লাল ইটের চত্বরে রক্তের দাগ এখনও শুকোয়নি,
মাইকে তখনো বাজছে ভাঙা মিছিলেরস্লোগান।
নির্ঘুম সারারাত ব্যারিকেডের পাশে কেটে গেছে।
হঠাৎ থলের ভেতর থেকে বেরোল একটা হলুদ খাম।
সেই চিঠি বলে, বাড়ি যাবি না? মা আর কত একা থাকবে?
বারান্দায় রাখা আছে তোর সেই ফেলে আসা সাইকেল।
মনে পড়ে যায় রোদ ঝলমল সেই দুপুরের ঘ্রাণ,
যখন বিপ্লব মানে ছিল শুধু সবই সম্ভব।
তখন তোকে ভালোবেসে ভুল করে ফেলেছিল মেয়েটা,
যার কানের দুল কেঁপে উঠত শীতের ভোরে।
তুই তখন বলেছিলি, সব ঠিক হয়ে যাবে, প্রিয়া,
আজ মিছিলে পা মিলিয়ে নিজেই তো হারিয়ে গেছিস দূরে।
কতদিন চোখে পড়েনি ওই শিউলি ঝরা উঠোন,
যেখানে রোদে শুকাতে দিত মায়ের চাদর।
পকেট থেকে লাল রুমালটা খসে পড়তেই মনে হলো,
এই লড়াকু মিছিলে আমাদের কি আর কেউ চেনে?
শ্রেণীসংগ্রামের এই অন্ধকূপ থেকে কবে ফিরবি ঘরে?
ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলিস ধুলোমাখা রাজপথে।
অথচ এখনও রাতে ঘুম ভেঙে গেলে হাতড়ে মরিস নিজের চুলে,
যে চুল উড়িয়ে দিত তোর ফেলে আসা কৈশোর।
এখনও তোকে টানে একটা কাঠের দরজা, ভাঙা জানলার গ্রিল,
যেখানে লণ্ঠনের আলোয় আজও অপেক্ষা করে একটা চিঠি।
সবাই বলুক, যোদ্ধার কখনো ক্লান্ত হতে নেই,
তবু আজ বড় বেশি বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে, খুব ইচ্ছে করে।