আমারে একবার বইলা যাইবা, ফিরবা কবে গঞ্জ থেইকা?
চকচকা দুই চাকা ঘোরে, কাদায় ফোটে মেঠো রেখা।
মহিষের ওই ঘাড়ে জোয়াল, চাবুক তোমার হাতের তলে,
সোনার নদীর চরে চরে পরান আমার উছাল ছলে!
তুচ্ছ করি মেঘের ছায়া, কাঁচা রোদের দাপট সয়া,
যাও রে তুমি মহিষ লইয়া।
আমারে একা থুইয়া ঘরে, গঞ্জ কোন্ দূর অচিন গাঁয়ে!
হোঁচট খাইয়া চলল গাড়ি, ধুলার তোড় যায় রে উড়ি,
তোমার চোখে দূরদিগন্ত, আমার চোখে আন্ধারপুরী।
হাটের দিনে গুড়, সরিষা, পাট বেচিবা কিসের আশে?
পয়সা ক'টা আনবা মেপে, চাল কিনিবা হিসাব কষে!
ওরে আমার মহিষাল রে, পয়সা দিয়া কি যায়গো কেনা
বুকের ভেতর রাইখা আসা এই যে মেলা সুদের দেনা?
রাইত পোহাইলে খালি ভিটা, বাঁশের বাঁশি পইড়া থাকে,
হাঁসের দল কুড়ায়ে গুড়ায়, উঠানজুড়ে কাদা মাখে।
সন্ধ্যা নামলে চালের উপর জোনাক পোকার আগুন জালে,
আমি শুধু প্রদীপ জ্বালি তোমার ফেরার আসার কালে।
বাতাস কান্দে হিজল ডালে, মহিষের ঘুঙুর যেন বাজে,
আমি ভাবি, এই বুঝি মোর পরাণ আইল বাড়ির মাঝে!
গঞ্জ যদি দূরেই টানে, চাকার শব্দে মেটায় তৃষা,
তবে কেন রাইখা গেলা আমার চোখে আন্ধার দিশা?
যাও রে তুমি মহিষ চালাও, চাবুক মারো নদীর চরে,
তোমার ফেরার আশে আমি পথ চাইয়া থাকমু ঘরে।
একবার শুধু মুখটা ফিরাই বইলা যাও রে পরান পাখি,
ফিরমু আমি, কান্দিস নে রে, আঁচল দিয়া মোছ তোর আঁখি!