Novel

তুষার কন্যা পর্ব -৫

September 29, 2026

12 views

আঁচ্ছাঁ ঐসব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে ঘুমাতে চলে প্রথম আমাদের শুধু রাজকন্যাকে দেখে রাখতে হবে আর ওনার ভাই বোনকে খুজতে হবে আজকের সকল কিছু ভুলে ঘুমাতে চলে যাও

সবাই তাই করলো নীলিমাকে শুইয়ে তারা নিজেরাও শুয়ে পড়লো

দেখতে দেখতে কেটে গেলো আরো দশটা বছর আজ থেকে দশ বছর আগে প্রাসাদের ঘটে যাওয়া ঘটনা এখনো সবার মনে আছে খারাপ স্মৃতি হিসেবে আজকের দিনেই ঘটেছিলো সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর আজ আবার সেই দিন রাজ প্রাসাদের চার পাশে করা পাহারা নীলিমার ঘর তালা দেওয়া নীলিমা বুঝতে পারে না তাকে বন্দি করে রাখে কেন সেও তো আর পাঁচটা মানুষের মতো খেলবে ঘুরবে আরো কত কিছুই করবে তবে তাকে বন্দি করে কেন রাখে তা জানে না সে। দাসিরা তাকে বলে তুমি রাজ কন্যা আর রাজকন্যাদের বাইরে যেতে নেই কিন্তু অন্য রাজ্যের রাজকন্যারা তো বাইরে যায় কোন সমস্যা হয় না

কি ভাবছেন রাজকন্যা

কত বার বলেছি আমাকে রাজন্যা বলবেন না

আরেহ আপনি তো রাজকন্যাই

হতে পারি আমি রাজকন্যা তবে আমিও তো আপনাদের মতো সাধারণ মানুষি তার উপর আমি আপনাদের ছোট রাজকন্যা বল্লে ব্যাপারটা খারাপ দেখায়

ঠিকাছে আর বলবো না আপনার যদি কোন কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে বলবেন

এ কথা বলে দাসিটি চলে গেলো সে মনে মনে ভাবছে হয়তো বাবা মা বেঁচে নেই কিন্তু তার পরেও বাবা মায়ের চেয়ে এক বিন্দুও আলাদা হয়নি সে

প্রাসাদে বেজায় তরজোর চলছে রাজকন্যার ১৫ বছরের জন্মদিন পালনের এবার কাউকে বলা হয়নি না মানুষ আর না পরি শুধু দাস দাসিরা মিলেই এই জন্মদিন পালন করছে কেন না তারা জানে আজকের দিনে কিছু একটা হতে চলেছে যদি আজকে কোন ভাবে রাজকন্যাকে বাঁচানো যায় তাহলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে

কিছু ঠিক হবে না জ্বিনটি মনে মনে বল্ল সে সর্বক্ষণ তাদের দেখে তাদের উপর নজর রাখে এক কথায় সে তার বানানো কাহিনি দেখে

ভালো লাগে না আর ঘরে বসে থাকতে কি যে করি এখন হঠাৎ রাজ কন্যার মনে হলো সে তো গোসল করেনি। গোলস করেনি এটা বল্লে ভুল হবে সে গোসল করেছে

কিন্তু সে তার প্রত্যেক জন্মদিনে টাটকা গোলাপ মিশানো পানি দিয়ে গোসল করে তাই সে সাথে সাথে প্রবেশ করে বাথরুমে তবে একি তার তো টাটকা গোলাপ লাগবে এখানে যে গোলাপ গুলো আছে তা তো মরে ভূত হয়ে আছে মানে শুকিয়ে গেছে

এখন কি করবে নীলিমা। সে বেশি কিছু না ভেবে দাসিকে ডাকে তবে বাইরে এত শব্দে কেউ কিচ্ছু শুনতে পারছে না তার উপর ঘর আটকানো তালা দেওয়া কি করবে এখন সে সে কি বাইরে যাবে। নানা তাকে তো করা নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু সে যদি আজ গোলাপের পাপরি দিয়ে গোসল করতে না পারে তাহলে যে তার জন্মদিন অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে

আর কিচ্ছু ভাবতে পারছে না নীলিমা। অতঃপর সে সিদ্ধান্ত নিলো সে বাইরে যাবে যাই হোক না কেন সে শুধু যাবে আর আসবে লুকিয়ে লুকিয়ে যাবে আর কাছের গোলাপ বাগান থেকে গোলাপ নিয়ে চলে আসবে

যেই ভাবা সেই কাজ সে তার একটা চাদর নিয়ে বরিয়ে পড়তে চাইলো প্রসাদা থেকে তবে দরজা তো বন্ধ সে কিভাবে বের হবে সে আশে পাশে চোখ বুলিয়ে বুঝতে পারলো একটা জানালা একটু দুর্বল সেখানে দুইটা তিনটা আঘাত করলেই তা ভেঙে পড়ে যাবে

নীলিমা তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য জানাটির কাছে এগিয়ে গেলো দুইটা ঘুসি মারার পরেই জানালাটি ভেঙে গেলে নীলিমা বিনা শব্দে জানাল্যার কাঠ গুলো প্রাসাদের ভেতরে তার কক্ষে ফেল্ল তার কক্ষটা নিচের তলায় হওয়ায় বের হতে বেশি বেগ পেতে হলো না। সে মাত্রই তার কক্ষ থেকে বের হলো এখন তাকে প্রাসাদ থেকে বের হতে হবে চার পাশে করা পাহারা সব উপেক্ষা করে সে কিভাবে যাবে সেটাই ভাবতে ভাবতে কেটে গেলে আরো কিছুক্ষণ

