নীলিমা তার ভাইকে চিনে না তবুও সে তার রক্তের টান অনুভব করছে তাই সে নীলকে মারলো না বরং বস করে রাখলো কিন্তু তার তো এখন রক্তের দরকার কিন্তু আশে পাশে তো কোন মানুষ নেই।
হঠাৎ তার মনে হলো নীল তো তার বসে সে চাইলেই তাকে দিয়ে কোন মানুষ শিকার করাতে পারে। সে আর বেশি কিছু না ভেবে নীলকে বলল
এই ছেলে যাও কোন মানুষ নিয়ে এসো যেখান থেকে পারো সেখান থেকে
নীল সম্পূর্ণ ভাবে নীলিমার বসে তাই সে যা বলবে নীল তাই করবে, হচ্ছেও এমন নীল চলে গেলো তার রাজ্যের উদ্দেশ্যে
তোমার ভাই তো এখনো আসছে না নীলা
কি জানি এ সময়ে তো চলে আসার কথা
আমি তাহলে বাড়ি চলে যাই কি বলো
আপনার খুশি আপনার যা ইচ্ছা তাই করুন আমার কি
তোমার কিছু না?
না আমার আবার কি হবে
ঠিকআছে আশিস তবে
নীলা চাচ্ছে না আরিফ যাক কিন্তু সে মানা করবে কিভাবে
গেলাম
দাড়ান দাড়ান
কি তোমার না কিছু যায় আসে না
হ্যা আমার সত্যিই কিছু যায় আসে না
তাহলে ডাকলে কেন?
নীল আসছে
নীলার মুখে নীলের কথা শুনে আরিফ সামনের দিকে তাকায় তাকিয়ে সে দেখতে পায় দূরে নীলের অবয়ব দেখা যাচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যেই সে দৃশ্য মান হলো
নীলকে দেখে আরিফ তার কাধে হাত রেখে বল কিরে কোথায় গিয়েছিলি আমাকে রেখে
নীল কিছু বলে না ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো
কিরে কিছু বলছি তো
নীল এবারে কোন প্রতি উত্তর করে না বরং তার কাধ থেকে আরিফের হাতটা ছিটকে ফেলে দিলো
কি হলো এটা?
আরিফের এই প্রশ্নেও নীলের কোন হেলদোল নেই সে আরিফের পাশ কাটিয়ে চলে গেলো
আরিফ নীলাকে প্রশ্ন করে কি হয়েছে ওর এমন করছে কেন?
কি জানি ও তো কখনো এমন করে না
তাহলে আজ এমন করছে কেন?
নীলা নীলের হাতের দিকে তাকায় তাকিয়ে সে দেখে নীলের হাতে একটাও মাছ নেই তাই তার ধারণা নীল মাছ পায়নি তাই বোধয় এমন করছে সে এই কথাটা আরিফ কে বলল
আরিফ নীলার কথাটা পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি হয়তো তার পরেও এটাই হতে পারে ভেবে আরিফ নিজের মনকে বুঝ দিলো
নীলা আর আরিফ কথা বলছিলো এই ফাঁকে নীল ঢুকে পরে নীলার সখের বাগানে সেখানে থাকা একটি লাঠি সে তার হাতে তুলে নেয় এবং বাগানের সমস্ত গাছ পালা লন্ড ভন্ড করতে থাকে
বিষয়টা নীলার নজরে আসতেই সে দৌড়ে চলে গেল তার বাগানের কাছে তার দৌড়ানি দেখে আরিফো নীলার পিছোন পিছোন ছুটে যায় নীলার বাগানের কাছে
নীল কি করছিস এসব
নীলের কোন প্রতিক্রিয়া নেই সে তার কাজ করছে
বন্ধ কর এসব
নীলার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার সখের বাগান যে তচনচ হয়ে যাচ্ছে
নীলার সখের বাগান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আর তার জন্য নীলা কাদছে এটা কেন জানি আরিফের সহ্য হলো না সে দৌড়ে চলে যায় নীলকে ধরতে
কি করছিস নীল মাছ পাসনি এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার তার জন্য এত রাগ কিসের
নীলের থেকে দুই বছর বড় আরিফো নীলকে ধরে রাখতে পারছে না
আরিফ একা ধরে রাখতে পারছে না এটা দেখে নীলাও চলে যায় নীলকে ধরতে
জনে মিলে অনেক কষ্ট করে নীলকে বাগান থেকে বের করে আনে হঠাৎ নীল আবারো এক ঝটকা দিয়ে তাদের দুজনকে ফেলে দেয় সে এক নজর আরিফ ও নীলার দিকে তাকিয়ে বাড়ি থেকে হন হন করে চলে যায়
কি হলো ওর হঠাৎ। নীলা কান্না মাখা সরে কথাটা বলল
আরিফ তার দুই গালে হাত রেখে বলল কিচ্ছু হয়নি ও একটু রাগে আছে সব ঠিক হয়ে যাবে তুমি কেদো না আর রইলো বাগানের কথা আমরা নতুন করে চারা বসাবো আগের থেকেও আরো অধিক সুন্দর করে দেবে কথা দিলাম
কিন্তু যতই হোক আমার এত কষ্টের বাগানটা মুহূর্তেই যে শেষ হয়ে গেলো
নীলা এই কথাটি বলতে বলতে তার বাগানে প্রবেশ করলো আরিফো তার পিছু পিছু গেলো, নীলা তার বাগানে সব থেকে সুন্দর ফুলটা ছিড়ে নিলো এক মাত্র এই ফুলটাই অক্ষত ছিলো
সে ফুলটার সুগন্ধ শুখলো হঠাৎ করে ফুলের মধ্যে থেকে এক অদ্ভুত আলোর রশ্মি বের হলো আলোর তিব্রতায় নীলা আর আরিফ কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না
আলোটা ধীরে ধীরে কমতে লাগলো এবং দৃশ্য মান হলো একটি নারী অপরূপ সৌন্দর্য লম্বা ও রেসমী কালো ঘন চুল পিঠে এক জোরা ডানা যা বল দিচ্ছে এই নারী কোন সাধারণ নারী নয় এ তো পরি
কে আপনি। আপনি কি পরি?
