Novel

তুষার কন্যা পর্ব-১১

October 6, 2026

5 views

এটার উপায় আমি তোমাকে বলে দিচ্ছি

তারা তারি বলুন

তোমার বোনকে অভিশাপ মুক্ত করার জন্য তোমাকে সেই জিনিসটা তাকে ছোযাতে হবে যেই জিনিস সে তুষার কন্যা হওয়ার আগে ছুয়েছিলো আর তোমার বোন অরভিশাপ থেকে মুক্তি পেলে তোমার ভাই এমনিতেই মুক্তি পেয়ে যাবে কারণ তখন আর তুষার কন্যার কোন জাদু কাজ করবে না

কিন্তু সে শেষ বার কি ছুঁইয়ে ছিলো সেটা আমি কিভাবে জানবো

সেটা তোমাকে নিজে খুজে বের করতে হবে

কিন্তু আমি কিভাবে

নীলিমাকে কথা শেষ না করতে দিয়ে পরিটি বল্ল তুমি রাজকন্যা ভুলে যেও না

নীলা যেন নতুন করে একটু সাহস পেলো

এরপর পরিটি আর কোন কথা না বলে সেখান থেকে চলে গেলো

আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে

কথাটি বলে নীলা সামনের দিকে যেতে লাগলো

দাড়াও নীলা

আরিফের ডাকে ঘুরে তাকায় নীলা

আমিও তোমার সাথে যাবো

না আমি চাই না আমার জন্য কেউ বিপদে পড়ুক

কিন্তু আমি চাই। আমি তোমাকে একা ছাড়তে পারবো না

কেন?

এই কথার উত্তর আছে আরিফের কাছে কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই এখন

কেন কথার কোন মানে নেই আমি যাবো মানে যাবো

নীলার আর কিছু বলার নেই সে চায় আরিফ তার সাথে যাক কিন্তু তার জন্য কেউ বিপদে পড়বে এটা সে কিভাবে মেনে নেবে কিন্তু সে হার মানে আরিফের জেদের কাছে অতঃপর তারা দুজনেই যেতে লাগলো মায়া নগর রাজ্যের দিকে

এসেছো?

নীল এর হাতে শিকার দেখে নীলিমার খুশির সীমা নেই আসলে নীল মূলত নীলাকেই শিকার করতে গিয়েছিলে কিন্তু যেভাবে নীলিমা তার ভাইকে না চিনা সত্ত্বেও অদ্ভুত টান অনুভব করার জন্য তাকে মারতে পারেনি সেখানে নীল তো জানে নীলা তার বোন তাই সে কিভাবে মারবে তাকে যদিও সে নীলিমার বসিভুত চাকর স্বরূপ তাই সে অন্য কাউকে শিকার বানিয়ে নীলিমার সামনে পেশ করলো

লোকটা ছোট ফট করছে তবে নীলের শক্তির সাথে সে পেরে উঠছে না এতক্ষন লোকটি ভাবলো হয়তো তাকে

ডাকাত অপহরণ করেছে কিন্তু সামনে তো একটা সাধারণ মেয়ে

হঠাৎ নীলিমার অভিব্যক্তি পরিবর্তন হয়ে গেলো সঙ্গে সঙ্গে লোকটির ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো

এপর নীলিমা নামের নিষ্ঠুর তুষার কন্যা ঐ নিরিহ লোকটার পেটে তার অস্ত্র ঢুকিয়ে দিলো এবং পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো একটি নিশপাপ প্রাণ

নীলিমা রক্ত খাচ্ছে আর নীল তা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে একটা সাধারণ মানুষ হলে হয়তো এতক্ষনে পালিয়ে যেতে অথবা অজ্ঞান হয়ে যেতো কিন্তু নীল তো বসিভুত

নীলিমার মনে হতে লাগলো ছেলেটা বেশ কাজের একে তার সাথে নিতে হবে

এই রাজ্যের আর কোন মানুষ নেই যারা আছে তারা লুকিয়ে থাকে কোথায় যেন তাই নীলিমা চলে যাচ্ছে তার রাজ্যে তুষার রাজ্যে যেখানে সে বসে বসে আরাম করবে আর এই ছেলে তাকে শিকার করে দেবে

চলো আমার সাথে

নীল কোন প্রশ্ন না করে নীলিমার পিছু পিছু যেতে লাগলো

কেন করছো এমন

মন চাচ্ছে

জ্ববিনটির কথা শুনে পরিটি বল্ল এগুলো একদম ঠিক হচ্ছে না এত টুকু বাচ্চারা কিভাবে এত কিছু সহ্য করবে আমি যথা সম্ভব ওদের সাহায্য করে এসেছি কিন্তু বাকি পথ গুলো তো তাদের একাই চলতে হবে তাই না

