে শীতের রাজ্যে আছে সে আমার বোন

কিহ ওটা তোমার বোন কিন্তু তুমি তো মানুষ তোমার বোন তুষার কন্যা কিভাবে হয়

আসলে ও ছোট বেলায় একটা অভিশসপ পেয়েছিলো যার জন্য এরকম হয়েছে

ওহ আচ্ছা তাই তুমি এখন তোমার বোনকে বাঁচাতে এসেছো

না ঠিক তা নয় আমি শুধু আমার বোনকে নয় আমার ভাইকেও বাঁচাতে এসেছি

কেন তোমার ভাইও কি অভিশাপ প্রসূপ্ত নাকি সেও কি বরফ কুমার

না আসলে আমার বোন আমার ভাইকে বস করে রেখেছে আর আমি তাদের দুজনেইকেই বাঁচাতে এসেছি

ঠিকআছে তাহলে তুমি তাড়াতাড়ি শীতের রাজ্যে চলে যাও

কিন্তু কোন দিক দিয়ে যাবো

সোজা চলে যাও

এরপর আরিফ আর নীলা চলে গেলো সেই পথে

এটা কোন জায়গা

দেখে তো শীতের রাজ্য মনে হচ্ছে না

হুম দেখেন দরজার সামনে বৃষ্টি বা পানির মতো কিছু দেখা যাচ্ছে

তাহলে চলে ভেতরে ঢুকি তার পর দেখি কি হয়

চলুন

এরপর নীল আর নীলা ভেতরে ঢুকলো

আশে পাশে এত পানি কেন

কারণ এটা বর্ষা রাজ্য

কে?

আমি বর্ষা পরি

এখানেও পরি আছে

এখানকার প্রতিটি ঋতুতেই পরি আছে শীতের রাজ্য বাদে

হ্যা ওখানে তুষার কন্যা থাকে তাই না

হুম তুমি কি করে জানলে

আসলে যে বর্তমানে শীতের রাজ্যের রাণী সে আমার বোন

কিন্তু তোমাকে দেখে তো স্বাভাবিক মানুষি মনে হচ্ছে তাহলে তোমার বোন কিভাবে

এরপর নীলা তার অতীত খুলে বলল

ও বুঝলাম কিন্তু এখন তুমি কি করবে

আমার কাছে একটা রাস্তা আছে কিন্তু তার জন্য আগে আমাকে শীতের রাজ্যে যেতে হবে

বুঝতে পেরেছি

আপনি কি আমাকে ঐ রাজ্যে যাওয়ার রাস্তা বলে দিতে পারবেন

অবশ্যই, এরপর বর্ষা পরিও গ্রীষ্ম পরির মতো তাদের সোজা চলে যেতে বলল

শুনো মেয়ে রাস্তায় কিন্তু অনেক বিপদ থাকতে পারে

সাবধানে যেও

নীলা এতক্ষনে একটু দূরে চলে গেছে কিন্তু তার কানে বর্ষা পরির কথাটি পৌঁছেছে তাই সে জোরে চেচিয়ে বলল

আজ যত বড়ই ঝড় আসুক না কেন তা আমি মূহূর্তেই পার করতে পারবো এই সব বিপদ আমার কাছে তুচ্ছ্য

কিছুক্ষণ পর......

সামনে কি ওটা

সমুদ্র

সেটা না বুঝলাম তবে এত বড় সমুদ্র আমরা পার করবো কীভাবে

চিন্তা নেই নিশ্চয়ই আমরা পারবো

এই প্রথমা আরিফকে শান্তনা দিলো নীলা প্রত্যেক বার তো নীলাকেই শান্তনা দিয়ে যায় বেচারা আরিফ

আমরা এত বড় সমুদ্র সাতরে পার হতে পারবো না

আরিফের কথাটা শুনে নীলা একটু চিন্তায় পরে গেলো সত্যিই তো এত বড় সমুদ্র তারা কি সাতরে পার হতে পারবে এটা তো অসম্ভব প্রায়

হঠাৎ নীলার চোখে যায় দূরে রাখা একটা কিছুর উপরে

কি দেখছো

ওখানে কিছু একটা আছে

কোথায় আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না

চলুন আমার সাথে

নীলা বেস এই কথাটি বলে আর কোন কথা না বলে চলে গেল ওই বস্তুটি দিকে

আরে আমার জন্য দাঁড়াও এরপর আরিফো তার পিছে পিছে যেতে লাগলো

নীলা যে বস্তুটি দেখেছিল সেটা আসলে একটা নৌকা

দেখেছেন আল্লাহ একটা না একটা ব্যবস্থা করে দেয়

হুম এখন আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি উঠে বসো

এরপর তারা দুজন নৌকা উঠে বসলো এবং নৌকাটি চালাতে শুরু করলো নৌকাটি চালাচ্ছে আরিফ যেহেতু সে মাছ ধরে সেহেতু সে মাঝে মাঝেই নৌকা চালাতো

তাই তার কাছে এটা কোন ব্যাপার না

নৌকায় এগচ্ছে না কেন

কি জানি মনে হয় কোন কিছু আটকে গেছে

এত গভীর সমুদ্রে কি আটকাবে

কোন ভয়ংকর প্রাণী নায় তো

ধুর এটা কি পৃথিবীর সমুদ্র নাকি যে এখানে ভয়ংকর প্রাণী থাকবে

হঠাৎ পানি গোল গোল ঘুরতে শুরু করলো এবং সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে আসলেও একটা ড্যাগ

এটা কি?

নীলার এমন কথা শুনে আরিফ জবাব দেয় এটার ব্যাপারে তুমি জানো না

না কেন কি এটা

বিয়ে বাড়িতে রান্নার পর এগুলোকে নদীতে ধুতে নিয়ে যাওয়া হয় জানো তো

হুম

আর ধুতে গিয়ে মাঝে মাঝেই একটা দুইটা নদীতে হারিয়ে যায় যা ভেসে ভেসে সমুদ্রে চলে আসে এরপর তারা জীবিত হয়ে যায় এবং মানুষকে তার মধ্যে ভরে নিয়ে যায়

কি তাহলে তো আমাদেরও নিয়ে যাবে এখন

আরিফ এই ব্যাপারে শুনেছিল তবে সে এগুলো বিশ্বাস করে না সে শুধু নীলাকে ভয় দেখানোর জন্য কথা গুলো বলল

তবে এত গভীর সমুদ্রে ড্যাগ আসলো কিভাবে সেটাই ভেবে পাচ্ছেনা আরিফ

এরপর সে উঠে দাঁড়ালো

আরে এটা কি করছেন দাঁড়ালে তো ও আপনাকে আরো ভালো করে দেখতে পাবে

আরিফ নীলার কথায় কান না দিয়ে নৌকাটা নিয়ে গেল ওই বস্তুটি কাছে

নীলা ভয়ে জড়োসড়

সে ভূত দেখে এত ভয় পায় না যত যা ভয় পায় সমুদ্রের প্রানি দেখে

এরপর আরিফ ভুক্ত বস্তুটোকে স্পর্শ করলো সাথে সাথে ড্যাগটি পুনরায় ঘুরতে শুরু করলো এবং ঘুরতে ঘুরতে আবার সমুদ্রের নিচে চলে গেল

আরিফের বিশ্বাস হয়ে গেছে যে সে যা শুনেছে তা একদম সত্যি শুনেছো তবে ও তাদের কোন ক্ষতি করলো না

নীলা যেন প্রাণ ফিরে পেলো

কি করছিলেন আপনি ওটা যদি আমাদের নিয়ে যেতে

নেয়নি তো

কিন্তু যদি নিতো

বাদ দাও তো এখন চলো সামনে এগিয়ে যাই

এরপর আরিফ আবার নৌকার হাল ধরলো

কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পৌঁছে গেলো তাদের গন্তব্যে তারা ভেবেছিল সমুদ্রটা অনেক বড় কিন্তু আসলে সমুদ্রটা এত বড় ছিল না তাই তারা খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেছে আরিফের হাত পা কাপছে সে কি করেছিলো ওইটা যদি সত্যিই তাদের নিয়ে যেত তাহলে কোন সাহসে ধরেছিলো

কি ভাবছেন

কিছু না চলো আমরা পরের ধাপে যাই

এরপর তারা আবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো

কিছু দূর যাওয়ার পর তারা আবারও একটি বড় দরজা দেখতে পেলো তারা ইতোমধ্যে গ্রীষ্ম ও বর্ষা পার করে এসেছে গ্রীষ্ম ও বর্ষার পরে আসে শরৎ তাই তারা ধারণা করে নিল এটাই শরৎ রাজ্য। তারা আগের দুই রাজ্যের মতন এই রাজ্যে ও প্রবেশ করলো

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login