Novel

তুষার কন্যা পর্ব-৭

October 1, 2026

6 views

কোথায় গিয়েছিলেন নীলিমা

কিছুক্ষণ আগে যে দাসিটি নীলিমার কক্ষে প্রবেশ করেছিলো সে এই প্রশ্নটি করলো

নাম ধরে ডাকছো কোন সাহসে

কিহ?

বাংলা বুঝো না বলছি নামা ধরে থাকছো কেন আমি এই রাজ্যের রাজকন্যা

কিন্তু তুমিই তো একটু আগে বল্লে যে তোমার নাম ধরে ডাকতে তুমি নাকি আমার চেয়ে ছোট তাই

দাসিটিকে তার কথা শেষ না করতে দিয়ে নীলিমা বল্ল যেটা চলে গেছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না এখন থেকে সবাই আমাকে রানী বলবে আর শুধুই রানী। রানী নীলিমা না শুধু রানী বলবে বুঝতে পেরেছো

আরেকটি দাসি পাশ থেকে বলে উঠে কিন্তু আপনি তো মাত্র ১৫ বছর বয়সি আপনি তো এখনো রাজকন্যা তাহলে রানী কেন বলবো

নীলিমা একটু বিরক্ত হলো কিন্তু সে তা প্রকাশ না করে বল্ল আজ থেকে আমি নীলিমা আমাকে এই মায়া নগর রাজ্যের নতুন রানী ঘোষনা করলাম যে এটা না মানবে তার প্রাণ আমি নিজের হাতে নিবো

এই কথাটি বলে নীলিমা ধেই ধেই করে তার কক্ষে প্রবেশ করলো

দাসিরা বুঝতে পারছে না যে নীলিমার কি হলো সে কি অভিশাপ প্রাপ্ত হয়েছে? অভিশাপ প্রাপ্ত হোক আর না হোক কিন্তু উনার কিছু তো হয়েইছেই না হলে তো উনি এমনা না

মনে হয় ওনার অভিশাপ লেগেছে

একটি দাসির এমন কথা শুনে আরেকটি দাসি বল্ল এটা আবার কেমন অভিশাপ যেই অভিশাপে নিজেকে রানী দাবি করে

আহহা এটা হয়তো তার অভিশাপের ছোট্ট এটা নমুনা

হতে পারে কিন্তু নিশ্চিত হওয়াটাও তো জরুরি

ঠিকাছে চল পরিক্ষা করি

কিভাবে করবো

দাসিটি তার কক্ষে চলে গেলো কিছু সময় পরে সে আবার চলেও এলো তবে খালি হাতে না তার হাতে কিছু একটা আছে একটা লাল পুঁটলি পুঁটলির ভেতরে কলসের মতো কিছু একটা আছে

এটা কি?

ছাই

এই ছাই দিয়ে কি হবে শুনি

এটা। দিয়েই বুজা যাবে রাজকন্যা নীলিমা অভিশাপ প্রাপ্ত কি না

এটা পেলে কোথায় তুমি?

আমার বাবার বন্ধু হুজুর ছিলো সে অনেক কিছু জানতো তার কাছ থেকে বাবা এই ছাই গুলো এনেছিলো বাবার কোন কাজে লাগেনি তাই আমি এটা সাথে করে নিয়ে এসেছি

এটা কিভাবে কাজ করবে

এই ছাইটা যদি কোন রকম ভাবে রাজকন্যার মাথায়

ফেলা যায় তাহলে ছাইটা যদি লাল হয় তাহলে বোঝা যাবে সে অভিশপ্ত আর যদি এটা স্বাভাবিকই থাকে তাহলে বোঝা যাবে রাজকন্যা স্বাভাবিক

কিন্তু রাজকন্যা কি তার মাথায় ফেলতে দেবে ছাইটা

বোকা নাকি একটা ভালো মানুষও তো ফেলতে দেবে না আর সে তো রাজকন্যা তার ওপর এখন সে স্বাভাবিক ও নয় সে কি প্রশ্ন করবে না এটা কি জন্য তখন কি বলবো

ঠিক আছে ঠিক আছে যা করার করো

এতক্ষণ আশেপাশে সব দাস-দাসীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদের দুজনের কথা শুনছিল এখন তারাও খুব উৎসাহিত এটি দেখার জন্য যে রাজকন্যা অভিশপ্ত নাকি অভিশপ্ত নয়

কে নেবে ঝুঁকি

পাশ থেকে একটি দাসী এই কথাটি বলে উঠলো

যার ছাই সে নিবে

যে দাসীতি এই কথাটি বলল সে ওই ছাই যে দাসীতি এনে ছিল তাকে দেখতে পারে না তাই তাকে বিপদে ফেলার

জন্য এই কথাটি বল্ল

তুমি যাও আমি কেন যাবো

আসলে এসেও ওই দেশে ঠিকই দেখতে পারে না তাই সেও তাকে বিপদে ফেলতে চায়

তাদের এমন ঝগড়া শুনে আরেকটি দাসী বলল ঠিক আছে ঠিক আছে কাউকে যেতে হবে না আমি যাচ্ছি

এই দাসীতি ছিল খুবই সাহসী তাই সে নির্দ্বিধায় এই ঝুকিটা নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলো

ঠিক আছে তাহলে চলো

ঠিক আছে

এরপর সবাই রাজকন্যা নীলিমার কক্ষের দিকে যেতে লাগলো

দুঃখের সামনে বসে তারা দেখতে পেলে নীলিমা উল্টো হয়ে আছে আর জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখছে

এটাই সুযোগ তাড়াতাড়ি যাও

যেই দাসিটি এই কাজটি করার জন্য রাজি হয়েছিল সে

এবার ওই ছাইটি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো

সে একদম পা টিপে টিপে যাচ্ছে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে সকল দাস দাসি

এরপর দাসিটি রাজকন্যার মাথার কাছে পৌঁছালো এবং ওই পুটলি থেকে মাটির ছোট্ট কলসটি বের করলো এবং ওই কলস থেকে ছাই বের করলোএকটু পরিমাণের এরপর রাজকন্যা নীলিমার মাথায় তা ছিটিয়ে দিল সাথে সাথে ছাই লাল বর্ণ ধারণ করলো

তার মাথায় যে কিছু একটা পড়েছে এটা বুঝতে পারার সাথে সাথে নীলিমা সামনের দিকে ঘুরলো

সামনে ঘুরেই সে দেখতে পেলো একটি দাসী হাতে কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

তুমি এখানে কি করছো? আর তোমার হাতে কি

দাসিটি সাহসী হলেও তার এখন একটু ভয় লাগছে

কিছু না কিছুনা রানী নীলিমা

এই তোদের বলেছি না আমাকে শুধু রানী বলতে

সাথে সাথে নীলিমার চোখ আবারও লাল বর্ণ ধারণ করল চুল গুলো বাতাসে উড়তে শুরু করলো এবং তার সামনে থাকা দুটি দাত আবারও বেড়ে গেল যা দেখে কক্ষে থাকা দাসি এবং বাইরে থাকা সকল দাস-দাসীরাই ভয় পেল

ভুল হয়ে গেছে ভুল হয়ে গেছে আর করব না

রানী নীলিমা কখনো কাউকে ক্ষমা করে না শুধু শাস্তি দেয়

এরপর নীলিমার পক্ষে থাকা দুটি তলোয়ারের মধ্যে থেকে এসে একটি তলার তুলে নিল এবং এক মুহূর্ত দেরি না করে ওই দাসীটির শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দিল

রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল পুরো কক্ষে এরপর নীলিমা তার বড় দাঁতগুলো দাসিটর কাঁটা গলায় বসিয়ে দিল এবং তার রক্ত চুষতে লাগলো

মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল একটি প্রাণ

কি দেখছো তাড়াতাড়ি চলো

একটি দাসির এমন কথা শুনে বাকি সকল দাস-দাসীই

ছুটলো বাইরের দিকে

এরপর তারা সবাই প্রাসাদের বাইরে গিয়ে একটি গাছ তলায় দাঁড়ায় এবং হাঁপাতে থাকে

ভাগ্যিস আমি যাইনি

যেই দাসিটি ছাই এনেছিল সেই দাসীতি এই কথাটি বল্লো

তাকে যেই দাসীতি বিপদে ফেলতে চেয়েছিল সেও তার মতন একই কথা বল্ল

এটা কেমন অভিশাপ এত নৃশংসতা

আমার মনে হয় ওনাকে রাক্ষসী হওয়ার অভিশাপ দিয়েছে

না দাঁড়াও এটা রাক্ষসী না এটা অন্য কিছু

কি এটা

এই অভিশাপকে বলে তুষার কন্যা

সেটা কি

এটাই এমন একটি অস্তিত্ব যা সবকিছু ধ্বংস করতে সক্ষম এরা মানুষের রক্ত কে বেঁচে থাকে এরা যখন

কোন রাজ্যে থাকে তখন সেই রাজ্যে অন্য কোন রীতুর আগমন ঘটতে পারে না বছরের ১২ টি মাসি ওই রাজ্যে শীতকাল থাকবে যেমন এখন আমাদের রাজ্য সব সময়ের জন্য শীতকাল থাকবে

কথাটি বলার সাথে সাথেই আকাশ থেকে

একটু একটু করে বরফ পড়তে শুরু করলো

ওই দেখো শুরু হয়ে গেছে

এখন কি করবো আমরা

এখন আমাদের কিছু করার নেই শুধু ওর আসল ভাই-বোনদের খুঁজতে হবে

কিন্তু তারা কোথায় আছে কিভাবে আছে তা তো আমরা কিছুই জানিনা

সেটাই তো খুঁজতে হবে আমাদের

যা করার পরে করা যাবে আগে এখান থেকে চলো

হ্যাঁ চল চল তাড়াতাড়ি চল

এরপর সকল দাস-দাসীরা চলে গেল এবং পুরো রাজ্যে

ছড়িয়ে পড়ল উক্ত ঘটনাটি

অনেকেই রাজ্য ছেড়ে চলে গেছে নিজের প্রাণের ভয়ে আবার অনেকেই রয়ে গেছে জন্মভূমির টানে। তাদের কথা অনুযায়ী যেখানে জন্মেছি সেখানে মরবো এবং হচ্ছেও তাই তুষার কন্যা নীলিমা প্রতিনিয়তই কাউকে না কাউকে খুন করে তার রক্ত চুষে নিজের পিপাশা মিটাচ্ছে

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login