আমি নীলা আমাকে নীলা বলে ডাকতে পারেন
ঠিকআছে শোনো নীলা
জি বলুন
নীলা। আসা পর্যন্ত কি আমি এখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারি
নীলা একটু ভেবে বলল ঠিকআছে সমস্যা নেই
আরিফ বারান্দায় বসলো আর নীলা ভেতরে চলে গেলো
কিছুক্ষণ পর নীলা হাতে কিছু একটা এনে আরিফের পাশে রাখলো
এটা। কি?
পোলা
হ্যা ভালো কথা কিন্তু এটা এখানে এনেছো কেন
আপনার জন্য এনেছি
আমার জন্য?
হ্যা
কেন
আপনি কালকে বলে গেলেন না আপনি আবার আসবেন ভালো মন্দ রান্না করতে তাই করলাম
বাববা আমার কথা তুমি মনে রেখেছো আবার
না মনে রাখার কি আছে আপনি আমার ভাই এর বন্ধু এতটুকু তো করতেই পারি তাই না
ঠিক ঠিক
তারা দুজনেই হালকা হাসলো
নীল হতাশায় ভুগছে আজ তারা জালে মাছ আটকাচ্ছে না কেন এক ঘন্টা যাবত মাছ ধরার চেষ্টায় মগ্ন নীল তবে একটা মাছো যদি তারা জালে ফাসতো কখনো তো এমন হয় না তার সাথে তো আজকে কি হলো
কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করার পর নীল ভাবলো এত দিন এই এক পুকুরেই মাছ ধরি হয়তো মাছ শেষ হয়ে গেছে তাই জালে ভাসছে না
কথাটা পুরোপুরি যুক্তি সংগত না হলেও একে বারে ফেলে দেওয়ার মতোও না
ঠিকআছে তাহলে আজ অন্য পুকুরে যাই
যেই ভাবা সেই কাজ সে রওনা হলো পাশের পুকুরের উদ্দেশ্যে
কিছু দূর হাটার পর সে সেখানে পৌছে গেলো তবে সেখানে আগে থেকেই এক জন বসে ছিলো
এই ছেলে খবরদার এখানে জাল ফেলবে না
কিন্তু আমিও তো মাছ ধরতে চাই নাহলে সংসার চলবে কিভাবে
সেটা আমার ব্যাপার না তোমার সংসার চালানোর জন্য আমি আমার সংসার ধ্বংস করতে পারবো না
নীল মনে মনে ভাবলো কোন ধরনের মানুষ রয়েছে এই রাজ্যে কি আজব আজকে একটু মাছ ধরলে কি এমন হতো আমি কি প্রতিদিন আসি নাকি এমন একটা ভাবা করলো যেন আমি রাক্ষস আর ওনার সব মাছ খেয়ে ফেলবো আর সব মাছ খেলেই বা কি পুকুরটা তো আর তার বাপের পুকুর না
কি আর করার নীল সেখান থেকেও চলে আসলো রাজ্যে শুধু তিনটাাই পুকুর আছে যেখানে মাছ পাওয়া যায় দুটোা থেকে তো সে ঘুরেই এলো এবার সে আরেকটা পুকুরের কাছে যাবে
পুকুরটা বেশি দূরে না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই নীল পৌছে গেলো ঐ পুকুরটার কাছে তবে এ কি এখানেও তো একজন আছে
নীল ভাবলো সেও হয়তো তার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে তাই সে চলে যাওয়ার জন্য পিছনা ফিরেলো
এমন সময় লোকটা তাকে ডাক দেয়
কে তুমি এখানে কি চাই
নীল বলল আসলে আমি মাছ ধরতাম
এখানে তো আমি ধরছি তুমি বরং বাকি পুকুর গুলোতে দেখো
না আমি ওখান থেকেই আসছি এক পুকুরে মাছ নেই আরেক পুকুরে একজন আপনার মতোই মাছ ধরছে
ওহ আচ্ছা
আমি কি এখানে মাছ ধরতে পারি
এই পুকুরেও খুব একটা মাছ নেই আমিও খুব কম মাছ পাচ্ছি বিশ্বাস না হলে দেখো
নীল দেখলো লোকটা সত্যি কথাই বলছে
বুঝতে পেরেছি কিন্তু আমি যদি আজ মাছ না ধরতে পারি তাহলে খাবো কি
আচ্ছা এই রাজ্যে তো শুধু তিনটাই পুকুর তুমি তাহলে পাশের রাজ্যে গিয়ে দেখো
কিন্তু আমি তো শুনেছি পাশের রাজ্যে কিছু একটা আছে
কী আছে?
