ঋতুচক্রের খেয়ালে শীত যায়, বসন্ত আসে।
যেন কোনো পুরোনো দুঃস্বপ্ন ভেঙে
একটি চড়ুই উড়ে আসে পুরনো দালানে তার পরিত্যক্ত বাসায়।
সে এসে পুরনো ঘ্রাণ খোঁজে সেখানে।
এই ঘ্রাণের নাম সে জানে না, শুধু জানে এটি তারই ছিলো।
সময়ের সাথে সে ঘ্রাণ কবেই হারিয়ে গেছে
কোনদিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে কিংবা প্রখর রোদে।
মানুষও সেরকম খোঁজে,
পাঁচওয়াক্তে, দীর্ঘ শ্বাসে কিংবা আত্মার নৈশব্দে;
একটু প্রগাঢ়তা, অথবা ধ্যানে হঠাৎ ভেসে আসা নিজের ছায়া।
নামাজে তার ভাবনার রাশ ধরে রাখতে গিয়ে
সে হঠাৎ চমকে ওঠে,
আমার মন কেন এমন চঞ্চল চড়ুই হলো?
এদিকে চড়ুইটা দালানের কার্নিশে দাঁড়িয়ে ভাবে,
তবে কি আমি ভুল বাসায় ফিরে এসেছি?
মানুষও ওয়াক্তের শেষে নিজের ভেতর ভরসা খোঁজে,
কিন্তু মন তার, যেন বাতাসে আঁকা রেখা,
নিজেকেও সে ছুঁতে পারে না।
তখনও পৃথিবী ঘুরে চলে নিজের কক্ষপথে
মানুষ হেঁটে যেতেই থাকে দিনের ভিতর দিয়ে,
রাতের ছায়া গায়ে মেখে।
ছায়া তার দিনে দিনে দীর্ঘ হতেই থাকে,
তবুও সে থামে না।
পেছনে ফেলে আসে দালান, পাঁজরের উপরের ঘর,
কিংবা নিজেরই পুরনো বিশ্বাস।
নফসের সাথে তার নিরন্তর লড়াই।
সে জানে একদিন সে ঠিকই মুতামায়িন্নাহ হয়ে যাবে।
অথচ সকল অন্তরের দরজার সামনে,
অষ্টপ্রহর স্রষ্টা অপেক্ষা করেন,
অন্তরের দরজায় কেই’বা উঁকি দেয়!
শুধু এক সাধক, তার মেরুদণ্ডে নিজের নিঃশ্বাস বুলিয়ে
শুনতে পায়, কেউ যেন ধমনির ভেতর
দু’হাতে নিভু নিভু প্রদীপকে জ্বালিয়ে রেখেছে,
আর ফিসফিস করে বলে,
আমি আছি,
তুই কি শুনিসনি এখনো?
দীর্ঘ, নির্জন প্রহরে,
চোখ বন্ধ করেই সাধক চিৎকার করে উঠেন,
আমি দেখেছি, আমি দেখেছি, আমি দেখেছি।
(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)