তিন মাস পর……
নীল নীল এই নীল
কি হয়েছে এত সকালে ডাকছিস কেন ঘুমাতে দে
এত সকাল মনে হচ্ছে তোর। এখন ১০ টা বাজে আর তুই এখনো পরে পরে ঘুমাচ্ছিস
নীলার কথা শুনে নীল যেন এক প্রকার লাফ দিয়ে শোয়া থেকে বসে পড়লো
কিহ এত বাজে আমি এতক্ষন ঘুমালাম কিভাবে
যেটা তো তুই বলবি
কি জানি কাল রাতে ঘুমাতে দেড়ি হয়েছিল হয়তো এর জন্য এমন হচ্ছে
যাই হোক বাদ দে এখন উঠ
নীল উঠে পড়লো সকালের সকল কাজ কর্ম সেরে সে চলে গেলো মাছ ধরতে
অন্যদিকে নীলা তার সখের বাগানের গাছ গুলোকে
পানি দিচ্ছে এটা শুধু নীলার সখের বাগনি নয় বরং এই বাগানের কারণেই তাদের ছোট্ট সংসারটা সচ্ছাল চলছে বাগানটিতে রয়েছে বিভিন্ন সবজি ফল ও ফুলের গাছে তারা তাদের প্রয়োজন মিলিয়ে বাকি যা থাকে তা বাজারে বিক্রি করে তাদের সংসার চালায় এছাড়াও নীল যে মাছ ধরে আনে সেগুলোও তারা নিজেদের জন্য কিছু রেখে বাকিগুলো বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্যন করে তাদের সংসার চালায়
ভাগ্যর কি পরিহাশ তাই না এক রাজ্যের রাজকুমার আর রাজকুমারী নাকি মাছ বিক্রি করে আর বাগান করে নিজেদের সংসার চালায়
অতীত........
এখন এই বাচ্চাদের কি করবেন জনাব
আবশ্যই আমি রাখবো
কিন্তু আপনি ওদের দিয়ে কি করবেন
সেসব তোকে বলতে হবে
সেনাপতি একটু রাগ করেই বল্ল
ঠিকাছে জনাব আপনার যা ভালো লাগে তাই সই
আসলে আমার কোন সন্তান নেই আমি ওদের নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করবো
মুহূর্তেই সেনা পতির আচরণ পরিবর্তন হতে দেখে প্রহরিটি একটু অবাক হয়
কিছুক্ষন পর তারা প্রাসাদে পৌঁছায় রাজা তার সিংহাসনে বসে আছে সামনে মায়া নগর রাজ্যের রাজার মৃত দেহ শুইয়ে রাখা হয়েছে
জিতেছো?
আমরা না জিতলে কে জিতবে বলুন যেই রাজ্যে রাজা নেই সেই রাজ্যিা আর কতটাই বা শক্তিশালী হবে
ঠিক ঠিক
তোমার হাতে কি সেনাপতি বাচ্চা নাকি
হ্যা
কার বাচ্চা আমি তো শুনেছি তোমার কখনো বাচ্চা হবে না
ওরা আমারি বাচ্চা কিন্তু কিছুক্ষণ আগে ছিলো না
আমি বিষয়টা বুঝি নি সেনাপতি
আসলে আমার সন্তান হবে না দেখে আমি ওদের নিয়ে এসেছি
কোথায় পেলে?
পাশের রাজ্যে অর্থাৎ যেই রাজ্যে আমরা আক্রমণ করেছি ওরা সেই রাজ্যের
কিন্তু আমি তো শুনেছি তোমরা শুধু প্রাসাদে আক্রমণ করেছো তাহলে ওদের কোথায় পেলে কোন দাস দাসীর সন্তান নিয়ে এসেছো নাকি
না না ওরা দাস দাসির সন্তান না ওরা তো রাজারা সন্তান রাজ কন্যা আর রাজকুমার
কিহ তোমার এত বড় সাহস তুমি আমার শত্রুর সন্তানদের এই রাজ্যে রাখতে চাও
রাজাকে রেগে যেতে দেখে সেনাপতি বলে এতে কি সমস্যা?
