জোঁকের তেল
শফিকুর রহমান
গ্রামের জীবনে যে কয়টি কাজ প্রচণ্ড আনন্দ নিয়ে করেছি, মাছ ধরা তার মধ্যে অন্যতম। মাছ ধরার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও মনটা নস্টালজিক হয়ে যায়। তবে মাছ ধরা শুধু আনন্দের স্মৃতিই দেয়নি, আমার জীবনে জুড়ে দিয়েছে এমন এক প্রচণ্ড হাসির ঘটনা, যা মনে পড়লে আজও একা একাই হেসে ফেলি।
একবার মাছ ধরার পর দেখি, পা বেয়ে রক্ত পড়ছে। প্রথমে ভাবলাম, কোথাও কেটে গেছে হয়তো। অনেক খুঁজে দেখলাম, পায়ে কোনো কাটা নেই। তারপর আবিষ্কার করলাম—গোপনাঙ্গ থেকে রক্ত পড়ছে! ভালো করে বুঝতে পারলাম, একটা জোঁক রক্ত খেয়ে সটকে পড়েছে। কিন্তু বিপদ হলো, রক্ত পড়া আর বন্ধ হয় না। শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের কাছে যেতে হলো।
বিয়ের পর একদিন বউকে ঘটনাটা বলেছিলাম। সে তো শুনে হেসেই শেষ! আমি ভেবেছিলাম, ঘটনাটা আমার জীবনের একটা লজ্জার স্মৃতি। কিন্তু তার কাছে সেটা হয়ে গেল আজীবনের হাসির উপকরণ।
তারপর কিছুদিন আগে মিরপুর মেট্রোরেলের নিচ দিয়ে আমি আর বউ যাচ্ছি।
হঠাৎ পাশ থেকে এক ক্যানভাসারের গলা, ‘এই নেন ভাই, জোঁকের তেল! রাতে বিশেষ কাজে বাঘের মতো শক্তি পাবেন! দুই বোতল মাত্র ১০০ টাকা!’
কথাটা কানে যেতেই বউ আমার দিকে তাকিয়ে টিটকারি মেরে বলল, ‘শুনছ, কী বলে?’
আমি বউয়ের মুখের দিকে তাকালাম। তারপর দুজনই আর নিজেদের সামলাতে পারলাম না। অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম।
মুহূর্তের মধ্যে আমার শৈশবের সেই পুকুর, কাদা, মাছ ধরা, জোঁক, ডাক্তারের কাছে লজ্জায় মরে যাওয়া—সব চোখের সামনে ভেসে উঠল।
জীবনটা আসলে কী অদ্ভুত! একসময় যে জোঁক আমাকে লজ্জায় ডুবিয়েছিল, বহু বছর পর সেই জোঁকের তেলই স্ত্রীকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে হাসিয়ে দিল!