Biography
নিজেকে এখনো লেখক বলতে পারি না। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার প্রথম এবং একমাত্র বই প্রকাশিত হয় আমার ৪০ বছর বয়সে। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করছিল যে ৪০ বছর বয়সে থ্রিলার লেখকরা কেমন ছিলেন। পড়েছি, জেনেছি এবং জানাতে চাচ্ছি। ১০ জন লেখক এলোমেলো ভাবে বাছাই করেছি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী চেষ্টা করবো তুলে ধরতে।
সিরিজের নাম দিলাম “৪০ এ প্রথম বই”…
#পর্ব_৬
***
অড্রে নিফেনেগার: সময়, স্মৃতি ও অদ্ভুত জীবনের কথাশিল্পী
Audrey Niffenegger (1963 and still cooking)
অড্রে নিফেনেগারের নাম উচ্চারণ করলেই প্রথমে মনে পড়ে এমন এক সাহিত্যজগতের কথা, যেখানে বাস্তবতা কখনো সময়ের ভেতর ভেঙে যায়, কখনো মৃতেরা ফিরে আসে স্মৃতির দরজায়, আর প্রেম, ভয়, বিচ্ছেদ ও রহস্য একে অন্যের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিশে যায়। তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিক নন; তিনি একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল শিল্পী, প্রিন্টমেকার, শিক্ষক এবং বই-শিল্পের এক নিবেদিত কারিগর। তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো—বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া তাঁর প্রথম উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর বয়স চল্লিশ হওয়ার পর।
অড্রে নিফেনেগার ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের সাউথ হ্যাভেনে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পরিবার ইলিনয়ের ইভানস্টনে চলে যায়, এবং পরবর্তী জীবনের বড় অংশ তিনি শিকাগো ও তার আশপাশে কাটিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি ও ছবি আঁকার প্রতি তাঁর টান ছিল। নিজের ভাষায়, তিনি ছোটবেলায় ছড়া, কবিতা ও গল্প লিখতেন, কাগজ ভাঁজ করে ছোট বই বানাতেন এবং সেগুলোতে ছবি আঁকতেন। অর্থাৎ তাঁর কাছে লেখা ও ছবি কখনো আলাদা দুটি জগত ছিল না; বরং একই সৃজনশীল প্রবাহের দুই রূপ ছিল।
তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার শুরু হয় School of the Art Institute of Chicago-তে। ১৯৭৮ সাল থেকেই তিনি প্রিন্ট তৈরি করতে শুরু করেন এবং ১৯৯১ সালে Northwestern University-এর Department of Art Theory and Practice থেকে MFA লাভ করেন। ১৯৮০-এর দশক থেকেই তাঁর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হতে থাকে। তিনি হাতে তৈরি artist’s book, প্রিন্ট, পেইন্টিং, ড্রয়িং ও কমিকস নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম দিকের বইগুলো ছিল হাতে ছাপা ও হাতে বাঁধাই করা—সাধারণত মাত্র দশ কপির ছোট সংস্করণ। পরে The Adventuress এবং The Three Incestuous Sisters-এর মতো সেই শিল্পবইগুলোর কিছু বাণিজ্যিক সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
সাহিত্যে তাঁর বড় বাঁক আসে ১৯৯০-এর দশকে। Columbia College Chicago-এর Center for Book and Paper Arts-এর সঙ্গে কাজ করার সময় তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাটালগের লেখা তৈরি করতে হতো। তিনি পরে বলেছেন, একসময় প্রায় ত্রিশের বেশি ক্যাটালগ লিখতে লিখতে কাজটি তাঁর কাছে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী সাহিত্যিক অনুশীলনে পরিণত হয়েছিল। সাধারণ তথ্যকে আকর্ষণীয় করে তোলার এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছিল যে একটি দীর্ঘ উপন্যাস লিখে যাওয়ার মতো ধৈর্য তাঁর তৈরি হয়েছে।
