Article

৪০ এ প্রথম বই (Richard Adams) পর্ব_৯

October 1, 2026

11 views

Biography

নিজেকে এখনো লেখক বলতে পারি না। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার প্রথম এবং একমাত্র বই প্রকাশিত হয় আমার ৪০ বছর বয়সে। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করছিল যে ৪০ বছর বয়সে থ্রিলার লেখকরা কেমন ছিলেন। পড়েছি, জেনেছি এবং জানাতে চাচ্ছি। ১০ জন লেখক এলোমেলো ভাবে বাছাই করেছি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী চেষ্টা করবো তুলে ধরতে।

সিরিজের নাম দিলাম “৪০ এ প্রথম বই”…

#পর্ব_৯

***

Richard Adams: খরগোশের গল্পের আড়ালে ভয়, স্বাধীনতা ও বেঁচে থাকার এক মহাকাব্য

Richard Adams (1920-2016)

কখনো কখনো একজন মানুষ জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় পার করে দেওয়ার পর আবিষ্কার করেন, তাঁর আসল পরিচয়টি এতদিন কোথাও লুকিয়ে ছিল।

Richard Adams-এর জীবন অনেকটা তেমনই।

তিনি পেশায় ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। লেখক হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন, যুদ্ধ শেষে Oxford-এ ফিরে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তারপর দীর্ঘদিন civil service-এ চাকরি করেছেন।

তারপর একদিন গাড়িতে দুই মেয়েকে গল্প বলতে গিয়ে তিনি বললেন, “একদিন Hazel আর Fiver নামে দুটি খরগোশ ছিল…”

সেখান থেকেই জন্ম নিল এমন একটি গল্প, যা পরবর্তীতে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাসে পরিণত হবে।

Watership Down।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বইটির নায়করা মানুষ নয়। তারা খরগোশ।

কিন্তু তাদের ভয় মানুষের ভয়।

তাদের রাজনীতি মানুষের রাজনীতি।

তাদের যুদ্ধ মানুষের যুদ্ধ।

তাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।

আর তাদের বেঁচে থাকার লড়াই এতটাই বাস্তব যে বইটি পড়তে পড়তে একসময় পাঠক ভুলে যায়, সে আসলে খরগোশের গল্প পড়ছে।

শৈশব ও পরিবার

Richard George Adams জন্মগ্রহণ করেন ৯ মে ১৯২০ সালে, ইংল্যান্ডের Berkshire-এর Newbury শহরে।

তাঁর বাবা Evelyn Adams ছিলেন একজন country doctor এবং মা Lilian Adams।

Berkshire-এর গ্রামাঞ্চল, নদী, পাহাড়, Downs এবং বন্যপ্রাণীর সঙ্গে তাঁর ছোটবেলার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর লেখার মধ্যে ইংল্যান্ডের countryside যে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তার বীজ সম্ভবত এই শৈশবেই তৈরি হয়েছিল।

নিজের autobiography The Day Gone By-তে তিনি Berkshire-এর landscape এবং Downs-এর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা লিখেছেন।

ছোটবেলায় বই পড়ার প্রতিও তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। Thomas Hardy, Charles Dickens, Treasure Island, Uncle Tom's Cabin এবং পরবর্তীতে Jane Austen তাঁর পাঠজীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর মেয়ে Juliet-এর স্মৃতিচারণ থেকেও জানা যায়, বই তাঁর কাছে শুধু বিনোদন ছিল না; কঠিন সময়ে বই ছিল এক ধরনের আশ্রয়।

এই বিষয়টি তাঁর ভবিষ্যৎ লেখকজীবন বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ Richard Adams-এর গল্পে adventure থাকলেও তার নিচে সবসময় মানুষের মৌলিক কিছু প্রশ্ন থাকে।

আমি কে?

আমি কোথায় নিরাপদ?

স্বাধীনতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

বেঁচে থাকার জন্য কতদূর যাওয়া যায়?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

যদি নিজের ঘরটাই নিরাপদ না থাকে, তখন মানুষ কোথায় যাবে?

