অনুগল্প
- কি রে? উঠেই কল দিলি। ভাল আছিস?
- হুম। ভাল আছি। তুই কেমন আছিস, মিতা?
- আমি আছি। ঘুম হয়েছে?
- হ্যাঁ, হয়েছে। তোর ঘুম কেমন হলো?
- দারুণ। একটা অশ্লীল ঘুম হয়েছে।
- এই ফাজিল! সকাল বেলাতেই কি বলিস? ঘুম আবার অশ্লীল হয় নাকি?
- হ্যাঁ, হয়। ঘুম চার ধরণের হয়। তবে মেয়েদের তিন ধরণের ঘুম হয়।
- সকাল বেলাতেই শুরু হয়ে গেল! আচ্ছা, ছেলেদের চার রকমের ঘুম কি কি রকম হয়?
- ও আচ্ছা। মুখে ফাজিল বলবি, আবার শুনতেও ইচ্ছা হয় তোদের?
- বদমায়েশি করবি না। বল, তোর চার ধরণের ঘুম কি কি?
- হ্যাঁ, বলছি। ছেলেদের চার ধরণের ঘুম হয়। এক নাম্বারটা হলো মেন্দা টাইপ ঘুম। এ ঘুমে কিচ্ছু নাই। সকাল বেলা উঠে দেখে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, বালিশ লালায় ভিজে আছে। বিরিয়ানি খেলে এরকম ঘুম হয়। এ ধরণের ঘুমের বাতিক যাদের থাকে তারা যেন লুঙ্গী পরে না ঘুমায়। রিস্ক থাকে। এর পরেরটা হলো, ফাজিল ঘুম। এ ধরনের ঘুমে মাঝরাতে ঘুম ভাঙতে হয়। তখন ছেলেরা প্ল্যান করে আজ ক্যাম্পাসে গিয়ে কি কি দুষ্টামি করবে। এগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায়। বেশ একটা আরাম আরাম ঘুম, এটা সাধারণত ক্লাস এইট হতে শুরু করে মাস্টার্স অব্দি হয়। এর পরেরটা হলো অশ্লীল ঘুম। এটা একটু খারাপ ধরণের হয়। কেমন জানি।
- কেমন সেটা?
- তুই বুঝবি না।
- বল না!
- এটাতে ছেলেরা হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাবে। তখন ভাববে, এ কি হলো আমার! আমার এত বড় ক্ষতি কে করল?
- কি ক্ষতি হয়?
- সেটা একটু অন্যরকম। শোন চার নাম্বার ঘুমটা বলি।
- বল।
- এটা হচ্ছে, ঠাডা পড়া ঘুম। রাতের ঘুম যে রকমই হোক না কেন, এটা সকালে ঘুম ভাংগার ধরনের উপর ভিত্তি করে নামকরণ করা হয়েছে। সকালে তুই ঘুম থেকে উঠতে দেরী করবি। তোর বাবা অথবা মা এসে তোকে গালমন্দ করতে করতে উঠাবে। ঘুম হতে উঠেই শুনবি, জমিদারের বাচ্চা, উঠ তুই। নবাবজাদা কোথাকার।
- বাহ! আর মেয়েদের তিন প্রকার ঘুম কি কি?
- সেটা বলা যাবে না, বললে তুই গালগালাজ করবি। সকাল বেলা আমি এ সব শুনতে রাজী নই।
- আচ্ছা, ঠিক আছে। এগুলো তুই কোথায় পেয়েছিস?
- কোথাও পাই নাই। নিজে নিজে বানাইছি।
- ফাজিল। ইতর। আমি ভাবলাম কোথাও আছে বুঝি। শয়তান কোথাকার। চান্সে কিছু বাজে কথাও বললি।
- তুই কেন আমাকে জিজ্ঞেস করলি, ঘুম কেমন হয়েছে? নইলে তো আমি এগুলো বলতামই না কোনদিন।
- আচ্ছা, বুঝছি। তবে একটা কথা মনে পড়ে গেল। মন খারাপ হয়ে গেছে।
- কি জন্যে? কেন মন খারাপ হলো?
- ঐ যে, তোর চার নাম্বার ঘুমটা। মা মরে গেছেন সেই কবে? আমার আর ঠাডা পরা ঘুম হয় না। জানিস, মা বেঁচে থাকাকালীন কিন্তু এরকম ঘুম হতো সব সময় আমার।
- _ _ _ (নিশ্চুপ)
- চুপ করে আছিস কেন?
- না সকাল বেলাতেই তোর মন খারাপ করে দিলাম। রাগ হয়ে গেছিস, মিতা?
- না, রাশেদ। আমি ভাবছিলাম জীবনে সময়ের সাথে সাথে কত কিছু পাল্টে যায়। হয়ত এতক্ষণ দুষ্টামি করেই এসব বলছিলি, এর মধ্যে মায়ের কথাও মনে করিয়ে দিলি। জানিস, বেশ কদিন পর আজ মায়ের কথা মনে পড়ল।
- এখন তাহলে কি নিয়ে ভাবিস?
- বলা যাবে না।
- কেন? বল।
- এখন তুই ছাড়া আর কে আছে আমার ভাবনায়? খুব অদ্ভুত একটা কণ্ঠে বলল মিতা।
Comments
First reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
sayed Hossain 1 week ago
খুব ভালো লাগল লেখাটি। শুভেচ্ছা রইল।
-
সংলাপের প্লটটা দারুন লিখেছেন। ঘুমের এই ক্লাসিফিকেশনটা পছন্দ হয়েছে। আমি এখন মনে মনে খুঁজছি, ঘুমের আর কোন ক্লাসিফিকেশন বানানো যায় কীনা। গ্রেট রাইটিং।