ইরান ভাত মুখে দিয়ে পিঠের ব্যথায় কুকিয়ে উঠলো।
রিয়াদের ঠোটে হাসি। রিয়াদ ইরানের কাহিনী দেখলে। বেচারা তাহলে সেই ব্যথা পেয়েছে। আছাড়টা তো সেই দিয়েছি।
ইরান ব্যথায় কুকিয়ে বলল, ও মা গো৷ ব্যথা করে।
রিয়াদ বলল, কিভাবে ব্যথা পেলে কোমড়ে?
( রিয়াদ ইরানের কাটা গায়ে নুন ছিটিয়ে দিল।)
ইরান বলল, আর বলিস না। পুকুরের সিড়িতে পড়ে গেছিলাম।
রিয়াদ আরেক চামচ ভাত নিল প্লেটে।
রিয়াদ বলল, আজকে তো তুমি গোসল ই করোনি।
ইরানের গলায় হঠাৎ খাবার আটকে যায়। উ উ করতে থাকে পানির জন্য।
রিয়াদ টেবিলে থাকা কাচের গ্লাসে পানি ঢালে। তারপর নিজেই পানিতে চুমুক দিয়ে খেতে থাকে। তার সামনে তার খালতো ভাই পানির জন্য ছটফট করছে। এটা দেখে ভালো লাগছে রিয়াদের।
কিছুক্ষণপর হঠাৎ ইরানের বউ (আফরীন) বিষয়টা লক্ষ্য করে তার স্বামী কে পানি ঢেলে খাওয়ায়।
আফরীন একটু রাগ করে বলল, কেমন ভাই আপনি? আপনার সামনে ভাই পানির জন্য মরে যাচ্ছে আর আপনি খেয়াল ই করেননি।
আঙুল চেতে চেতে রিয়াদ বলে, সরি! ভাবী খেয়াল করিনি।
ইরান আফরীনকে বলে, আর ভাত খাব না। হাতে পানি দাও। হাত ধুবো। আর কোমড়া ব্যথা করছে। আমি বিছানায় যাই তুমি একটুপর আসো তেল নিয়ে।
তারপর ইরান চলে যায় বিছানায় বিশ্রাম নিতে আর তার মাথায় চলে নানান টেনসন। ইরান ভাবে মুখোশ পড়ে যে রিয়াদকে মারতে গেলাম। রিয়াদ আছাড় মারলো আমাকে। রিয়াদ কি বুঝে গেছে যে আমি তার শত্রু?
এদিকে রিয়াদ খাবার শেষ করে।
রিয়াদ আফরীনকে বলে, যাও ভাবী। তেল মাখামাখী করো।
আফরীন হেসে বলে, যা দুষ্টু।
রিয়াদ বলে, ভাবী। তোমার কিন্তু নাভীটা সেই।
আফরীন তাড়াতাড়ি নাভী থেকে ফেলে। তারপর রিয়াদের কান ধরে মচকে দিয়ে বলে, খুব দুষ্ট হয়েছে।
রিয়াদ ভাবীর কোমড়ে চিমচি মেরে দৌড় দেয়। তখনই তার ধাক্কা লাগে মকবুল এর সাথে। মকবুল রাগি চোখে তাকায় তার দিকে।
মকবুল মনে মনে বলে, ওর কি ভয় নাই বুকে? ও এখনও গ্রাম থেকে পালায় না কেন? ওর পেছনে তো অনেক শত্রু। ইরান ভাই এবার গুন্ডা ভাড়া করেছে। যারা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছে। একদম বের হলেই গাড়ি তুলে খালি মাঠে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করবে। আর ও কত রিল্যক্স।
রিয়াদ নিজের কানে হাত রেখে বলে, সরি ভাই খেয়াল করিনি।
দরজায় বাইরে খোলা রোদে দাড়াতেই রিয়াদের মনে হলো যাই চা সিগারেট খেয়ে আসি। রিয়াদ যখন তাদের বাড়ির মাঠে আসলো। তখনই একটা কালো প্রাইভেট গাড়ি দেখতে পেল। গাড়ীর ভেতর ৪ জন বয়স্ক পুরুষ। যারা সবাই জীম করে বডি বানিয়েছে। সবগুলোই মোটা শক্তিশালী। রিয়াদ বুঝে গেল ওরা রিয়াদের জন্যই অপেক্ষা করছে।
রিয়াদ গাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এমন ভান করলে যেন সে তাদের চিনেই না। তখন কালো গাড়ি থেকে একটা লোক বের হলো রুমাল হাতে নিয়ে। রিয়াদ অজ্ঞান হওয়ার নাটক করে মাটিতে পড়ে গেল।
গুন্ডাদের লীডার কোপা শামসু বলল, কি রে ওরে তো অজ্ঞান করার আগেই অজ্ঞান হয়ে গেছে। এই পিপড়াকে মারার জন্য পাঠাইতে।
এটা বলে মাথা চুলকাতে লাগলো। তার ৩ চামচা। ঝন্টু, মন্টু, টিংকু।
ঝন্টু বলল, এখন কি করি?