Oxford এবং যুদ্ধ

Richard Adams Worcester College, Oxford-এ ইতিহাস পড়তে শুরু করেন।

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাঁর জীবনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।

১৯৪০ সালে তাঁকে সেনাবাহিনীতে ডাকা হয়। তিনি Royal Army Service Corps-এ যোগ দেন এবং Palestine, Europe ও Far East-এ দায়িত্ব পালন করেন।

যুদ্ধ তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলে।

বিশেষ করে নেতৃত্ব, ভয়, আনুগত্য, যুদ্ধ, মৃত্যু এবং সৈনিকদের মানসিকতা সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা পরে Watership Down-এর চরিত্র নির্মাণে কাজে আসে।

এমনকি বইটির Bigwig চরিত্রের পেছনেও যুদ্ধের একজন officer-এর প্রভাব ছিল বলে Adams নিজেই জানিয়েছিলেন। Bigwig শক্তিশালী যোদ্ধা, কঠিন পরিস্থিতিতে ভয়ংকর, কিন্তু আদেশ ও নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক জটিল।

যুদ্ধ শেষে তিনি Oxford-এ ফিরে গিয়ে ইতিহাসের পড়াশোনা শেষ করেন।

তারপর শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ সরকারি চাকরির জীবন।

Civil servant থেকে লেখক

যুদ্ধের পর Richard Adams British civil service-এ যোগ দেন।

তিনি Ministry of Housing and Local Government এবং পরে Department of the Environment-এ কাজ করেন।

বহু বছর তাঁর জীবন ছিল অফিস, সরকারি কাজ, পরিবার এবং দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

কেউ তখন ভাবেনি, এই মানুষটিই একদিন একটি বিশাল সাহিত্যিক সাফল্যের জন্ম দেবেন।

তিনি নিজেও ভাবেননি।

আসলে Richard Adams লেখা শুরুই করেন ১৯৬৬ সালের দিকে, যখন তাঁর বয়স ৪৬। তখনও তিনি civil servant।

এখানেই তাঁর জীবন অন্য অনেক লেখকের থেকে আলাদা।

অনেক লেখক কৈশোর থেকেই লেখেন।

অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়েন।

কেউ কেউ বিশের দশকেই প্রথম বই প্রকাশ করেন।

Richard Adams লেখক হলেন জীবনের প্রায় মাঝপথ পেরিয়ে।

এবং তাঁর প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হলো আরও পরে।

Hazel আর Fiver-এর জন্ম

ষাটের দশকের মাঝামাঝি একদিন Richard Adams তাঁর দুই মেয়ে Juliet এবং Rosamond-কে নিয়ে গাড়িতে করে London থেকে Stratford-upon-Avon-এর দিকে যাচ্ছিলেন।

দীর্ঘ গাড়ি যাত্রায় মেয়েরা গল্প শুনতে চাইল।

Adams তখন নিজের মাথা থেকে একটি গল্প বানাতে শুরু করলেন।

দুটি খরগোশ।

একটির নাম Hazel।

আরেকটির নাম Fiver।

Fiver ছোট এবং অদ্ভুত এক ধরনের পূর্বানুভূতি বা prophecy-র ক্ষমতা রাখে।

সে দেখতে পায়, তাদের Warren-এর ওপর ভয়ংকর বিপদ আসছে।

কিন্তু কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।

Hazel তার ভাইয়ের কথা বিশ্বাস করে।

আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের পালানোর যাত্রা।

গল্পটি এতটাই বড় হয়ে গেল যে মেয়েরা বাবাকে বলল, এই গল্প লিখে রাখা উচিত।

Richard Adams তখন সত্যিই লেখা শুরু করলেন।

তিনি আগে কখনো fiction লেখেননি।

নিজের ভাষায়, ৫২ বছর বয়সে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে তিনি লিখতে পারেন।

এটি তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।

কারণ Watership Down প্রকাশের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৫২।

সাতবার প্রত্যাখ্যান

Watership Down কোনো publisher প্রথম দেখাতেই গ্রহণ করেনি।

বরং manuscriptটি বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়।

কমপক্ষে সাতজন publisher সেটি ফিরিয়ে দিয়েছিল।

কারও কাছে বইটি খুব বড়।

কারও কাছে এটি শিশুদের বই নয়।

কারও কাছে খরগোশ নিয়ে এত বড় উপন্যাসের বাজার নেই।

এমনকি একজন literary agent-এর পক্ষ থেকে male rabbit-এর নাম Hazel হওয়াও অস্বাভাবিক বলে আপত্তি এসেছিল।

