Novel

তুষার কন্যা পর্ব-৩

September 27, 2026

51 views

কেটে যায় ১ টা বছর রাজা রাণী এখন ২মাসের ৩ সন্তানের বাবা মা এখন পর্যন্ত সব কিছু ঠিকি আছো রাজা রাণী মনে করছে জ্বিনটা হয়তো তাদের সাথে মজা করেছে তাই তারা এখন খুব শান্তিতে বসবাস করছে

রাণীর ইচ্ছা অনুসারে তাদের তিনজন সন্তানই হয়েছে যার মধ্যে ১ ছেলে আর ২ মেয়ে

ছেলের নাম নীল

বড় মেয়ের নাম নীলিমা

ছোট মোয়ের নাম নীলা

তাদের সবার নাম মিলিয়েই রাখা হয়েছে

বিকাল এখন ৩টা রাজা প্রাসাদে নেই কোথায় গেছে সেটা রাণী জানে না নীল আর নীলা ঘুমিয়েছে কিন্তু নীলিমা জেগে তাই রাণী তাকে কোলে নিয়ে জানালারে ধারে বসে আছে আর রাজার জন্য অপেক্ষা করছে

সন্ধ্যা প্রায় ৫:৩০। রাজা এখনো আসেনি হঠাৎ রাণী কারো পায়ের শব্দ পায় সে ভাবলো রাজা এসেছে হয়তো তাই সে জানালা দিয়ে উকি মারে তবে এতো রাজা নয় এটা তাদের প্রাসাদের প্রধান সেনাপতি সে দৌড়ে দৌড়ে আসছে তার কপালে রক্ত, রক্ত দেখা মাত্রই রাণী বুঝতে পারে কিছু একটা খারাপ হয়েছে এক দিকে সেনাপতি দৌড়ে আসছে আরেকদিকে রাণীও নীলিমাকে কোলে নিয়ে নীচের দিকে ছুটছে অতঃপর মাঝ পথে দেখা হলো তাদের

কি হয়েছে?

খুব বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে

কি হয়েছে খুলে বলুন

পাশের রাজ্যের রাজা আমাদের রাজাকে ডেকেছিলো দাওয়াতে কিন্তু মাঝখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারির সৃষ্টি হয়। সেখানে শুধু আমি আর রাজাই ছিলাম আমরা দুজনে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন লাভ হয় নি কারণ তাদের শইন্য অনেক ছিলো

আপনাদের রাজা কোথায় সেটা বলুন

এ পর্যায়ে সেনাপতিটি চোখের পানি ছেড়ে বলল রাজা আর নেই

সাথে সাথে যেন রাণীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো

নেই মানে কি বলতে চাইছো

ঐ রাজা শইন্যরা মিলে রাজাকে হত্যা করেছে আমাকেও বন্দি করেছিলো কিন্তু আমি পালিয়ে এসেছি এখন ওরা আমাদের রাজ্যে আক্রমণ করতে চলেছে

কথাটা বলা মাত্রই দূর থেকে হই হই শব্দ শুরু হলো রাণী বুঝতে পারলো ওরা আসছে

আপনি দ্রুত রাজকন্যাকে কোন নিরাপদ স্থানে রেখে আসুন

রাণী কথাটা শোনা মাত্রই কোলে থাকা নীলিমাকে নিয়ে প্রাসাদের নিচে গোপন কক্ষে চলে গেলো সে ভুলেই গেলো যে ঘরে তার আরো দুটি সন্তান রয়েছে। সে সেখানে থাকা দাসিদের কাছে নীলিমাকে তুলে দিয়ে বলল ভুলেও তোমরা বের হবে না আর ও যেন কোন ক্ষতি না হয়

কথাটি বলেই রাণী বাইরে চলে গেলো বাইরে বের হয়ে সে দেখতে পেলো বিপক্ষ দলের শইন্যরা প্রাসাদে ইতি মধ্যেই প্রবেশ করছে সেখানে থাকা প্রহরিদের তারা হত্যা করে ফেলেছে এতটুকু সময়ের মধ্যেই বাকি শইন্যরা প্রস্তুত নিচ্ছে যুদ্ধের কিন্তু রাণী তাদের থামিয়ে দিয়ে সেখানে থাকে একটা উঁচু স্থানের উপর উঠে বলতে লাগলো

দাঁড়াও তোমরা এখানে কেন এসেছো কি চাই তোমাদের

বিপক্ষ দলের সেনাপতি জোর গলায় রাণীর উদ্দেশ্য বলল তোমার স্বামী আমাদের রাজাকে অপমান করেছে

রাণী এই কথা শুনে বলল তার বদলে আপনারা আমার স্বামীর প্রাণ নিয়েছেন

সেনাপতি কিভাবে যেন হেসে বলল রাজাকে মেরেছি তোমাকে মারবো সাথে এই রাজ্যের সকলকে মরবো

তোমরা যদি ভেবে থাকো আমি ভয় পাচ্ছি তাহলে বিজ্ঞ পুরুষের চেয়েও দ্বিগুণ শক্তি বিদ্যমান

কথাটা বলা মাত্রই বিপক্ষ দলের সেনাপতি বলে উঠে আক্রমণ

এর পরিবর্তে রাণীও তার সেনাদের উদ্দেশ্যে বলল আক্রমণ করো

অতঃপর শুরু হলো এক রক্ত ক্ষয়ী যুদ্ধ সমানে সমানে যুদ্ধ হচ্ছে কেউ কারো থেকে কম না

কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই রাণীর দল বিজয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায়