শামসু বলল, আরে বোকা। কেউ দেখার আগে গাড়িতে উঠা। আজকে ওরে সাইজ করে দিব। অনেকদিন মানুষ কোপাই না।
একটা বস্তায় তারা ভরে ফেলল। ঝন্টু বস্তা উঠাতে গিয়ে পারলো না। ওজন বেশি।
ঝন্টু বলল, ভাই অনেক ভারী।
মন্টুর মাথায় থাপ্পড় দিয়ে শামসু বলল, আরে ওই হেল্প কর ওরে।
মন্টু বলল, জি বস।
তারপর মন্টু ও ঝিন্টু মিলে বস্তাটা তুললো গাড়িতে।
টিংকু গাড়ি স্টার্ট দিল। তারপর মরুভূমির মতো খোলা বালির স্তুপে এসে গাড়ি থামালো।
শামসু বলল, এই জায়গায় কেউ আসবে না। তোরা বস্তা খুলবি। আর আমি কোপ দিয়ে।
শামসু লুঙ্গি ঠিক করে চাপাতি নিয়ে বালির ওপর দাড়ালো। চারিদিকে কেউ নাই। শুধু বালি আর বালি। দূরে একটা ঘর দেখা যায়।
মন্টু ও ঝিন্টু মিলে বস্তাটা নামায় গাড়ি থেকে।
শামসু বস্তা খুলতেই অবাক। এইটা কী?
মন্টু ও ঝিন্টু বস্তার ভেতর তাকিয়ে দুজনেই অবাক। এটা কিভাবে হলো?
বস্তার ভেতরে রিয়াদ নাই। সেখানে একটা বড় পাথর রাখা।
শামসু সিগারেট ধরিয়ে মাথা চুলকে বলল, সালায়। পোলাডাকে সোজা ভাবছিলাম৷ অনেক চালাক। এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এই গাড়ি স্টার্ট দে মাথা গরম হয়ে গেছে পানি ঢালতে হবে। পানি দে হবে না গাড়ি থেকে মদ দে মদ ঢেলে মাথা ঠান্ডা করবো।
শামসু মদ ঢেলে মাথা ঠান্ডা করে। তারপর বলে, সালায় কামডা করলো কী?
এদিকে রিয়াদকে দেখা যায় নুসাইবার সাথে। দুজনে জানালার কাছে। ঘরে কেউ নাই। দরজা ভেতর থেকে লাগালো।
নুসাইবা বলল, ছাড়ো তো কেউ এসে পড়বে।
রিয়াদ নুসাইবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, ছাড়ার জন্য তো জড়িয়ে ধরি।
নুসাইবা রিয়াদকে দুষ্ট ধাক্কা দিয়ে বলে, আরে যাও।
রিয়াদ বলে, একটা চুমা দাও চলে যাব।
নুসাইবা বলে, না দেব না।
রিয়াদের ব্যপারটা খারাপ লাগে। রিয়াদ না বলা পছন্দ করে না। তার রাগ হয়। তবে নিজেকে শান্ত রাখে সে।
তখনই নুসাইবার মা এসে দরজায় নক দিতে থাকে।
নুসাইবা ভয়ে কাপতে থাকে।
নুসাইবা বলে, আম্মু আইসা পড়ছে। তুমি খাটের নিচে লুকাও।
রিয়াদ বলে, আগে চুমা দাও।
নুসাইবা বিপদে পড়ে যায়। এদিকে তার মা বার বার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে।
নুসাইবার মা বলল, কি রে এতোক্ষন লাগে কেন?
নুসাইবা বলল, আম্মু আমি ওয়াশরুমে আছি।
তারপর রিয়াদকে বলে, হাত জোর করি খাটের নিচে ঢুকো।
রিয়াদ নুসাইবার ঘাড়ে একটা কামড় দেয় 'লাভবাইট' দেয়। নুসাইবা 'আ' চিৎকার করে উঠে।
নুসাইবা বলে, শয়তান এতো জোরে কেউ কামড় দেয়।
রিয়াদ ঘরের ওপরে তাকায়। তারপর ড্রেসিং টেবিলে পা দিয়ে ওপড়ে উঠে যায়। সাদের ছোট খোপ দিয়ে রিয়াদ বের হয় টিনের ১তলা ছাদে। তারপর লাফ দিয়ে আমগাছ বেয়ে নিচে নামে।
#যৌদ্ধা_৪
#রুদ্র_সিয়াম