মহালয়ার প্রভাতে
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ: ৩/১০/২০২৬
রাতের আঁধার ফুরোয় যখন
পূব আকাশের কোলে,
শিউলিরা ঝরে নীরব হয়ে
শিশির ভেজা তলে।
ঘুমন্ত ধরা জেগে ওঠে
অচেনা এক সুরে,
শরৎ হাওয়া দোলা দিয়ে
মনকে নেয় যে ছুঁয়ে।
দূর আকাশে আলোর রেখা
ধীরে ধীরে হাসে,
মহালয়ার পবিত্র প্রভাত
নতুন স্বপ্ন ভাসে।
রেডিওর সেই চেনা কণ্ঠ
ভেসে আসে ধীরে,
মুহূর্তেই মন হারিয়ে যায়
স্মৃতির গভীর নীড়ে।
“আশ্বিনের শারদপ্রাতে”
জেগে ওঠে গান,
আগমনী সেই সুরে যেন
কেঁপে ওঠে প্রাণ।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, আপনি
চিরস্মরণীয় নাম,
আপনার সেই চণ্ডীপাঠে
জাগে ভক্তির ধাম।
আপনার কণ্ঠ ছুঁয়ে গেলে
ভোরের নীল আকাশ,
মায়ের আসার আগাম বার্তা
ভরায় মনে আশ্বাস।
নিশীথ রাতের নিস্তব্ধতা
ভেঙে দিয়ে ধীরে,
মহামায়ার আগমনী সুর
বাজে হৃদয় জুড়ে।
ধূপের গন্ধ, প্রদীপের আলো,
মন্ত্রের মধুর ধ্বনি,
শিউলির ঘ্রাণে ভরে ওঠে
শরতের প্রতিটি ক্ষণই।
কাশের বনে দুলে দুলে
কে যেন কথা কয়,
মায়ের পায়ের নূপুর বুঝি
দূর গগনে বাজে রয়।
কত ঋতু পেরিয়ে গেল,
কত বদলাল কাল,
তবু আপনার কণ্ঠে আজও
জেগে ওঠে সেই ভোরকাল।
আপনি নেই এই পৃথিবীতে,
তবু আছেন পাশে,
মহালয়ার প্রতিটি প্রভাত
আপনাকে মনে ভাসে।
মহালয়া শুধু তর্পণ নয়,
শুধু স্মৃতির দিন নয়,
মহালয়া মানে অন্ধকারে
আলোর জন্ম হয়।
মহালয়া মানে অপেক্ষাতে
মায়ের আগমন,
মহালয়া মানে আশার আলোয়
ভরে ওঠা মন।
আর কিছু প্রহর পেরোলেই
আসবে সেই ভোর,
চণ্ডীপাঠের পবিত্র সুরে
জেগে উঠবে ঘর।
আবার শিউলি ঝরুক নীরবে,
আবার কাশ দোলুক,
মায়ের আগমনী বার্তায়
বাঙালির মন দোলুক।
আবার সেই অমৃত কণ্ঠ
ভোরের বাতাস ভরুক,
মহামায়ার আগমনে
জীবন নতুন করে গড়ুক।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, আপনাকে
শত প্রণাম জানাই,
মহালয়ার পবিত্র প্রভাতে
শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াই।
আপনার কণ্ঠ বেঁচে থাকবে
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর,
মহালয়ার ভোরে আপনি
বাঙালির হৃদয়ের অন্তর।
যতদিন শরতের আকাশে
কাশফুল দোলে সাদা,
যতদিন শিউলির সুবাসে
ভরে ওঠে পথঘাট,
ততদিন আপনার চণ্ডীপাঠ
জাগাবে ভক্তির আলো,
মহালয়ার প্রতিটি প্রভাত
হয়ে থাকবে চিরকাল ভালো।