এমত অবস্থায় বিপক্ষ দল কি করবে বুঝতে পারছে না হঠাৎ তার মাথায় এক বুদ্ধি এলো

সে ব্যাগ থেকে কি যেন একটা নওয়ে রানীর দিকে এগিয়ে গেলো রাণী যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যস্ত ছিলো তাই সে সেনাপতিকে খেয়াল করেনি হঠাৎ রাণী টের পায় তার পেটে ধারালো কিছু ঢুকে গেলো আসলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি তার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়েছে রাণী সেটা বুঝতে পেরে ভয়ঙ্কর এক চিৎকার করে উঠলো তার চিৎকারে তার দলের সৈনিকরা তার দিকে তাকালো সেই সুযোগে বিপক্ষ দলের সৈনিকরা আক্রমণ করে বসে রাণীর সৈনিকদের মুহূর্তেই সব কিছু শেষ রাণী শেষ সৈনিকরা শেষ এখন বিপক্ষ দলের সৈনিকরা আনন্দ করছে এমন সময় সেনাপতি ঘোষণা দিলো পুরো প্রাসাদ ধ্বংস করো যা যা আছে সব লুটে নাই সৈনিকরা তাই করলো পুরো পডাসাদো সব দাসা দাসির প্রাণ শেষ বেঁচে গেলো শুধু প্রাসাদের নীচে অবস্থানরত কিছু দাস দাসি ও নীলিমা

দেখুন জনাব দুইটা বাচ্চা

সৈনিকের একমনা কথা শুনে সেনাপতি পিছু ফিরে চায় আর সে দেখতে পায় বিছানায় দুইটা বাচ্চা ঘুমাচ্ছে

সেনাপতি তাদের দেখে মুচকি হেসে বলল মাশাল্লাহ

মেরে দেই ওদের?

সাথে সাথে চর পড়লো সৈনিকটির গালে চরটি বসালো সেনাপতি

চুপ হারামজাদা ওদের আমার সাথে নিয়ে যাবো

এরপর সেনাপতি বাচ্চা দুটো অর্থাৎ নীল ও নীলার কাছে যায় আর বলে

আজ থেকে তোরা আমার তুরুপুরের তাস সৈনিক তোলো ওদের আর সাথে নিয়ে আসো

জি জনাব যেমন আপনার ইচ্ছা

এরপর তারা নীলা আর নীলকে নিয়ে চলে গেলো তাদের রাজ্যের উদ্দেশ্যে

এতক্ষন সব কিছুই দূরে অবস্থিত তাল গাছে বসে ছিলো সে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে

দারুণ সব কিছু আমার ইচ্ছা অনুসারেই হচ্ছে আমি তো দারুণ কাহিনি বানাতে পারি আল্লাহ আমাকে এত গুন দিয়েছে জানতাম না তো তবে একটা জিনিসএর আপসোস বেচারা রাজা রাণী মরে গেলো তারা এত বছর পর সন্তান পেয়েও তাদের সাথে সময় কাটাতে পারলো না তবে আমার কাছেও তো আর উপায় নেই আমি কিছু দিলে কিছু নেইও তারা আমার কাছে সন্তান চেয়েছিলো তার বদলে আমি একটা সুন্দর কাহিনি দেখতে চেয়েছিলাম যাই হোক একদিন তো এই কাহিনি শেষ হবেই তখন তোরা সুখে থাকিস

অন্যদিকে প্রাসাদের উপরের অংশে যে এত কিছু হয়ে গেলো তার কিছুই জানে না নীচে অবস্থিত দাস দাসিরা রাণী এই যে তাদের বলে গেলো বাইরে না যেতে তারপর তো আর এলো না তারা আন্দাজ করেছে বাইরে কিছু একটা হয়েছে তবে কি হয়েছে তা বুঝতে পারছে না

এই চল বাইরে যাই

এক দাসির এমন কথা শুনে আরেক দাসি বলে উঠলো ধুর পাগল নাকি রাণী আমাদের মেরে ফেলবে যদি সে জানে আমরা তার কথা অমান্য করেছি

তার কথা শুনে আরেক দাসি বলে উঠলো আমারো মনে হয় বাইরে যাওয়া উচিত নিশ্চয় ককোন বিপদ হয়েছে নাহলে রাজকন্যাকে এভাবে আমাদের কাছে কেন দিয়ে যাবে বল

ঠিকাছে সবার যদি যাওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে চল যাই সবাই এক সাথে গেলে রাণী কাউকে আলাদা করে কিছু বলতে পারবে না

তার কথা বাকি সবাই সহমত পশন করলো এবং তারা বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলো

তবে একি বাইরে এত রক্ত কেন সেই দাসিগুলোর বুঝতে বাকি রইলো না যে এখানে কি হয়েছে হঠাৎ দূর থেকে বগেসে আসে হালকা গোংরানির শব্দ দাসিরা খেয়াল করে বুঝতে পারে এটা রাণীর শব্দ তারা দৌড়ে রাণীর কাছে যায় এবং গিয়ে দেখতে পায় রাণী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে আছে সে দাসিদের দেখে বলল

ঘরে নীল আর নীলা আছে ওদের দেখে রেখো আর নীলিমার উপর বিশাল বড় অভিশাপ আসতে চলেছে যা সব শেষ করতে পারে ওর ১৫ বছরের জন্মদিনের দিন ওকে বাইরে যেতে দিও না

কিন্তু এক দাসি বলে উঠে ঘরে তো নীল আর নীলা নেই

রাণী বুঝতে পারলো তারা ইতি মধ্যেই আলাদা হয়ে গেছে তার মানে জ্বিন মজা করেনি

ওরা ফরে আসবে একদিন তোমরা ওকে দেখে রেখো কথাটি বলার সাথে সাথেই রাণী তার শেষ নিঃশাস ত্যাগ করলো

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login