হেমন্তের মায়াবী আবেশ
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ: ২/১১/২০২৬
শিশিরভেজা প্রকৃতির বুকে ঋতুর কোমল ভালোবাসা
হেমন্ত আসে নীরব পায়ে, সোনালি ধানের দেশে,
শিশিরমাখা ঘাসের বুকে মায়ার পরশ মেশে।
নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা চলে,
কাশফুলেরা দুলতে থাকে মৃদু বাতাসের দোলে।
ভোরের বুকে শিশির ঝরে মুক্তোর মতো হাসে,
নরম রোদের সোনালি আভা প্রকৃতিকে ভালোবাসে।
ধানের ক্ষেতে সোনার ঢেউয়ে কৃষকের স্বপ্ন জাগে,
নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ হৃদয় লাগে।
হেমন্ত মানে মিষ্টি রোদে হারিয়ে যাওয়ার ক্ষণ,
হেমন্ত মানে প্রকৃতিজুড়ে এক অচেনা আপন।
দূর গ্রামের সেই মেঠোপথে ধানের গন্ধ ভাসে,
শিউলিঝরা স্মৃতিরা সব মনের দুয়ারে আসে।
নবান্নের উৎসব ঘিরে আনন্দে ভরে গ্রাম,
নতুন ধানের সুগন্ধিতে মুছে যায় সব ক্লান্তি আর ঘাম।
মায়ের হাতে পিঠাপুলির মিষ্টি আয়োজন,
পরিবারের হাসির মাঝে জুড়িয়ে যায় মন।
তবু হেমন্ত কখনো কখনো বিষণ্নতা আনে,
হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে মনে করিয়ে দেয় গানে।
কত স্মৃতি, কত মুখ আজ দূরে কোথায় হারায়,
পুরোনো দিনের মায়ার বাঁধন হৃদয় জুড়ে রয়।
পাখির ডানায় ভর করে যায় বিকেলের শেষ আলো,
প্রকৃতি যেন নীরব ভাষায় বলে, পৃথিবী বড় ভালো।
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হেমন্ত যখন আসে,
মনের মাঝে অজস্র স্বপ্ন নতুন করে হাসে।
হে হেমন্ত, তোমার বুকে মায়ার কত ছবি,
তোমার রূপে মুগ্ধ হয়ে কবিতা লিখি আমি।
তুমি শেখাও অল্প আলোয় সুন্দর করে বাঁচতে,
হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা স্মৃতির মাঝে রাখতে।
ঋতুর পাতায় তোমার নাম থাকুক চির অমলিন,
সোনালি ধানের সুবাসে ভরে উঠুক প্রতিটি দিন।
প্রকৃতির এই মায়ার টানে ফিরে ফিরে আসো,
মানুষের হৃদয়জুড়ে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালাও।