Novel

যৌদ্ধা (পর্ব ০৭) রুদ্র সিয়াম

October 8, 2026

15 views

রিয়াদ সিলেট এর একটা হোটেলে গিয়ে বলল, ভাই আমাকে কি একটা কাজ দেওয়া যায়?

দোকানের মালিক মোকলেশ মিয়া সন্দেহের চোখে তাকালেন রিয়াদের দিকে। তার দোকানে অচেনা লোক অনেক কাজ করে৷এরা বেশিদিন টিকে না।  একটা না একটা কিছু চুরি করে পালায়।

মোকলেশ বললেন, তোমার বাসা কই?

রিয়াদ সব ভেবে রেখেছি। কয়েকবার প্রাক্টিস ও করেছে নিজে নিজে যাতে মিথ্যা বললে তার ঠোঁটে না বাজে।

রিয়াদ বলল, আমার নাম অন্তিক। আমার বাড়ি ঢাকা। বাবা মা নাই এতিম। দাদা দাদীর কাছে বড় হইসি। এখন দাদা মইরা গেছে। দাদী ঘর থেকে বের করে দিসে।

মোকলেশ মিয়ার মায়া হলো। তবে সন্দেহ কাটলো না। রিয়াদকে দেখে শক্ত জোয়ান পোলা। হাতের মাশলগুলো কেমন ফুলে আছে। মনে হয় জিম করে। এমন সুদর্শন ছেলে তার দোকানে চাকরী চাইছে এটা ভেবেই মোকলেশ এর মন খারাপ হলো। এই রিয়াদের এখন সিনেমা করার কথা। কিন্তু সে রুটি বানাবে। বড় বেমান। টাকার কাছে হেরে যায় সৌন্দর্য।

মোকলেশ বললেন, তা তোমার পড়াশোনা কতদূর?

রিয়াদ বলল, বেশি না ফাইভ পাশ।

মোকলেশ রিয়াদকে কাজে রেখে দিলেন। রাতের বেলা রিয়াদ হাটতে বের হলো শাহজালাল মাজারে। তখন দেখলো পুলিশ। পুলিশ দেখে রিয়াদ ভয় পেলেও নিজেকে শান্ত করে। কারন ঢাকার পুলিশ তাকে খুজছে। এখানের পুলিশ তো তাকে চেনার কথা না।

পুলিশের গাড়ির সামনে দিয়ে পাশ কেটে যাওয়ার সময়ই হঠাৎ এক পুলিশ রিয়াদকে ডাক দিল। রিয়াদ পুলিশের সামনে এগিয়ে গেল। পুলিশের পোশাকে নামটা দেখল মির্জাফর।

মিরজাফর বললেন, এতো রাতে এখানে কিসের ঘোরাঘুরি?  লগে কিছু আছে? গাজা ইয়াবা?

রিয়াদ রেগে গেল মির্জার চোখে চোখ রেখে বলল, না স্যার। কিছু নাই। চেক করতে পারেন।

মির্জা ভয় পেয়ে গেলেন রিয়াদের চোখের চাহনী দেখে। তবে কথাগুলো কত ঠান্ডা, নরম। যেন অন্তরে গেথে যায়।

মির্জা একটা মেশিন বের করে রিয়াদকে বললেন, নাম কী তোর?

রিয়াদ বলল, নাম রিয়াদ। বাসা ঢাকা, বাবার নাম, মায়ের না, সব বললো।

মেশিনের সার্চ দিতেই মির্জা চমকে উঠলো। রিয়াদের ব্যপারে তথ্য জেনে। তার মন চাইলো রিয়াদকে স্যলুট করতে।

মির্জা বললেন, সরি স্যার।আপনাকে চিনতে পারিনি।

রিয়াদ বলল, তোমার কাছে কি সিগারেট হবে? ইয়াবা?

মির্জা বলল, না স্যার। তবে একটু গাজা আছে।

রিয়াদ বলল, দাও। ওটা দিয়েই কাজ হবে।

রিয়াদ গাজা নিয়ে চলে আসলো হোটেলে। তারপর সিগারেটে গাজা ভরে টান দিলো। তখনই তার অতীত মনে পড়ে গেল। সেই নুসাইবা, তার হাসি। তবে মেয়েটাকে কে খুন করলো? তারপর তার বন্ধু ইসহাক এর তার সামনে যুদ্ধে হেডশট খেয়ে মারা যাওয়া। একটা মিশ্র অনুভূতি দিল রিয়াদ। একদিকে কষ্ট, আরেকদিকে আবেগ, আরেকদিকে রহস্য এসব রিয়াদকে ঘুমাতে দেয় না।

রিয়াদ  এর মাথা ব্যথা করছে। রিয়াদ মাথায় নিজের দুই হাত দিয়ে চেপে ধরলো। রিয়াদ বলল, এই রহস্যা শেষ না হলে আমারো ঘুম হবে না। কতদিন ঘুমাই না আমি। কত বছর হয়ে গেল জেগে আছি।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login