আমাদের সবার হৃদয়ের গভীরে
এক আশ্চর্য ডাকঘর আছে।
সেখানে চেতনার কলমে লেখা চিঠি আসে।
খামের উপর বিবেকের সীলমোহর।
সেই সিলমোহর কেউ ভাঙে না।
মন এক দগ্ধ জোনাকি,
আলোর চেয়ে ছাই রঙা পাখায় সে ভাল থাকে।
সে জানে, আগুনের শিখায়
আত্মার প্রতিচ্ছায়ার জ্যামিতি আঁকা।
সেখানে অঙ্কিত হয় অদৃশ্য উপলব্ধির চিত্র।
মানুষ জানে, তার উপলব্ধি সেই চিঠিতে লেখা আছে।
রাতের অন্ধকারে হৃদয় যখন নিঃসঙ্গতার সিঁড়ি বেয়ে,
"আমি"-কে খুঁজে, তখন বিষাদের পায়ের শব্দে,
মানুষ ভয় পায়, নিজের হাহাকারের মুখোমুখি হয়ে
সে মুখে উচ্চারণ করে, আমি অন্ধকারকে ভয় পাই।
কেউ তখন লিখে আত্মজিজ্ঞাসার উত্তরগুলো,
কেউ আঁকে স্মৃতিময় পৃথিবীর জলছবি,
হৃদয়ের ডাকঘরে সেও এসব লিখে চিঠি দিতে চায়।
নিঃশব্দে সে ফিরে আসে,
নিজেকে কীভাবে চিঠে দিতে হয়, সে জানে না।
ভাবনায় শিশিরের বুদবুদ
জন্ম নেয় অসমাপ্তির অপূর্ণতা থেকে।
মানুষ আলো জ্বালতে চায়,
ডাকঘরের সকল চিঠির সিলমোহর খুলতে চায়।
মানুষ পারে না, মানুষ আসলে কিছুই পারে না।
নীরবে নিজের ব্যার্থতাকে নির্মল পবিত্রতা হিসেবেই মেনে নেয় মানুষ,
সবকিছু পারতে হয় না মানুষের!
অঙ্কুরোদগমের মহাকাব্যের কথা মহীরুহ যেমন নিজেও জানে না।
মানুষও তেমনি নিজের সবকিছু জানে না।
(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)