তুষার কন্যা
ধুর এগুলো কি বাস্তবে হয় নাকি এগুলো তো রূপ কথার গল্পে হয়
আমিও বিশ্বাস করি না কিন্তু আমার বোন। খুব বিশ্বাস করে তাই সে আমাকেও তার মতো করে চলতে বলে
আরেহ কিচ্ছু নেই কোথাও আমিই তো দুই তিন দিন আগে গিয়েছিলাম কই সব কিছুই তো স্বাভাবিক
সত্যি?
মিথ্যা কেন বলবো
ঠিকআছে যাই তাহলে
হ্যা যাও
নীল চলে গেলো আর মনে মনে বলল সবাই এক হয় না আগের জন কেমন করলো আর এখনএর জন কেমন করলো মানুষের ব্যবহার কারো সাথে কারো মিলে না
বাবা আমি তো মানুষ না
নীল কথা গুলো মনে মনে বললেও লোকটি সবি শুনেছে কারণ সে আসলেই মানুষ না
সে আসলে ঐ জ্বিনটি যার জন্যই এত সব কিছু হচ্ছে সে মানুষের রূপ ধরে তার কাহিনির পরবর্তী পৃষ্ঠা উলটালো
হায় হায়। আমাকে যে আরিফ ভাই ডাক দিতে বলেছিল আমার তো মনেই নেই কে জানে কি ভাবছে তাহলে আমি কি বাড়ি ফিরে যাবো
না এত দূর এসে বাড়ি ফিরে যেতে পারবো না সমস্যা নেই নীলা তো আছেই ও সবা কিছু বলে দেবে আর আমিও বাড়ি গিয়ে বলে দেবো যে ভুলে গেছিলাম
নীল আফসোস করতে করতে কথাগুলো বলল
অতপর নীল পাশের রাজ্য অর্থাৎ মায়া নগর রাজ্যে পা রাখলো সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হতে লাগলো সে এই জায়গাটা চিনে এই জায়গাটা এই রাজ্য এই রাজ্যের মাটি সব তার খুব আপন ও চেনা চেনা লাগছে যেন এখানে তার খুবআপন কেউ আছে বা ছিলো
যাই হোক নীল দূরে একটা পুকুর দেখতে পেলো পুকুরটা বেশ বড় তাদের রাজ্যে এত বড় পুকুর নেই বললেই চলে এখানে দশ থেকে বারো জন একা সাথে প্রতিদিন মাছ ধরলেও মাছের কমতি হবে না।
আচ্ছা এখানে কেউ মাছ ধরে না আশে পাশে তো কাউকে দেখছি না সব বাড়ি ঘর খালি মনে হচ্ছে সে ভুতের রাজ্যে চলে এসেছে
আর এখানে খুব ঠান্ডা যেন এটা শীত কাল তাহলে কি সত্যিই এখানে তুষার কন্যা আছে
ধুর আবার সে এই উটলো পালটা কথায় কান দিচ্ছে
নীল আর বেশি কথা না বলে মাছ উরতে শুরু করে
রক্ত রক্ত লাগবে আমার রক্ত
রাজ্যের অর্ধেক خالی হয়ে গেছে নীলিমার ভয়ে বাকিরা কোথায় যেন লুকিয়ে থাকে এখনো তাই আছে নীলিমা রক্তের খোজে আছে তার এখন রক্ত প্রয়োজন তবে আশে পাশে কেউ নেই সে তন্য তন্য করে খুচ্ছ কাউকে
খোজাজ খুজির এক পর্যায়ে সে নীলকে দেখতে পেলো মাছ ধরতে সাথে সাথে তার মুখে খুশির ঝলক দেখা গেলো
সে বেশ দ্রুত পাশে নীলের দিকে গেলো এবং তার পিছনে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো তার চোখ লাল লম্বা চুল গুলো এলোমেলো দেখতে কোন ডাউনির চেয়ে কম লাগছে না
নীল পিছনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে উঠে দাড়ায় এবং পিছনে তাকায় নীলিমকে দেখে সে বেশ ভয় পায়
নীলিমা নীলকে মারতে যাবে এমন সময় সে নীলের চোখের দিকে তাকায় সঙ্গে সঙ্গে যেন তার কি হয়ে যায়
যদিও নীলিমার কোন হিতাহিত জ্ঞান নেই তারপরেও সে তার ভাই এর টানা অনুভব করতে পারছে তাই সেই নীলকে মারলো না বরং তাকে বস করে রাখলো