১৯৯৭ সালে আঁকার সময় তাঁর মাথায় আসে একটি বাক্য—একজন ‘time traveler’-এর স্ত্রী। সেখান থেকেই জন্ম নেয় প্রশ্নের পর প্রশ্ন: সেই মানুষটি কে? কেন একজন নারী তাকে বিয়ে করবে? সময়ের অস্বাভাবিকতার মধ্যে তাদের দাম্পত্য কীভাবে টিকে থাকবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই শুরু হয় The Time Traveler’s Wife-এর দীর্ঘ যাত্রা। প্রথমে তিনি এটিকে graphic novel হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, স্থির ছবিতে হঠাৎ হঠাৎ সময়ের ভেতর চরিত্রের চলে যাওয়া যথেষ্টভাবে প্রকাশ করা কঠিন; তাই প্রকল্পটি উপন্যাসে রূপ নেয়। বইটি লিখতে তাঁর প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে।
২০০৩ সালে MacAdam/Cage থেকে প্রকাশিত হয় The Time Traveler’s Wife—তাঁর প্রথম উপন্যাস। অর্থাৎ চল্লিশ বছর বয়সে একজন লেখক হিসেবে তাঁর বড় প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ। বইটি দ্রুত আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে বহু দেশে প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালে এটি American Library Association-এর Alex Award-ও পায়। পরে ২০০৯ সালে উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপ নেয়।
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র Henry DeTamble এবং Clare Abshire। Henry একজন লাইব্রেরিয়ান, যিনি নিজের ইচ্ছায় নয়, এক অদ্ভুত সময়-ব্যত্যয়ের কারণে জীবনের বিভিন্ন সময়ে ছিটকে পড়েন। Clare-এর জীবন এগোয় স্বাভাবিক কালক্রমে। ফলে তাদের প্রেমের গল্পটি প্রচলিত অর্থে কেবল প্রেমের গল্প থাকে না—এটি হয়ে ওঠে অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং একটি সম্পর্ককে সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ধরে রাখার গল্প। নিফেনেগারের বিশেষ কৃতিত্ব এখানেই: কল্পবিজ্ঞানের একটি ধারণাকে তিনি দাম্পত্য ও মানবিক আবেগের আয়নায় দেখেছেন।
The Time Traveler’s Wife-এর সাফল্যের পরও নিফেনেগারের লেখকজীবন কোনো দ্রুতগতির ধারাবাহিক উৎপাদনের গল্প নয়। তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি এমন বড় প্রকল্প পছন্দ করেন যেগুলো শেষ করতে বছরের পর বছর লাগে। তাঁর লেখার পদ্ধতিও ছিল ধৈর্যনির্ভর—একটি কাজকে আলাদা আলাদা খসড়ায় ভাগ না করে তিনি বারবার সেটিকে সংশোধন, বড় ও পরিশীলিত করতে থাকেন, যতক্ষণ না সেটি পূর্ণাঙ্গ হয়। এই ধীর গতি তাঁর সাহিত্যিক স্বভাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস Her Fearful Symmetry। এখানেই নিফেনেগারের অন্ধকার, রহস্যময় ও গথিক প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গল্পের পটভূমি লন্ডনের Highgate Cemetery। এক মৃত নারী, যমজ বোন, অদ্ভুত উত্তরাধিকার, প্রতিবেশী এক নিঃসঙ্গ মানুষ এবং জীবিত ও মৃতের মধ্যকার অস্পষ্ট সীমারেখা—সব মিলিয়ে উপন্যাসটি পাঠককে ধীরে ধীরে এক অস্বস্তিকর রহস্যের মধ্যে টেনে নেয়। বইটির জন্মও হয়েছিল একটি শক্তিশালী দৃশ্য থেকে: বাক্সে ঠাসা অন্ধকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট, যার জানালার বাইরে একটি কবরস্থান। সেই দৃশ্যই পরে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের বীজ হয়ে ওঠে।
থ্রিলার ও সাসপেন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে নিফেনেগারের কাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তাঁর ‘অস্বাভাবিক’-এর ব্যবহার। তিনি প্রচলিত অর্থে ক্রাইম-থ্রিলার লেখক নন; বরং তিনি রহস্য, গথিক আবহ, অতিপ্রাকৃত উপাদান এবং মানসিক অস্বস্তিকে মানবিক সম্পর্কের সঙ্গে মিশিয়ে দেন। Her Fearful Symmetry-তে কবরস্থান, মৃত মানুষের উপস্থিতি, পরিচয়ের দ্বৈততা ও গোপন তথ্য পাঠকের কৌতূহল তৈরি করে। তাঁর কাছে অতিপ্রাকৃত বিষয় নিজেই লক্ষ্য নয়; বরং অস্বাভাবিকতার সাহায্যে খুব সাধারণ মানবজীবন—ভালোবাসা, একাকীত্ব, মৃত্যু, পরিবার ও স্মৃতিকে—একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়।
