Novel

যৌদ্ধা (পর্ব ০৮) রুদ্র সিয়াম

October 8, 2026

4 views

লোকটা পিস্তল নিয়ে লুকিং গ্লাসে গুলি করে দিল রিয়াদের চোখ বরাবর। রিয়াদ সরে গেল। অল্পের জন্য গুলি লাগেনি। তবে রিয়াদ বুঝে গেছে বিপদ এসে গেছে তার দরজায়। গুলিটা তখন টিভিতে গিয়ে লাগলো সঙ্গে সঙ্গে টিভি ব্লাস্ট হয়ে আগুন ধরে গেল। টিভির আগুন ঘরের পর্দায় লেগে গেল। তখনই ঘরে আগুন ছড়িয়ে যেতে লাগলো।

লোকটা এবার দরজার বাইরে থেকে লকের মধ্যে গুলি করে লক খুলে ফেলে। তারপর ঘরে প্রবেশ করে দেখে রিয়াদ নাই। এই কয়েক সেকেন্ডে রিয়াদ কোথায় লুকিয়েছে?  লোকটা ফোনের এ্যাপে ঢুকলো। এখানে দেয়ালের পেছনে কি আছে সব দেখা যায়। গ্রীন রংয়ের। মানুষ দাড়িয়ে থাকলে দেখা যাবে।

লোকটা পুরো ঘরে মোবাইলের ক্যমেরা দিয়ে দেখলো। আগুন ছাড়া কিছু দেখা গেল না। রিয়াদ তখন দেয়ালের ওপড়ে দুহাত ও দুপা টান করে ব্যলেন্স করে ঝুলে আছে। লোকটা ওপরে তাকালেই রিয়াদকে দেখতে পাবে। তবে রিয়াদ সে সুযোগ দিল না।

ওপর থেকে লাফ মেরে লোকটার ওপর পড়লো। লোকটা ফ্লোরে পড়ে গেল। হাতে থাকা মোবাইলটা ছটকে আগুনে গিয়ে পড়লো। এদিকে বাইরে তখন মানুষের চিৎকার। তারা আগুন নেভাতে ব্যস্ত।

লোকটা উঠে দাড়ালো। রিয়াদ ও রেডি। তবে লোকটা এবার তার পিস্তল ইউজ করলো না। সেটা ফেলে দিল। লোকটা বলল, মশা মারতে পিস্তল ইউজ করব না।

রিয়াদের ঠোঁটের কোনায় হাসি। একটা ঘুষি দিল রিয়াদ লোকটা নাক বরাবর। এক গুষিতেই শেষ। ফ্লোড়ে পড়ে গেল নাক গিয়ে রক্ত বের হচ্ছে আর অজ্ঞান হয়ে গেছে।

রিয়াদ বলল, মজা পেলাম না। দুর্বল শত্রু।

রিয়াদ চাইলেই লোকটাকে আগুনের মধ্যে ফেলে চলে যেত পারতো। তবে রিয়াদ এটা করলো না কারন অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

রিয়াদ লোকটাকে কাধে নিয়ে বাচিয়ে আনলো রাস্তায়। পুরো হোস্টেলে আগুন লেগে গেছে সবাই নিভাতে ব্যস্ত। এদিকে রিয়াদ লোকটাকে কাধে করে একটা সিএনজি থামিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেল। সিএনজি ওয়ালা যাতে সন্দেহ না করে তাই রিয়াদ বললো এটা তার ভাই অসুস্থ হয়ে গেছে আগুন দেখে তাকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। একটু ফার্মেসিতে থামাইয়েন ঔষধ কিনবো। রিয়াদ ফার্মেসি থেকে মরফিন কিনলো।

তারপর জঙ্গলের কাছে সিএনজি থামলো। রিয়াদ ড্রাইভারকে বলল, এই জঙ্গলে আমাদের বাসা। আপনাকে আর যেতে হবে না।

ড্রাইবার টাকা নিয়ে চলে গেল। রিয়াদ লোকটাকে জঙ্গলে এনে গাছের সাথে বেধে ফেলল। দুহাত পেছনে নিয়ে বাধলো আবার পেটের ওপর গাছের শিকড় দিয়ে বাধলো।

রিয়াদ মরফিন ইনজেকশন পুশ করে লোকটার বডিতে দিতেই লোকটা জেগে উঠলো। এবার জিজ্ঞেস করার পালা। কেন লোকটা রিয়াদকে খুন করতে চায়?

এদিকে ইন্সপেক্টর মারজান কম্পিউটার এর কাছে বসে আছেন। হ্যকার জসিমকে বলা হলো রিয়াদের শেষ লোকেশন বের করতে।

জসিম বলল, রিয়াদ সর্বশেষ ওয়াইফাই ইউজ করেছে সিলেটে তাজমহর হোটেল এর আশেপাশে লোকেশন দেখাচ্ছে।

মারজান বললেন, ৫জনের একটা টিম নিয়ে যাচ্ছি আমি রিয়াদকে ধরতে হেলিকপ্টার বের করতে বলো।

জসিম বলল, আমি সামান্য হ্যাকার ম্যডাম। হেলিকপ্টার কিভাবে বের করব?