হ্যা আমি পরি
নীলার এক আকাশ পরিমান স্বপ্ন ছিলো সে পরি দেখবে পরি আসলে বাস্তবে আছে কি না আছে তাও জানতো না সে তারপরেও তার সব সময় মনে হতো তার সামনে একদিন কোন পরি আসবে যা আজ সত্যি হলো
আরিফো নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না সে কি সত্যিই পরি দেখছে নাকি এটা তার চোখের ভ্রম সে তার দুই চোখ হাত দিয়ে কচলাতে লাগলো এবং আবার সামনের দিকে তাকালো তবে সেই পরিটি এখনো তাদের সামনে উপস্থিত তাই তাই সে বুঝতে পারলো যে সে যা দেখছে তা একদম ঠিক দেখছে
নীলারো বেশ উত্তেজনা কাজ করছে তবে সে তা দমিয়ে রেখে পরিটির উদ্দেশ্যে বলল তো আপনি আমার সামনে আসলেন কেন মানে বলতে চাইছি আপনারা তো কারো সামনে আসে না আপনারা গোপনে থাকেন তবে আজ আমার সামনে কেন আসলেন
আমরা পরিরা শুধু মায়া নগর রাজ্যের বংশ ধরদেরি দেখা দেই
হ্যা তো আমি তো সাধারণ মানুষ আমি তো কোন রাজ পরিবারের সন্তান না আর মায়ানগর রাজ্যে তো একজন রাজকন্যা আছেই যে নাকি তুষার কন্যায পরিনত হয়েছে
তুমি তারি বোন
কিহ
হুম তুমি ঠিকি শুনেছো তুমি মায়া নগর রাজ্যের রাজ কন্যা আর তোমার ভাই ঐ রাজ্যের রাজ কুমার
নীলা কিছুতেই তার কাণকে বিশ্বাস করতে পারছে না কি শুচ্ছে সে এসব সে নাকি রাজ কন্যা
কিন্তু তাহলে আমি এখানে কিভাবে আসলাম আর নীল কিভাবে আসলো
এরপর পরিটি নীলাকে অতীতের সকল ঘটনা খুলে বলল
সেটা না হয় বুঝলাম কিন্তু আমার বোন মানে যে বর্তমানে ঐ রাজ্যের তুষার কন্যা হয়ে আছে সে কিভাবে তুষার কন্যা হলো
এরপর পরিটি তাকে ঐ ঘটনাও খুলে বলল
সব শুনে নীলার তো মাথায় হাত সে এখন কি করবে কিচ্ছু বুঝতে পারছে না তাই সে পরিটিকে বলল
এখন আমি কি করবো
তুমি কি জানো তোমার ভাই এরকম ব্যবহার কেন করলো
না হয়তো মাছ পায়নি তাই রেগে আছে
না তোমার ধারণা ভুল আসলে তোমার ভাই এখন বসিভুত রয়েছে
কি কে বস করেছে আমার ভাইকে
তোমার ভাইকে তোমারি বোন বস করেছে অর্থাৎ তুষার কন্যার দ্বারা বসিভুত এখন তোমার ভাই
একের পর ঘটনা শুনে নীলা আর থাকতে পারছে না তার মাথা ঘুরছে এরপর সে সত্যিই মাথা ঘুরে পরে গেলো আরিফ দৌড়ে এসে নীলাকে ধরলো এবং তাকে পানি খাওয়ালো
তুমি ঠিক আছো?
হ্যা
পরিটি নীলার এমন অবস্থা দেখে বলল তোমার অজ্ঞান হলে চলবে না মেয়ে তোমার অনেক কাজ বাকি তোমাকে অনেক কিছু করতে হবে
পরিটির কথা শুনে নীলা প্রশ্ন করলো
কি করতে হবে আমাকে?
তোমার ভাইকে বসিভুত অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে হবে
তোমার বোনকে অভিশাপ মুক্ত করতে হবে
তোমার নিজের রাজ্যে নতুন শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে
পরির এত গুলো কথা শুনে নীলা বলল কিন্তু আমি একটা সাধারণ মেয়ে আমি এত কিছু কিভাবে করবো
তুমি সাধারণ মেয়ে নও তুমি এক রাজ্যের রাজ কন্যা
হতে পারি আমি রাজা কন্যা কিন্তু আমি তো এত দিন এটা জানতাম না তাই কোন প্রকার রাজ কন্যা হওয়ার গুন নেই আমার মধ্যে
তোমার মধ্যে গুন আছে কিন্তু সেটা প্রকাশ্য নয় তুমি চিন্তা করো না মেয়ে তুমি পারবে
আরিফ নীলার কাধে হাত রেখে বলল তুমি পারবে
আরিফের কথা শুনে নীলার কেন জানি নিজেকে সাহসি মনে হচ্ছে
হুম আমি পারবো আমি অবশ্যই পারবো
এই সাহস টুকুই তো দরকার ছিলো
কিন্তু আমি কিভাবে এসব করবো কিভাবে আমি আমার ভাইকে মুক্তি দেবো আর কিভাবেই বা আমি আমার বোনকে অভিশাপ মুক্ত করবো