হ্যা এত সুন্দর একটা কাহিনি সৃষ্টির জন্য তো একটু কষ্ট করতেই হবে

কি সব সময় কাহিনি কাহিনি করো তোমার এই কাহিনির জন্য কত মানুষের প্রাণ গেলো তিনটা নিশপাপ বাচ্চা জীবন নষ্ট হয়ে গেলো যেই ছেলে মেয়ের রাজার হালে বড় হওয়ার কথা ছিলো তাদের মাছ ধরে খেতে হচ্ছে আর যে ১৫ বছর পর্যন্ত রাজার হালে বড় হয়েছে সে এখন মসনুষি রইলো না সে নাকি তুষার কন্যা তাকে এখন মানুষের রক্ত খেয়ে বাচতে হয়

কথা গুলো একদমই বলে শ্বাস নিচ্ছে পরিটি

জ্বিনটা বল্ল চিন্তা করো না আর দেরি নেই এই কাহিনি শেষ হতে আর মাত্র একটা ধাপ অতঃপর শেষ হয়ে যাবে এই ছোট কাহিনিটি

তোমাকে আর কিছু বলার নেই এই কথাটি বলে পরিটি চলে গেলো সাথে জ্বিনটিও চলে গেলো

নীলাদের বাড়ি পাশের রাজ্য থেকে খুব একটা দূরে নয় তাই বেশি সময় লাগলোমনা তাদের ঐ রাজ্যে পৌঁছাতে রাজ্যে পৌঁছেই তারা প্রাসাদ খুতে লাগলো কিছুদূর যাওয়ার পর তারা প্রাসাদটি দেখতে পেলো

এই প্রাসাদের মালিক তুমি নীলা

নীলার যেন এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না

চলো নীলা ভেতরে যাই

এরপর তারা ধীরে পায়ে প্রাসাদে প্রবেশ করলো এই প্রাসাদে সে মাত্র দুই মাস ছিলো তারপরেও তার মনে হচ্ছে যেন কত বছরের স্মৃতি আছে এই প্রাসাদে

সে একটা কক্ষে প্রবেশ করলো সেখানে তিনটা বাচ্চা কোলে নিয়ে দুজন নারী পুরুষের ছবি আছে সে ছবিটার কাছে গেলো এবং হাত বুলাতে লাগলো ছবিটির উপর

মা বাবা তোমরা কোথায়

কথাটা বলতে বলতে নীলা তার চোখের পানি ছেড়ে দিলো

তার হালকা ফোঁপানির শব্দ গেলো প্রাসাদে লুকিয়ে থাকে রাজ্যের সবাই ও দাস দাসিদের কানে

নীলিমা শিকার করতে সব সময় বাইরে যায় তাই রাজ্যের সবাই বুদ্ধি করে প্রাসাদেই লুকিয়ে থাকে

কেউ কাদছে এটা শুনে অনেকেই ভাবলো যে তুষার কন্যা হয়তো ঠিক হয়ে গেছে কারণ তুষার কন্যারা কখনো কাদে না

তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ধীরে ধীরে উকি মারে তবে সেখানে তো নীলিমা নেই বরং দুজন যুবক যুবতি রয়েছে। তাদের দেখে বেরিয়ে এলো সকলেই

কারা তোমরা?

কারো উপস্থিতি টের পেয়ে আরিফ আর নীলা পিছনে ঘুরে তাকায়

তোমরা কি আমার ভাইকে দেখেছো?

কে তোমার ভাই আমার ভাইকে তুষার কন্যা বস করেছে

কি বলবো মা এই তুষার কন্যার জন্য আমরা বাচতে পারছি না সর্বক্ষন লুকিয়ে থাকতে হয় তার ভয়ে রাজ্যের অর্ধেক মানুষ রাজ্য ছেড়ে চলে গেছে আর বাকিরা নিজেদের প্রাণ দিয়েছে এখন বাকি আছি শুধু আমরা

আপনারা এখনো আছেন কেন আপনারাও চলে যান তাহলে তো আপনাদেরও মেরে ফেলবে সে

না মা তার উপায় নেই আমাদের ওপর একটা দায়িত্ব আছে

কি দায়িত্ব ?

আমাদের রাজন্যার ভাই বোনদের খুজতে হবে যারা ছোট বেলায় হারিয়ে গিয়েছিলো এক মাত্র তারাই পারবে তুষার কন্যাকে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং আমাদের এই রাজ্যকে বাঁচাতে

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login