এআই নিয়ে হুদাই প্যানিক ছড়ানো হচ্ছে!
বিখ্যাত বিজ্ঞানী মিশিও কাকু তার 'ফিজিক্স অব দ্য ফিউচার' বইয়ে (বইটি আমি অনুবাদ করেছিলাম) এআই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ বিস্তারিত আলাপ করেছেন, সেখানে ভীতিকর কিছু নেই। এমনকি শুধু বিচার ব্যবস্থা বাদে বাকি সবকিছু একসময় এআইয়ের কাছে চলে যাবে হয়ত, তবে এআইকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মানুষের হাতেই থাকবে শেষপর্যন্ত। মানুষের বুদ্ধিমত্তার তুলনায় এআইয়ের বুদ্ধিমত্তা এখন পর্যন্ত বলা যায় একটি তেলাপোকার মস্তিষ্কের সমান!
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এআই সংক্রান্ত এই প্যানিক বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ হতে পারে, যাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ভয়ে এআইয়ের সুযোগ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এআইয়ের যথাযথ এবং যুক্তিসংগত ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুন্নত দেশগুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সমূহ সুফল ভোগ করতে পারবে, বিশেষ করে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারবে। এইটা অনেক উন্নত দেশ বোধহয় চাচ্ছে না! এআই নিয়ে একটা প্যানিক তৈরি এবং মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে সেই প্যানিক ছড়িয়ে দিয়ে অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন প্রক্রিয়ার যাত্রা স্তিমিত করার ষড়যন্ত্র হতে পারে সাম্প্রতিক এই এআই বিতর্কের পেছনের রহস্য!
আমাদের করণীয় হলো, ব্যক্তিক এবং প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এআইয়ের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা মনিটরিং করা। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় সায়েন্টিফিক ফিউচারিস্টদের নিয়মিত পরামর্শ গ্রহণ করা, যাতেকরে জনগণের কল্যাণ ও সেবার বিপরীত কোনও ধরণের কর্মকান্ডে এআইয়ের ব্যবহার না-হয় এবং নৈতিক নীতির ব্যতয় না-ঘটে , সেটি নিশ্চিত করা।