বিশ্বাসের গাছেরা যখন একটু একটু করে
ডালপালা ছড়ায়, পাতার ভেতর আলো জমায়,
তখন কাঠঠোকরারা আসে,
ঠোঁটে তাদের অবিশ্বাসের ধারালো শাবল;
গাছের কাণ্ডে ঠুকরে ক্ষতবিক্ষতের কবিতা লিখে যায়।
আমি তবু নিজের বিশ্বাসটাকে বাড়তে দিয়েছিলাম,
রাস্তার এপারে দাঁড়িয়ে
তোমার জানালার দিকে উঠে যাওয়া
একটি নিঃশব্দ লতার মতো।
ভাবতাম, কোনো এক পড়ন্ত দুপুরে
ভেজা চুলে তুমি সেখানে এসে দাঁড়াবে,
আর সামান্য এক মুচকি হাসি
আমার অপেক্ষাকে অকারণে হলেও সার্থক করে দেবে।
সেই একটি হাসির আশায়
আমি অসংখ্য অসম্ভবকে সত্য বলে মেনেছি।
তোমার নীরবতাকে অভিমান, দূরত্বকে ব্যস্ততা,
আর অনুপস্থিতিকে ফিরে আসার প্রস্তুতি ভেবেছি।
অপেক্ষা করতে করতে
আমার চোখেরা আলো দেখা বন্ধ করতে চাইলো,
দুরবীন তুলে আকাশের শেষ প্রান্তেও দেখলাম, তুমি নেই।
তুমি চলে গেছ,
আমি রয়ে গেলাম এক অচেনা কোলাহলের মাঝখানে,
তুমি নিজের গন্তব্য খুঁজে নিলে।
অনেক দেরিতে বুঝলাম,
বিশ্বাস আসলে কোনো সত্যের নাম নয়।
এ হলো মানুষের নিজের হাতে
অন্ধকারের মধ্যে জ্বেলে রাখা একটি প্রদীপ।
যতক্ষণ সে জ্বলে,
আমরা তাকে সূর্য বলে ভুল করি।