Richard Adams হতাশ হয়েছিলেন।

এতটাই যে publisher-এর কাছ থেকে manuscript ফেরত আনার সময়ও তাঁর নিজের যেতে ইচ্ছে করত না। তাঁর স্ত্রী Elizabeth-কে পাঠাতেন manuscript সংগ্রহ করতে।

শেষ পর্যন্ত ছোট publisher Rex Collings বইটি গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালে Watership Down প্রথম প্রকাশিত হয়।

প্রথম print run ছিল মাত্র ২,৫০০ কপি।

তারপর যা ঘটল, তা সাহিত্যিক ইতিহাসের অংশ।

বইটি দ্রুত আলোচনায় আসে।

সমালোচকদের প্রশংসা পায়।

Guardian Children’s Fiction Prize এবং Carnegie Medal দুটোই জিতে নেয়।

আর ধীরে ধীরে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় বইয়ে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে বইটি ৫০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি করেছে বলে Guardian-এর obituary-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

Watership Down: শুধু খরগোশের গল্প নয়

Watership Down শুরু হয় একটি ভয় দিয়ে।

Fiver ভবিষ্যৎ বিপদ দেখতে পায়।

তাদের Warren ধ্বংস হয়ে যাবে।

কিন্তু কেউ তাকে বিশ্বাস করতে চায় না।

এখানেই প্রথম suspense তৈরি হয়।

একজন চরিত্র জানে বিপদ আসছে।

অন্যরা জানে না।

পাঠক জানে।

চরিত্রগুলো জানে না।

এই dramatic irony গল্পের শুরু থেকেই tension তৈরি করে।

শেষ পর্যন্ত Hazel, Fiver এবং তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকটি খরগোশ Warren ছেড়ে পালিয়ে যায়।

তারপর শুরু হয় এক বিপজ্জনক journey।

তাদের সামনে আসে মানুষ।

কুকুর।

শিকারি।

ফাঁদ।

অন্য Warren।

অজানা ভূখণ্ড।

ক্ষুধা।

আতঙ্ক।

আর শেষ পর্যন্ত General Woundwort।

একজন thriller লেখকের কাছে এই উপাদানগুলো খুব পরিচিত।

কিন্তু Adams এগুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যে একটি animal fantasy ধীরে ধীরে survival thriller, political drama এবং epic adventure-এর রূপ নেয়।

Hazel: নেতা, নায়ক নয়

Hazel চরিত্রটির বিশেষত্ব হলো সে traditional superhero নয়।

সে সবচেয়ে শক্তিশালী নয়।

সবচেয়ে ভয়ংকর যোদ্ধাও নয়।

কিন্তু সে মানুষের মতো একটি জিনিস জানে।

কখন নিজের শক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং কখন অন্যের শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে।

সে Fiver-এর অস্বাভাবিক ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়।

Bigwig-এর শক্তিকে কাজে লাগায়।

Blackberry-এর বুদ্ধি ব্যবহার করে।

এবং নিজের দলের নিরাপত্তাকে ব্যক্তিগত অহংকারের ওপরে রাখে।

Hazel-এর leadership-এর মধ্যে Adams-এর নিজের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার ছাপও দেখা যায় বলে সাহিত্য সমালোচনায় আলোচনা হয়েছে।

Fiver: ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়া এক অস্বস্তিকর চরিত্র

Fiver সম্ভবত বইটির সবচেয়ে thriller-like চরিত্র।

সে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু অনুভব করতে পারে।

কিন্তু সমস্যা হলো, সে যা দেখতে পায়, তা অন্যদের বোঝাতে পারে না।

এখানেই তার চরিত্রের ভয়।

একজন মানুষ যদি জানে সামনে ভয়ংকর কিছু ঘটবে, কিন্তু কাউকে বোঝাতে না পারে?

