উমা আসবে মায়ের ঘরে
আদিত্য ভৌমিক
শরতের আকাশ জুড়ে আজ মেঘের ভেলা ভাসে,
কাশফুলের শুভ্র ঢেউ দোলে নীরব বাতাসে।
শিউলির গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ভোরের শিশির জলে,
মায়ের ঘরে উমা আসবে আনন্দেরই ছলে।
দূর কৈলাসের পথ পেরিয়ে আসবে মায়ের মেয়ে,
বাপের বাড়ির স্নেহের টানে সব অভিমান নিয়ে।
কতদিনের জমে থাকা অশ্রু মুছবে আঁচল দিয়ে,
মায়ের বুকে মুখ লুকাবে আপন করে নিয়ে।
গিরিরাজের মনেও আজ অদ্ভুত এক ব্যাকুলতা,
মেনকার চোখে জেগে ওঠে স্নেহভেজা মমতা।
কে যেন বলে, উমা কাঁদে মায়ের কথা ভেবে,
তাই তো বাবা ছুটে যান মেয়েকে ঘরে নেবে।
সোনার বরণ গৌরী যেন শরতেরই আলো,
মায়ের কাছে এলেই তার সবকিছু লাগে ভালো।
কৈলাসের যত দুঃখ, যত অভিমান, ব্যথা,
মায়ের কোলে মাথা রাখলেই হারিয়ে যায় সে কথা।
সংসারের কত কষ্ট সয়ে দেবী থাকেন হাসি মুখে,
মায়ের ঘরের স্মৃতি জাগে শরতেরই সুখে।
বাপের বাড়ির উঠোন যেন আজও ডাকে তাঁকে,
শৈশবের সেই মায়ার বাঁধন হৃদয় জুড়ে থাকে।
উমা শুধু দেবী নন, তিনি ঘরের আদরের মেয়ে,
মায়ের চোখের অশ্রু মোছেন আপন হাতে এসে।
তাই তো শরৎ এলেই মনে বাজে সেই গান,
মায়ের ঘরে ফিরবে উমা, ভরে উঠবে প্রাণ।
শঙ্খধ্বনির সঙ্গে যেন শুনি মায়ের ডাক,
আকাশজুড়ে আগমনী সুর জাগায় অনুরাগ।
দুঃখ ভুলে হাসুক সবাই, মুছে যাক সব ক্ষত,
উমার আগমনে ভরে উঠুক ভালোবাসার জগৎ।
এসো মা উমা, এসো আবার মায়ের ঘরের দ্বারে,
তোমার ছোঁয়ায় আনন্দ ফুটুক বাংলার ঘরে ঘরে।
চারটি দিনের স্নেহের বাঁধন থাকুক হৃদয় ভরে,
বিদায়ের দিনে অশ্রু ঝরুক ভালোবাসার তরে।
মা আসেন, মা থাকেন, আবার চলে যান দূরে,
তবু তাঁরই স্মৃতি রয়ে যায় হৃদয়ের অন্তঃপুরে।
আগমনী সেই সুর বলে, এসো মা বারবার,
তোমার আশীর্বাদে ভরে উঠুক এই সংসার।