এই জায়গাতেই তাঁর থ্রিলারধর্মী লেখার নিজস্বতা। তিনি ভয় দেখানোর জন্য কেবল ভয়কে ব্যবহার করেন না; বরং পরিচিত পৃথিবীর ভেতর সামান্য একটি অস্বাভাবিক ফাটল তৈরি করেন। তারপর সেই ফাটল দিয়ে পাঠককে এমন এক বাস্তবতায় নিয়ে যান, যেখানে ‘কী ঘটবে’ প্রশ্নটির পাশাপাশি ‘মানুষ কেন এমন হয়ে উঠল’—এই প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। Her Fearful Symmetry-র ক্ষেত্রে তিনি নিজেই Highgate Cemetery নিয়ে গভীর গবেষণা করেছিলেন এবং সেখানকার ইতিহাস ও পরিবেশকে কাছ থেকে জানার জন্য স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে তিনি সেই কবরস্থানের গাইডও হন।
নিফেনেগারের সৃষ্টিশীল দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অসাধারণকে দৈনন্দিনের সঙ্গে পাশাপাশি রাখা। তাঁর ভাষায়, তিনি অস্বাভাবিক বা অদ্ভুত বিষয়কে সাধারণ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে আগ্রহী; আবার দৈনন্দিন জীবনের মধ্যেও কতটা অদ্ভুততা লুকিয়ে থাকে, সেটি দেখতে চান। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর সাহিত্যকে একদিকে রোমান্টিক, অন্যদিকে রহস্যময় ও গথিক করে তোলে। ফলে তাঁর গল্পে ভূত, সময়ভ্রমণ বা অসম্ভব কোনো ঘটনা এলেও চরিত্রগুলোর আবেগ থাকে অত্যন্ত মানবিক।
লেখালেখির পাশাপাশি তাঁর শিল্পীজীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বইকে শুধু পাঠের বস্তু হিসেবে দেখেননি; বইয়ের কাগজ, বাঁধাই, ছবি, অক্ষর এবং শারীরিক উপস্থিতিকেও শিল্পের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর এই শিল্পীসত্তা তাঁর গদ্যেও প্রভাব ফেলেছে। তাঁর গল্পের দৃশ্যগুলো প্রায়ই এমনভাবে নির্মিত হয় যেন পাঠক একটি ছবির ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন। The Night Bookmobile, Raven Girl এবং অন্যান্য illustrated works-এ এই প্রবণতা আরও সরাসরি দেখা যায়।
ব্যক্তিজীবনেও নিফেনেগারের সঙ্গে শিল্পের সম্পর্কটি গভীর। তিনি শিল্পী ও কমিকস নির্মাতা Eddie Campbell-কে বিয়ে করেন; তাঁদের সম্পর্কের গল্পও কিছুটা ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে তৈরি হয়েছিল। ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং পরবর্তীতে তাঁরা Chicago-তে বসবাস করেন। দুজন মিলে Bizarre Romance নামের একটি যৌথ প্রকল্পও করেন, যেখানে নিফেনেগারের গল্প ও ক্যাম্পবেলের শিল্প একসঙ্গে কাজ করেছে। নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য জীবনীসূত্রে তাঁদের কোনো সন্তানের তথ্য পাওয়া যায় না; তাই এ বিষয়ে অনুমান না করাই যথাযথ।
নিফেনেগারের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো Artists Book House। ২০১৯ সালে তিনি Chicago-তে এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য বই-শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, প্রদর্শনী ও সৃজনশীল সম্প্রদায়ের বিকাশ। একজন লেখক হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার পরও তিনি বইকে কেবল বাজারে বিক্রি হওয়া একটি পণ্য হিসেবে দেখেননি; বই তৈরি ও গল্প বলার পুরো প্রক্রিয়াটিকেই তিনি শিল্পের অংশ হিসেবে ধরে রেখেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে The Time Traveler’s Wife এবং Her Fearful Symmetry সবচেয়ে পরিচিত হলেও তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু দুই উপন্যাসে সীমাবদ্ধ নয়। The Night Bookmobile একটি ধারাবাহিক graphic novel হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল; Raven Girl প্রকাশিত হয় illustrated novella হিসেবে এবং Royal Opera House-এর ballet production-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিল। Eddie Campbell-এর সঙ্গে Bizarre Romance তাঁর লেখক ও শিল্পী—দুই পরিচয়ের মিলিত রূপের আরেকটি উদাহরণ।
