পৃথিবীতে জীবন্ত সকলেই কাঁদে—কেউবা কাঁদে চিৎকার করে, কেউবা কাঁদে শব্দ করে, কেউবা আবার কাঁদে চোখে জল এনে।
কিন্তু আমি কাঁদি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে! পুকুর ও সমুদ্রের ভিন্নতা যতটুকু, আমার কান্নার ভিন্নতাও ঠিক ততটুকু। আমার কান্নার নেই কোনো চিৎকার, নেই কোনো শব্দ... আসে না চোখে জল; কিন্তু যন্ত্রণাময় অনুভূতির শিকার হই সর্বদাই।
সে যন্ত্রণা, যে আঘাতের বীজ থেকে জন্ম নেওয়া আমার হৃদয়মাঝারে... মস্ত কাঁটাওয়ালা বৃক্ষ! সে বৃক্ষের ভয়ানক কাঁটাগুলো আমার কোমল কলিজায় আঘাত করে, আর এ কলিজার ছিদ্র ছিদ্র আঘাত থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আর সে রক্তের স্রোত আমার আঁখিতে ভাসছে।
কেন! আমার কান্না এমন কেন? কে দিতে পারবে এ জবাব, কে? কোনো ডাক্তার কি দিতে পারবে এ জবাব? দিতে পারবে এ বিষাদ-ব্যথার ওষুধ? হয়তো পারবে না।
আমার কান্নার ভয়ানক মন্ত্রণা কেউ বুঝবে না, বুঝতে হবেও না। আমার ব্যথা, আমার যন্ত্রণা আমিই পুষব—প্রয়োজনে বন্ধু করে নেব! শত থেকে শত বছর আগলে রাখব; এ বুকেই তাকে ঘুম পাড়াব, এ বুকেই তাকে লালন করব।