এই ধারণাটি thriller-এ বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে।

কিন্তু Adams এটি ব্যবহার করেছেন একটি ছোট খরগোশের মাধ্যমে।

Fiver শুধু ভবিষ্যৎ দেখে না।

সে পাঠকের মধ্যে অস্বস্তিও তৈরি করে।

কারণ তার ভয়কে শুরুতে কেউ বিশ্বাস করে না।

কিন্তু পাঠক ধীরে ধীরে বুঝতে পারে—

Fiver সম্ভবত ঠিকই বলছে।

General Woundwort: Adams-এর সবচেয়ে ভয়ংকর villain

Watership Down-এর সবচেয়ে memorable চরিত্রগুলোর একজন General Woundwort।

সে শুধু শক্তিশালী নয়।

সে ভয়ংকর।

সে নেতৃত্ব দেয় Efrafa নামের Warren-কে।

কিন্তু তার নেতৃত্ব স্বাধীনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

তার Warren-এ আছে নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা এবং ভয়।

এই জায়গায় Watership Down শুধু adventure story থাকে না।

এটি power এবং authoritarian leadership-এর গল্প হয়ে ওঠে।

Guardian-এর একটি পুরোনো review-তে Woundwort-কে এমন এক শাসক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার Warren-এর সঙ্গে যুদ্ধ Hazel-এর দলকে সবচেয়ে বড় সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।

Richard Adams অবশ্য বারবার বলেছেন, বইটি কোনো নির্দিষ্ট political allegory হিসেবে লেখেননি।

তিনি এটিকে মূলত খরগোশের গল্প হিসেবেই দেখেছেন।

তবু পাঠক নিজের অর্থ খুঁজে নিয়েছে।

এটাই বড় সাহিত্যের একটি বৈশিষ্ট্য।

লেখক হয়তো একটি গল্প বলেন।

পাঠক তার মধ্যে নিজের পৃথিবী খুঁজে পায়।

Lapine: নিজের পৃথিবী তৈরি করার ক্ষমতা

Watership Down-এর আরেকটি অসাধারণ দিক হলো Adams-এর তৈরি rabbit language, Lapine।

খরগোশদের নিজস্ব শব্দ, সংস্কৃতি, mythology এবং সামাজিক কাঠামো আছে।

ফলে পাঠকের মনে হয়, এগুলো মানুষের পোশাক পরানো খরগোশ নয়।

এরা সত্যিই নিজেদের একটি পৃথিবীতে বাস করে।

এটি thriller লেখকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

একটি গল্পের জগৎ যত বিশ্বাসযোগ্য হয়, বিপদ তত বেশি বাস্তব মনে হয়।

Adams শুধু চরিত্র বানাননি।

তিনি তাদের সংস্কৃতি বানিয়েছেন।

তাদের ভাষা বানিয়েছেন।

তাদের mythology বানিয়েছেন।

তাদের social structure বানিয়েছেন।

আর সেই কারণেই পাঠক যখন তাদের বিপদে পড়ে যেতে দেখে, তখন বিষয়টি অদ্ভুতভাবে ব্যক্তিগত হয়ে যায়।

যুদ্ধের ছায়া

Richard Adams-এর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা Watership Down-এ বিভিন্নভাবে ফিরে এসেছে।

যুদ্ধের ভয়।

দলগত নেতৃত্ব।

আদেশ মানা।

যোদ্ধার মানসিকতা।

শত্রুর Warren।

অবরোধ।

আক্রমণ।

আত্মত্যাগ।

এই উপাদানগুলো বইটিকে শিশুদের সাধারণ animal fantasy থেকে অনেক বেশি পরিণত করে।

সমালোচকেরা লক্ষ্য করেছেন, তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতা গল্পের নেতৃত্ব ও সংঘাতের কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছিল।

Shardik: খরগোশের পর এক বিশাল ভালুক

Watership Down-এর সাফল্যের পর Richard Adams আর কখনো সাধারণ civil servant হিসেবে ফিরে যাননি।

১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় Shardik।

এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের উপন্যাস।

এখানে রয়েছে একটি বিশাল ভালুক, ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনীতি, ক্ষমতা, যুদ্ধ এবং মানুষের অন্ধ বিশ্বাস।

