দিগভ্রান্ত চোখে আমি চেয়ে থাকি বহুদূরের দিগন্ত রেখায়,
চোখের পাতায় জমে থাকা ধুলো যেন এক একটা স্মৃতিচিহ্ন।
কতটুকু মনে পড়ে আর কতটুকু মুছে যায় আলোর আনাগোনায়?
আলেয়ার মতো জ্বলে ওঠে অতীত, আবার নিভে যায় পলকে।
যে জীবন ফেলে এসেছি, তা কি সত্যিই আমার ছিল?
নাকি অন্য কারো ছায়াকে নিজের ভেবে আঁকড়ে ধরেছিলাম এতদিন?
সবটুকু মনে করতে না পারার এই অক্ষমতাও একপ্রকার মুক্তি,
অতীতের বোঝা ঝেড়ে ফেলে নিঃশ্বাস নেওয়াও শান্তি।
আমি এখন দেখি এই আকাশ, এই মেঠো পথের বাঁক,
জীবনকে মেপে নিতে চাই আজকের দুপুর দিয়ে।
কোনো বোঝাপড়া নেই, কোনো প্রার্থনার ঘর নেই আমার,
শুধু বুকের ভেতর জমে থাকা একটা অস্পষ্ট কুয়াশা।
যদি স্মৃতিই জীবনের একমাত্র মাপকাঠি হয়,
তবে যে ভুলে গেছে, সে কি তবে পথ হারিয়ে নিঃস্ব হলো?
না কি ভুলে যাওয়ার মধ্য দিয়েই সে খুঁজে পেল নিজের অবয়ব?
চোখ বুজলে আমি দেখি একখানা প্রাচীন বটগাছ আর জলহীন নদী,
সেখানে কেউ দাঁড়িয়ে নেই, কোনো অপেক্ষার দাগও অবশিষ্ট নেই।
আমার দিগভ্রান্ত চোখ তবু পথ্য খোঁজে কোনো এক অপরিচিত গৃহস্থের উঠোনে,
যেখানে রোদের আলোয় শুকোচ্ছে ধান, যেখানে জীবনের গন্ধ এখনও সজীব।
এই তো জীবন, অতি সাধারণ এক ছায়ার খেলা,
মনে রাখার চেয়ে ভুলে যাওয়ার আনন্দ এখানে ঢের বেশি গাঢ়।