সমস্যা নয়? তুমি আমার রাজ্যের চাষ করা খাবার
আমার শত্রুর সন্তানকে খাওয়াতে চাইছো এই রাজ্যের আলো বাতাসে ওরা বেড়ে উঠবে এই রাজ্যের মাটিতে ওরা হাটা চলা করবে তারপরেও বলছো কি সমস্যা
কিন্তু ওরা তো এখন আর ঐ রাজার সন্তান নয় ওরা তো এখন আমার সন্তান
যতই তুমি বলো তোমার সন্তান আসলে তো ওরা ঐ রাজার সন্তানই
দয়া করে এমন করবেন না আমি অনেক আশা করে ওদের এসেছি
ওদের কোন জায়গা হবে না আমার রাজ্যে
না আমি মানি না
দ্বিতিয় বার মানি না বল্লে তোমার প্রাণ যাবে সেনা পতি
যায় যাক তাও আমি বলবো আমি ওদের বড় করতে চাই আমি আপনার রায় মানবো না
ঠিকাছে তাহলে প্রাণ দাও
প্রহরি তোলয়ার আনো
সেনাপতি খুব ভয় পাচ্ছে তবে সে বীরের মতো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে
এই নিন তলয়ার
অতপর সে সেনাপতির মাথার ঠিক মাঝখানে তলয়ারটা ধরলো এবং তা ধীরে ধীরে নিচে নামাতে লাগলো এবং কেটে যেতে লাগলো সেনা পতি মুহূর্তেই দুই খন্ডে ভাগ
হয়ে গেলো সেনা পতি এবং শেষ হয়ে গেলো একটি প্রাণ
প্রহরি এই দুইটা লাশ দাফন করার ব্যস্থা করো আর এই দুটো উটকো ঝামেলা মানে এই বাচ্চা দুটোকে যেখানে খুশি সেখানে ফেলে দাও
কয়েকটি প্রহরি রাজা আর সেনাপতির মৃত দেহকে কবর দিতে ছুটলো আর দুইটা প্রহরি চলে গেলো নীল আর নীলাকে নিয়ে
আমাদের রাজা এত নির্দয় কেন বলতো
একটি প্রহরির কথা শুনে আরেকটি প্রহরি বলে উঠে আস্তে বল শুনলেই জীবন শেষ
ভাবছি এই কাজ আর করবো না যখন তখন প্রাণ চলে
যেতে পারে
হুম ঠিকি বলেছিস দেখলি না সেনাপতি তার হয়ে একটা রাজ্যে জয় করে আসলো অথচ ঐ সেনাপতিকে দুটি নিশপাপ বাচ্চার জন্য মেরে ফেল্ল
হুম কি আর করবো
কি করবো সেটা পরে ভাববো এখন এটা ভাব এই বাচ্চা দুটোর কি করবো
কি আর করবো রাজার আদেশ পালন করি কোথাও ফেলে দেই
বাচ্চাদের মুখে দিকে একটু দেখ
প্রহরিটি তাই করলো
দেখলাম মায়াও লাগলো এখন কি করবো বল
চল ওদের একটা সুরক্ষিত
জায়গায় রেখে আসি
পা গল নাকি রাজা জানতে পারলে আমাদের আস্ত রাখবে ভেবেছিস
আরেহ জানবে কিভাবে
ধর কোথাও রাখলাম তারপর ওদের খাওয়াবে কে এত টুকু বাচ্চা তো আর নিজেরা একা চলতে পারবে না
আল্লাহ ভরসা
ঠিকাছে মানলাম
এরপর প্রহরি দুটো একটা ছোট্ট কুরে ঘর দেখতে পেলো
চল ওখানে রেখে আসি
ঠিকাছে
এরপর তারা ঘরটির বারান্দায় নীল আর নীলিমাকে রেখে ফিরে গেলো প্রাসাদে
দিন যায় মাস যায়া বছর যায় কিন্তু বাড়িতে কোন মানুষের পা পড়ে না অথচ নীল ও নীলা একদম সুস্থ কেননা তাদের খেয়াল রেখেছিলো ঐ জ্বিনটা যে তাদের জীবনের এই নির্মম কাহিনীটা লিখেছে যত দিন না নীল ও নীলার সঠিক জ্ঞান হয়েছে এতদিন জ্বিনটা তাদের
খেয়াল রেখেছে এক কথায় তাদের বড় করে তুলেছে ঐ জ্বিনটাই
বর্তমান.........