একজন শিকারি একটি বিশাল ভালুক দেখতে পায় এবং তাকে দেবতার পুনরাগমন হিসেবে বিশ্বাস করা শুরু হয়।

এরপর সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা, ধর্ম এবং রাজনীতির সংঘাত তৈরি হয়।

বইটি Watership Down-এর মতো জনপ্রিয় হয়নি।

কিন্তু এটি দেখিয়ে দেয়, Adams এক বইয়ের লেখক ছিলেন না।

The Plague Dogs: এখানেই Adams সবচেয়ে অন্ধকার

Richard Adams-এর thriller বা dark fiction-এর দিকটি দেখতে চাইলে The Plague Dogs অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের কেন্দ্রে দুটি কুকুর।

তারা একটি animal research laboratory থেকে পালিয়ে যায়।

কিন্তু বাইরে বেরিয়ে তারা মুক্তি পায় না।

বরং তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিশাল search।

তাদের ধরার জন্য মানুষ বেরিয়ে পড়ে।

তারা পাহাড়, বন এবং গ্রামাঞ্চলের মধ্য দিয়ে পালাতে থাকে।

এর মধ্যে রয়েছে ভয়, ক্ষুধা, isolation, pursuit এবং মৃত্যুর আশঙ্কা।

অর্থাৎ বইটির কাঠামোর মধ্যে একটি classic fugitive thriller-এর শক্তিশালী উপাদান রয়েছে।

দুটি প্রাণী পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

তাদের পেছনে বিশাল একটি system।

তারা জানে, ধরা পড়লে তাদের কী হতে পারে।

আর পাঠক জানে, সময় যত যাচ্ছে, তাদের বিপদ তত বাড়ছে।

Guardian-এর obituary-তেও The Plague Dogs-কে laboratory থেকে পালিয়ে যাওয়া দুটি কুকুরের গল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং animal rights-এর বিষয়টি এতে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে।

Adams নিজেও জীবনের শেষ দিকে বলেছিলেন, তাঁর নিজের বিচারে The Plague Dogs হয়তো তাঁর সেরা কাজ হতে পারে।

Thriller লেখার ক্ষেত্রে Richard Adams কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Richard Adams প্রচলিত অর্থে thriller writer ছিলেন না।

কিন্তু তাঁর গল্পের ভেতরে thriller-এর কয়েকটি মৌলিক শক্তি অত্যন্ত স্পষ্ট।

প্রথমটি হলো survival।

চরিত্র বাঁচবে কি না, সেটিই যখন গল্পের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, তখন পাঠক স্বাভাবিকভাবেই পরের পৃষ্ঠা খুলতে বাধ্য হয়।

দ্বিতীয়টি হলো pursuit।

একটি দল পালাচ্ছে।

আর কেউ তাদের খুঁজছে।

এই simple structure অসংখ্য thriller-এর ভিত্তি।

তৃতীয়টি হলো unknown territory।

চরিত্ররা জানে না সামনে কী আছে।

তারা নতুন জায়গায় ঢুকছে।

প্রতিটি বাঁক নতুন বিপদ।

চতুর্থটি হলো fear without constant violence।

Adams জানতেন, ভয় তৈরি করতে প্রতিটি পৃষ্ঠায় হত্যা দেখানোর প্রয়োজন নেই।

একটি ফাঁদ যথেষ্ট।

একটি অদৃশ্য শিকারি যথেষ্ট।

একটি বন্ধ Warren যথেষ্ট।

একটি অচেনা গন্ধ যথেষ্ট।

অথবা এমন একজন শত্রু, যে কোথায় আছে কেউ জানে না।

শিশুদের ভয় দেখাতে তিনি ভয় পেতেন না

Richard Adams-এর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস ছিল, শিশুদের সবসময় অতিরিক্ত নিরাপদ গল্প দেওয়া উচিত নয়।

তিনি তাঁর মেয়েদের bedtime story বলার সময় ইচ্ছা করেই ভয়ংকর গল্প বলতেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন, শিশুরা ভয়, দুঃখ এবং উত্তেজনার গল্পও গ্রহণ করতে পারে।

তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি শিশুদের “talk down” করতে চাইতেন না।