আজকের দিনে অড্রে নিফেনেগারের সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় তাঁর жанর-ভাঙা লেখার মধ্য দিয়ে। তিনি নিখাদ রোমান্স লেখেন না, নিখাদ সায়েন্স ফিকশনও নন, আবার প্রচলিত ক্রাইম-থ্রিলারও নন। তাঁর গল্পে সময়, ভূত, মৃত্যু, রহস্য, শিল্প, প্রেম ও পারিবারিক সম্পর্ক একই বৃত্তে এসে দাঁড়ায়। তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনে হয়তো এই কারণটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তিনি অসম্ভব ঘটনাকে ব্যবহার করেন খুব সম্ভব, খুব মানবিক অনুভূতিগুলোকে আরও গভীর করে দেখার জন্য।
এবং তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই: সাহিত্যিক হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। বহু বছর শিল্পচর্চা, শিক্ষকতা, ছোট পরিসরে বই তৈরি এবং প্রকাশ না পাওয়া লেখার পর চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর প্রথম উপন্যাস বিশ্বজুড়ে পাঠকের হাতে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালেও তিনি সক্রিয় সৃজনশীল জীবনে আছেন। তাঁর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, The Time Traveler’s Wife-এর পরবর্তী কাহিনি Life Out of Order, যা Henry ও Clare-এর মেয়ে Alba DeTamble-কে কেন্দ্র করে লেখা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশের জন্য নির্ধারিত। তাই তাঁর জীবনী এখনো সমাপ্ত অধ্যায়ের গল্প নয়; বরং নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে চলা এক লেখকের গল্প।
একটি বিষয় বিশেষভাবে সংশোধনযোগ্য: অড্রে নিফেনেগার মারা যাননি। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী তিনি জীবিত এবং সাহিত্য ও শিল্পচর্চায় সক্রিয়। ফলে তাঁর জীবনীতে ‘মৃত্যু’ অংশটি মৃত্যুর বিবরণ হিসেবে নয়, বরং তাঁর লেখায় মৃত্যু ও পরজীবনের পুনরাবৃত্ত থিম হিসেবে আলোচনা করাই সঠিক। তাঁর সৃষ্টিতে মৃত্যু প্রায়ই সমাপ্তি নয়—বরং স্মৃতি, সম্পর্ক এবং মানুষের অমীমাংসিত আকাঙ্ক্ষার আরেকটি দরজা।
সম্পাদনা-নোট: অড্রে নিফেনেগারের The Time Traveler’s Wife প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে, যখন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। প্রথম উপন্যাস প্রকাশের আগেই তিনি দীর্ঘদিন শিল্পী, প্রিন্টমেকার ও শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ছোট পরিসরে artist’s book তৈরি করেছেন। চল্লিশের পর তাঁর সাহিত্যিক পরিচিতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বইটি দ্রুত বেস্টসেলার হয়ে ওঠে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—সাহিত্যে সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। অনেক লেখকই ৪০–৫০-এর পর তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রকাশ করেছেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বসাহিত্যে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। ফলে অড্রে নিফেনেগারের যাত্রা শুধু একজন লেখকের সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেরিতে শুরু করেও নিজের স্বতন্ত্র সাহিত্যিক কণ্ঠ খুঁজে পাওয়ার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।
Note: Info collected from The Guardian, www-audreyniffenegger-com