অতঃপর সে দেখতে পেলো দুইটা প্রহরি নেশা করার জন্য একটু দূরে গেলো বেসা তারা কিছুই চায় না নীলিমা এক দৌড়ে বেরিয়ে গেলো প্রাসাদ থেকে পাশের একটা প্রহরি কিছু টের পেয়ে অপর প্রহরিকে বল্ল বিষয়টা সে সে তাকে বল্ল এটা তোর মনের ভুল ঐ প্রহরিটাও মেনে নিলো তার কথা

নীলিমার খুব শান্তি লাগছে সে আজ মুক্ত তার কোন কষ্ট নেই কি সুন্দর চাঁদ কত তারা খোলা আকাশ চার পাশে অন্ধকার কিন্তু চাঁদের আলোয় সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে

নীলিমা লাফিয়ে লাফিয়ে এগোচ্ছে সে ভাবছে এটা তার সব চেয়ে ভালো জন্ম দিন এত সুন্দর পরিবেশ থেকে তাকে কেন দূরে রাজা হতো সে এখনো বুঝতে পারছে না

অতঃপর সে খুশি মনে গোলাপ বাগানের দিকে ছুটে চলে তবে সেখানে তো একটাও গোলাপ নেই সব প্রাসাদ সাজানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে নীলিমার তো মাথায় হাত এত কষ্ট করে কি হলো তাহলে কি সত্যিই সে এবার গোলাপের পাপরি দিয়ে গোসল করতে পারবে না হঠাৎ তার মনে হলো এই রাজ্যের তো এক জায়গায় আছে গোলাপ গাছ সেটা গোলাপ বাগান নয় শুধু একটা গোলাপ গাছ আছে কিন্তু সেটা তো অনেক দূরে তার উপর সেটা পরিত্যক্ত বাড়ি যারা আগে থাকতো তারা এখন বিদেশে থাকে আর ঐ পরিবারেরি একজন এই গোলাপ গাছটা লাগিয়েছিলো যা স্মৃতি হিসেবে এখনো বিদ্যমান ঐ বাড়িতে নীলিমা বএঝতে পারছে না সে কি ওই বাড়িতে যাবে নাকি যাবে না

এভাবেই কেটে গেল আরো কিছুক্ষণ। অতঃপর সে সিদ্ধান্ত নিল যে সে যাবে

কিন্তু এত দূরের পথ সে কিভাবে পাড়ি দেবে না তাকে

এটা করতেই হবে না হলে যে তার ইচ্ছে আর সম্পূর্ণ থেকে যাবে

সে আর বেশি কিছু চিন্তা না করে এগিয়ে গেল ওই পরিত্যক্ত বাড়ির উদ্দেশ্যে সে হাটছে আর আশেপাশের পরিবেশ দেখছে কত সুন্দর ফুল কি সুন্দর ফল চাঁদ তারা আকাশ সব মিলিয়ে যেন সে এখন স্বর্গে আছে

প্রায় ১৫-২০ মিনিট হাটার পর সে পৌঁছে গেল ওই বাড়িতে আশপাশটা খুব অন্ধকার চাঁদের আলো খুব কম আসছে অনেক ঘন গাছ পালার কারণে এবার নীলিমার একটু ভয় করতে শুরু করলো যদি আশপাশ থেকে কোন ভূত আসে

ধুর কি ভাবছে সে এসব কিছু হয় নাকি এরপর নীলিমা আরো ভেতরে প্রবেশ করলো

সে জানে যে এখানে একটা গোলাপ গাছ আছে কিন্তু কোথায় আছে সেটা সে জানে না তাই সে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে খুঁজতে লাগলো গোলাপ গাছটা আসল কথায় আছে

কিছুক্ষণ এমন করার পর তার নজরে এসেই পড়লো সে গোলাপ গাছটি তবে তারপর পোরা কপাল গাছে মাত্র একটাই ফুল অবশিষ্ট রয়েছে। তবে এক দিকে তার ভাগ্য ভালো যদি একটা ফলো না থাকতো তাহলে সে কি করতো

তার কেন যেন ফুলটা ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে না মনে হচ্ছে একটা মাত্র ফুল ছেড়াটাকে উচিত হবে

এত চিন্তায় চিন্তায় সে পাগল হয়ে যাবে কখন থেকে সেটা ওটা ভাবতেই আছে সে আর কিচ্ছু ভাবতে পারছে না

সিদ্ধান্ত নিল সে ফুলটা ছিড়বে তাই সে গাছটার দেখে এগিয়ে গেল গাছটা তার তখুব কাছেই ছিল তবে তার পৌঁছতে প্রায় ১০ মিনিট লেগে গেল এমন কেন হল সেটা সে বুঝতে পারছে না

এপর সে ফুলটা ছেড়ার জন্য হাত বাড়ালো তবে তার মন চাইছে না ভুলটা ছাড়তে

কিন্তু তার ইচ্ছা পূরণের জন্য এটা করতি হবে তাই সে আবার ফুলটা দিকে হাত বাড়ালো

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+35 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login