সাহিত্যে নোবেল জয়ী অ্যান কার্সনের তিনটি কবিতার অনুবাদ
ড. এস এম শাহনূর
কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ধ্রুপদি সাহিত্যবিশারদ অ্যান কার্সন ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক নির্মাণের জন্য তাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণকে আধুনিক কাব্যভাষায় নতুনভাবে উপস্থাপন, কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত সীমারেখা অতিক্রম এবং ভাষা ও আঙ্গিক নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজ তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ Autobiography of Red: A Novel in Verse প্রাচীন গ্রিক পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে কেন্দ্র করে রচিত এক অভিনব কাব্যিক আখ্যান।
১. গেরিয়ন (Geryon)
লাল প্রান্তরের কী কঠিন বিস্তার—
লাল বাতাসে গবাদিপশুরা
বাঁধনের দড়িতে ঘষে চলে শরীর।
গেরিয়নের স্বপ্ন
লাল ঊষার আঠালো অন্ধকারে
নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
স্বপ্নটি শুরু হয়েছিল লাল হয়ে;
তারপর পাত্র ছেড়ে বেরিয়ে
ছুটে গেল—
পাল তুলে, রুপালি আলো ভেঙে,
শিকড় ভেদ করে ওপরে উঠল
একটি কুকুরছানার মতো—
গোপন এক কুকুরছানা।
আর সামনে
আরেকটি লাল দিন।
২. এদিকে সে এসে গেল
(Meanwhile He Came)
লবণাক্ত পাথুরে ঢিবিগুলোর
ওপার থেকে
সে-ই এগিয়ে এল।
সে জানত ঘরের সোনার কথা;
দেখেছিল লাল চূড়ার ওপরে
লাল ধোঁয়ার উত্থান।
৩. গেরিয়নের মা-বাবা
(Geryon’s Parents)
রাতের খাবারেও যদি
মুখোশ পরে থাকতে চাও—
বেশ, তবে শুভরাত্রি।
এই বলে তারা তাকে তুলে পাঠাল
রক্তক্ষরণরত সিঁড়ি বেয়ে ওপরে,
উত্তপ্ত, শুষ্ক বাহুর দিকে,
দুঃস্বপ্নের টিকটিক করা
লাল ট্যাক্সির ভেতর।
সে যেতে চায় না—
সে থাকতে চায় নিচে,
বই পড়তে চায়।
অনুবাদ-ভূমিকা:
অ্যান কার্সনের Autobiography of Red গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার বাংলা কাব্যিক অনুবাদ এখানে উপস্থাপিত হলো। গেরিয়ন চরিত্রকে কেন্দ্র করে রচিত কবিতাগুলোয় নিঃসঙ্গতা, আত্মপরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক ও অন্তর্গত বেদনার নানা মাত্রা প্রকাশিত হয়েছে।
মূল কবিতার চিত্রকল্প, অনুভব, ভাষার স্বাতন্ত্র্য ও কাব্যিক ব্যঞ্জনা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলা ভাষায় সেগুলোকে নতুনভাবে প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। এই অনুবাদে শব্দের আক্ষরিক রূপান্তরের চেয়ে মূল কবিতার অন্তর্নিহিত অনুভূতি ও কাব্যিক আবহ ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুবাদক: কবি, গবেষক, সম্পাদক।