জানো তনিমা?
হ্যাঁ হ্যাঁ, তুমিই তো জানবে।
আমার এক ভীষণ ইচ্ছে—
ভেটুল গাছের মরমরে ডালে তুমি গিয়ে বসবে,
আর আমার দিকে ভেটুল ফল ছুড়বে,
আমি কুড়িয়ে নেব।
যেই না তোমার দিকে ছুড়ে মারতে যাব সে ফল,
অমনি সবুজ ধানগাছ ছুঁয়ে আসা বাতাসগুলো
ধানের শীষের মতো করে এলোমেলো দেবে,
আর আমি তো অবাক!
এত রূপ কী করে হয় মানুষের!
তিন দিন তিন রাত আমি হুঁশহারা রবো
সেদিনের মায়ায়।
জানো তনিমা?
আমার আরেক সে ভীষণ ইচ্ছে—
এমন কোনো বিকেল,
যে বিকেলে হাঁটতে গেলে দুজনে
ফিরব গোধূলিবেলায় একটু তড়িঘড়ি করে,
কিন্তু ভয়ের সাথে অসম্ভব সুখের অসুখ
ছুঁয়ে থাকবে দুটি মন।
যেই না কোনো কথা মনে আসবে,
অমনি লিখে রাখবো চিরকুট করে।
পরের দিন একটা তুমি দেখাবে,
তো একটা আমি।
কিছুটা দেরি করে দেব,
যাতে তোমার অধৈর্য দেখতে পারি,
দেখতে পারি কপট রাগ।
জানো তনিমা?
আমার আরেকটা ভীষণ ইচ্ছে—
তুমি কলেজ থেকে ফিরবে নীল ইউনিফর্মে,
আর আমি তোমার অপেক্ষায়
সকাল গড়িয়ে দুপুরের অপেক্ষায়
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবো বুনো বকুলতলায়।
তুমি হাসবে মিটিমিটি,
আর আমিও ভীষণ এক আনন্দে আত্মহারা হবো।
দুপুরে ভাতঘুম না দিয়ে
চলে যাবো বকুলতলায়।
তুমি টিউশনে যাবে,
নীল রঙের থ্রিপিস পড়ে,
অল্প অল্প কপালের ঘামে
তোমাকে দারুণ দেখাবে।
সে দৃশ্য দেখে
আমি রাতের ঘুম হারাবো।
জানো?
আমার ইচ্ছেরা সব তোমাকে ঘিরে,
হ্যাঁ হ্যাঁ, তুমিই তো জানবে, তনিমা।