মারজান বললেন, তোমাকে বলিনি। আমি ফোনে কথা বলছিলাম।

জসিম নিজের ভুল বুঝে দাত দিয়ে জিহ্বা কাটলো।

মারজান জসিমকে নিয়ে আরো ৫ জন সোয়াট টিম নিয়ে হেলিকপ্টার উড়ানো হলো আকাশে গন্তব্য রিয়াদ।

লোকটার জ্ঞান ফিরে এসেছে। লোকটা ভয়ে বললে, আমাকে কিসের ইনজেকশন দিয়েছেন?

রিয়াদ বলল, মরফিন। এবার আসল কথায় আসি। কে তুমি? আর আমাকে কেন খুন করতে চাও?

লোকটা বলল, আমি আপনাকে আগে থেকেই চিনি। নুসাইবা আপনার খালতো বোন। আমরা প্রেম করতাম। তবে নুসাইবা কিভাবে পারলো আপনার সাথে ফিজিক্যাল করতে?

রিয়াদ বুঝলো এই ছেলেটার মনে অনেক কষ্ট। এজন্যই ছেলেটা নুসাইবাকে খুন করেছে। এখন সবকিছু ক্লিয়ার রিয়াদের কাছে।

রিয়াদ বলল, আমি সৈনিক ছিলাম। সেখানে আমাদের রাশিয়া পাঠানো হয়। তখন আমার  সাথে ইসহাক বন্ধু সেখানে আমার চোখের সামনে মারা যায়। সেই ঘটনা আমি এখনও ভুলতে পারিনি।

তারা দুজনই বুঝে তারা ভাঙ্গা রিদয়ের মানুষ। আর তাদের ভালবাসা ছিল একজন নুসাইবা। যে এখন আর নাই।

রিয়াদ বলল, তা ভাই নাম কি তোমার?

লোকটা বলল, আমার নাম আসাদ চৌধূরী। গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলে আমি।

রিয়াদ বলল, আসলে আমি জানতাম না নুসাইবা তোমাকে ভালোবাসে।

আসাদ বলল, আসলে ও আমাকে ইউজ করছে। ওকে যখন কলেজ যেতে দেখি তখন প্রপোজ করি। পাট্টা দেয়নি। প্রায় ৭দিন ওর পেছনে ঘুরে ওটাইসি। তাও অবহেলা করতো সম্পর্ক থাকাকালীন। একটা চুমুও দেয়নি। সেখানে আপনার সাথে ফিজিক্যাল।।এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।

রিয়াদ আসাদের কষ্ট নিজে অনুভব করলো। রিয়াদ বলল, আসলে নুসাইবা কখনও তোমায় ভালোবাসেনি। তুমি জোর করে ব্লাকমেইল করে তাকে পেয়েও তার মন পাওনি।

আসাদ এর চোখে জল।।আসাদ বলল, ঠিক বলেছেন। জোর করে মেয়েদের মন পাওয়া যায় না।

রিয়াদ বলল, তবে তোমার ভালোবাসা সত্যি ছিল। আজকাল এমন ভালবাসা পাওয়া যায় না।

আসাদ বলল, ভাই।।আপনি কখনও কাউকে মন থেকে ভালোবাসছেন?

রিয়াদ বলল, আমরা সৈনিক মানুষ খুন করেছি। মনে দয়া মায়া নাই। ভালোবাসা বলতে ডিকশনারীতে কোন শব্দ নাই।

এরকম সময় আকাশে হেলিকপ্টার দেখা গেল। হেলিকপ্টার লাইট মারছে জঙ্গলে। মারজান মাইকে বলছে, রিয়াদ নিজেকে সেলেন্ডার করো।

আসাদ বলল, ওরা আপনাকে ধরতে আসছে কেন? আপনি তো নুসাইবাকে খুন করেননি।

রিয়াদ বলল, আমি মকবুল কে খুন করেছি।

আসাদ বলল, তাহলে আমরা দুজনই অপরাধী।

রিয়াদ বলল, সেটাই বলা যায়।

হেলিকপ্টার দিয়ে ৫ জন সোয়াট টিম জঙ্গলে নামলো। তাদের হাতে রাইফেন। লেজার লাইট মেরে তারা এগোচ্ছে জঙ্গলের দিকে।

রিয়াদ এদিকে আসাদের হাতের বাধন খুলে তাকে মুক্ত করে দিল। তখনই রিয়াদ দেখলো আসাদের বুকের ওপর লেজার লাইট। তারপর ই রিয়াদ বুঝে গেল সোয়াড টিম তাদের পেছনে দাড়ানো।

রিয়াদ পেছনে ঘুরে তাকালো। ৫জন সোয়াট টিম রাইফেল হাতে দাড়ানো। তাদের ওপর রাইফেল তাক করা। লেজার লাইট মেরে তাদের নিশানা করে।

সোয়াট টিমের একজনের কপালে ঘাম কানে হেডফোন। হেডফোনে কথা বলছেন মারজান হেলিকপ্টারে বসে। সোয়াট টিমের লোক  বললেন, ম্যডাম ওদেরকি কি  গুলি করে দিব? রিয়াদের সাথে আরেকটা ছেলে তাকেও কি গুলি করে দিব?

এবার মারজান কি ডিশিসন নিবেন? সেটাই দেখার পালা। আর রিয়াদ কিভাবে পালাবে? নাকি রিয়াদের মাথায় নতুন পরিকল্পনা?  এরপর কি হবে? রিয়াদ কি হার মেনে যাবে? নাকি রিয়াদ ও আসাদ এক টিম হয়ে লড়াই করবে সোয়াড টিমের বিপক্ষে?  সেটাই দেখার বিষয়।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login