হঠাৎ আসে সে, সন্ধ্যাকাশে।
মেঘ ফুঁড়ে নেমে আসে,
এসে দ্রিম দ্রিম করে ঢাক বাজায়
আমার বুকের মধ্যিখানে।
আমি বলি, শব্দ কমাও। বয়স হয়েছে।
আমার দিনগুলো এখন কাচের মতো,
একটু শব্দে ফাটল ধরে।
আমার দিনরাতগুলো এখন ভারি ভঙ্গুর।
অমন শব্দ এখন আর সয় না।
সে হাসে, একরাশ বৃষ্টির মতো,
আমি জানি, সে আমার বারণ শুনবে না।
সে জানে না, বয়স মানে কেবল বয়স নয়,
বয়স মানে কিছু শব্দ আর স্পর্শের প্রতি ভয়,
বয়স সবকিছুকে মানিয়ে নিতে পারে না।
তবু সে আসে আবার,
নড়েচড়ে বসে দেয়ালের ঘড়ি,
পাখিরা উড়ে যায় জানালার ধারে,
আমার চুপচাপ দুপুরে ঢুকে পড়ে তার বাক্য।
যেন চপলমতি কেউ, এখনো চঞ্চল।
আমি বলি, ওরে, একটু দয়া কর,
আমার হাড়ে এখন শব্দ বাজে,
তোর দ্রিম দ্রিম ধ্বনি যেন বজ্রবৃষ্টি,
ভেতরটা কাঁপে, ভয় পাই সবকিছু।
তবুও সে আসে, বারবার আসে,
নতুন উৎসবের মতো,
আমি চেয়ে থাকি তার দিকে,
একদিন আমিও ছিলাম তার মতো,
সে জানে না, আমি তাকেই ফিরে ফিরে দেখি।
কিংবা আমি তার মাঝেই নিজেকেই দেখি।
যদিও আমি জানি, আমার ঠিকানা এখন পুরনো দিনে,
আমার এখন ঢাকের শব্দ এবং নীরবতার সমঝোতার
ছায়ায় বসে জিরোতেই বেশী ভালো লাগে।
(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)