তিনি মনে করতেন পাঠককে upset, excited এবং emotionally affected করার ক্ষমতা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই চিন্তাটি thriller লেখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ পাঠককে সবসময় আরাম দেওয়া গল্পের কাজ নয়।

কখনো গল্পের কাজ হলো পাঠককে অস্বস্তিতে ফেলা।

কখনো ভয় দেখানো।

কখনো কাঁদানো।

কখনো এমন একটি দৃশ্য দেখানো, যেটি বই বন্ধ করার পরও মাথার ভেতরে থেকে যায়।

তাঁর কাছে গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল গল্প নিজেই

Watership Down-কে নিয়ে অসংখ্য interpretation হয়েছে।

কেউ একে political allegory বলেছেন।

কেউ Christianity-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

কেউ authoritarianism দেখেছেন।

কেউ revolution দেখেছেন।

কিন্তু Richard Adams এসব ব্যাখ্যার অনেকটাই প্রত্যাখ্যান করতেন।

তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি মূলত একটি গল্পই লিখেছেন।

দুটি মেয়েকে গাড়িতে গল্প বলতে বলতে যে গল্পের জন্ম, সেটিই পরে বই হয়েছে।

এখানে একজন লেখকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে।

সব গল্পকে শুরুতেই “বড় অর্থ” দিয়ে লিখতে হয় না।

কখনো একটি ভালো গল্পই যথেষ্ট।

চরিত্রগুলোকে সত্যি করে তুলুন।

তাদের সামনে বিপদ দাঁড় করান।

তারপর দেখুন তারা কী করে।

পাঠক নিজের অর্থ নিজেই খুঁজে নেবে।

তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি: Journey

Richard Adams-এর গল্পে journey খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Hazel এবং Fiver ঘর ছেড়ে বের হয়।

তারা জানে না কোথায় যাবে।

তাদের সামনে বিপদ।

কিন্তু ফিরে যাওয়ার পথও নেই।

এটি শুধু geographical journey নয়।

এটি character journey।

ভয় পাওয়া Fiver ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠে।

Hazel ধীরে ধীরে leader হয়ে ওঠে।

Bigwig শুধু যোদ্ধা থাকে না, দলের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

আর পাঠকও তাদের সঙ্গে বদলে যায়।

একজন thriller লেখক যদি চরিত্রের journey-কে suspense-এর সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারেন, তাহলে গল্প অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।

কারণ তখন পাঠক শুধু জানতে চায় না, “এরপর কী হবে?”

সে জানতে চায়—

এই মানুষটি শেষ পর্যন্ত কী হয়ে উঠবে?

শেষ জীবন

Watership Down-এর সাফল্যের পর Richard Adams পূর্ণকালীন লেখক হয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বহু বই লিখেছেন।

Shardik।

The Plague Dogs।

The Girl in a Swing।

Maia।

The Iron Wolf and Other Stories।

এবং বহু বছর পর আবার Watership Down-এর পৃথিবীতে ফিরে গিয়ে Tales from Watership Down প্রকাশ করেন ১৯৯৬ সালে।

তিনি Royal Society of Literature-এর Fellow নির্বাচিত হন ১৯৭৫ সালে।

Animal welfare-এর প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। ১৯৮০ সালে তিনি Royal Society for the Prevention of Cruelty to Animals-এর president হন, যদিও পরবর্তীতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে Richard Adams ১৯৪৯ সালে Elizabeth Acland-কে বিয়ে করেন।

তাঁদের দুই কন্যা, Juliet এবং Rosamond।

এই দুই মেয়ের জন্যই এক দীর্ঘ গাড়ি যাত্রায় বলা হয়েছিল সেই প্রথম গল্পটি, যা পরে Watership Down হয়ে যায়।

অর্থাৎ তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বইটির জন্ম কোনো publishing office-এ নয়।

জন্ম হয়েছিল একজন বাবার মুখে বলা গল্প থেকে।

মৃত্যু

Richard Adams ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান।

তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত Berkshire ও Hampshire-এর countryside-এর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ধরে রেখেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই শুধু একটি bestselling novel ছিল না।