সন্ধ্যা হয়েছে নীল বাড়িতে আসলো মাত্র নীলা বাইরের সব কাজ সেরে ঘরে বসে ছিলো
ভাই এসেছিস
তবে নীলের সাথে যেন কাউকে দেখা যাচ্ছে
কিরে ভেতরে আয়
নীলের ডাক শুনে সে ভেতরে প্রবেশ করলো এটা একটা ছেলে বয়স ১৭ হবে হয়তো নীল ও নীলার চেয়ে ২ বছরের বড়
নীলা ধীর কন্ঠে নীলকে প্রশ্ন করলো উনি কে ভাই
ও আমার বন্ধু ও আর আমি এক সাথে মাছ ধরি ওর নাম আরিফ
নীলা কথাটা আস্তে বললেও নীল বলেছিলো জোরে তাই আরিফের কানে কথাটা পৌঁছায়। নীলা একটু বিব্রত বোধ করে
আমি এসেছি দেখে কি তোমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে?
না না অসুবিধা না আসলে আমি আপনাকে চিনি না তো তাই প্রশ্নটা করলাম
ব্যাপার না ব্যাপার না এটা বেশ ভালো বিষয় অচেনা মানুষদের সাথে বেশি কথা না বলাই ভালো আমরা যখনা পরিচিত হয়ে যাবো তখন না হয় কথা হবে
নীলা একটু লজ্জা পেলো এবং বল্ল আপনি বসুন খেয়ে যাবেন আরিফ একটু মুচকি হাসলো
সবে দাড়ি উঠেছে ছেলেটার এতটুকু বয়সেই লম্বা প্রায় ৬ ফুট গায়ের রং কালো হ্যা কালোই শ্যামলা নয় তবে দেখতে সুদর্শণ যারা মনে করে সুন্দর মানে শুধু ফর্সা তাদের আরিফকে দেখা উচিত
রাত প্রায় ৯টা বাজে এতক্ষন বৃষ্টি থাকার কারণে আরিফ যেতে পারেনি এখন বৃষ্টি একটু কমেছে তাই আরিফ এখন চলে যাবে
শনো মেয়ে আমি আবার আসবো ভালো মন্দ কিছু রান্না করে রেখো
নীলা মুচকি হাসলো
আরিফও তাই করলো এবং এই সুন্দর হাসি মুখে নিয়েই
সে চলে গেলো
পরের দিন সকালে
নীলা আমি মাছ ধরতে গেলাম
খেয়ে যা কিছু
না এসে খাবো এখন আর খাবো না
ঠিকাছে যা
নীল চলে গেলো
কিছুক্ষণ পর
নীল ওই নীল বাড়ি না?
কে?
নীলার প্রশ্নের জবাবে আরিফ বলে আমি এসেছি আবার
ওহ আপনি নীলা। তো বাড়ি নেই
কোথায় গেছে
মাছা ধরতে গেছে আপনি যাননি
হ্যা আমাদের তো এক সাথেই যাওয়ার কথা ছিলো ও দেখি আমাকে রেখেই চলে গেছে
কি জানি খেয়েও যায়নি এত তারা কিসের আল্লাহ জানে
নীলা আর কথা না বাড়িয়ে ভেতরে যেতে লাগলো
শোনো মেয়ে