Watership Down তখন ইতোমধ্যে কয়েক প্রজন্মের পাঠকের কাছে একটি literary classic।

এমন একটি বই, যার চরিত্ররা খরগোশ হলেও তাদের ভয়, সাহস, বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, নেতৃত্ব এবং মৃত্যুভয় ছিল একেবারে মানুষের মতো।

একজন Thriller লেখকের জন্য Richard Adams-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা

Richard Adams-এর কাছ থেকে thriller লেখার সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত হলো—

বিপদকে শুধু দেখাবেন না। বিপদের দিকে চরিত্রকে হাঁটিয়ে নিয়ে যান।

Hazel এবং Fiver যখন Warren ছেড়ে বেরিয়ে যায়, তখন পাঠক জানে না তারা কোথায় যাবে।

তারা নিজেরাও জানে না।

এই অজানাই গল্পের শক্তি।

তারপর প্রতিটি নতুন জায়গা নতুন বিপদ তৈরি করে।

একটি অচেনা Warren।

একটি ফাঁদ।

একটি শিকারি।

একটি কুকুর।

একটি অদৃশ্য শত্রু।

তারপর General Woundwort।

এভাবে বিপদ ধীরে ধীরে বড় হয়।

একজন thriller লেখকের জন্য এই escalation অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি শিক্ষা হলো—

শক্তিশালী villain সবসময় গল্পের শুরুতে সামনে আসতে হয় না।

Woundwort-এর ভয় তৈরি হয় তার উপস্থিতির আগেই।

তার Warren সম্পর্কে কথা হয়।

তার ক্ষমতার কথা শোনা যায়।

তার সৈন্যদের কথা শোনা যায়।

তারপর সে আসে।

এই technique thriller-এ ভয়ংকর কার্যকর।

যে villain সম্পর্কে পাঠক আগে থেকেই শুনেছে, কিন্তু এখনও দেখেনি, তাকে দেখানোর মুহূর্তে আলাদা এক ধরনের tension তৈরি হয়।

Richard Adams সেটি খুব ভালোভাবে বুঝেছিলেন।

আর তাঁর তৃতীয় শিক্ষা—

পাঠককে ছোট করে দেখবেন না।

শিশু পাঠকও ভয় বুঝতে পারে।

শিশু পাঠকও মৃত্যু বুঝতে পারে।

শিশু পাঠকও betrayal বুঝতে পারে।

শিশু পাঠকও একটি চরিত্রকে ভালোবেসে তার জন্য ভয় পেতে পারে।

তাই গল্পকে শুধু “শিশুদের জন্য” বলে সহজ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

Richard Adams তাঁর পাঠকদের ভয় দেখিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, উত্তেজিত করেছেন এবং একই সঙ্গে তাদের একটি বিশাল পৃথিবীর মধ্যে নিয়ে গেছেন।

এই কারণেই তাঁর খরগোশেরা আজও শুধু খরগোশ নয়।

তারা সাহসের প্রতীক।

তারা স্বাধীনতার প্রতীক।

তারা বেঁচে থাকার প্রতীক।

আর একজন thriller লেখকের কাছে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রেখে যায়—

যখন নিজের ঘর নিরাপদ থাকে না, তখন পৃথিবীর প্রতিটি অচেনা পথই একটি সম্ভাব্য গল্প।

সম্পাদনা-নোট

Richard Adams প্রচলিত অর্থে thriller writer ছিলেন না। তাঁর মূল পরিচয় fantasy, adventure এবং animal fiction-এর একজন অসাধারণ কথাশিল্পী হিসেবে। তবে Watership Down-এ prophecy, escape, pursuit, survival, political power, fear এবং General Woundwort-এর মতো ভয়ংকর antagonist-এর ব্যবহার একে thriller-এর দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। আর The Plague Dogs-এ laboratory থেকে পালিয়ে যাওয়া দুটি কুকুরের survival ও pursuit আরও সরাসরি thriller-এর কাঠামোর কাছাকাছি চলে যায়।

Richard Adams-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, গল্পের চরিত্র মানুষ না হলেও তাদের ভয়কে মানুষের মতো সত্যি করে তুলতে পারলে পাঠক তাদের জন্য নিজের জীবনের মতোই ভয় পাবে।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login