আমরা যারা অফিসে অনেক সময় বসে কাজ করি, আমাদের অনেকেরই ওভারওয়েট বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে। আমাদের কারও কারও ফ্যাটি লিভার, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, এমনকি ডায়াবেটিসও রয়েছে।
আপনি যদি অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারেন, তাহলে অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা করবে।
শর্টকাট উপায়
আপনার বয়স, উচ্চতা ও বর্তমান ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন ২,০০০ ক্যালরি গ্রহণ করলে যদি ওজন স্থির থাকে, তাহলে হিসাব করে প্রতিদিন ১,৫০০ ক্যালরি গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। একটি সুষম ডায়েট চার্ট তৈরি করুন। সেখানে সকালের নাশতায় দুটি সেদ্ধ ডিম রাখতে পারেন।
বাসায় প্রতিদিন যে খাবারগুলো রান্না হয়, সেগুলো খেয়েই ওজন কমাতে পারবেন। নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেতেই হবে, এমন নয়। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, আপনার নির্ধারিত ক্যালরির লক্ষ্যমাত্রা যেন অতিক্রম না করে।
রাতে ভালো ঘুমাতে হবে। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করলে এবং খাবারের পরিমাণ হিসাব করে নিজের দৈনিক ক্যালরির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকলে ওজন কমানোর পরিকল্পনা ঠিক রাখা সহজ হবে।
মাসে প্রায় ২ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখতে পারেন। তাড়াহুড়া করা যাবে না। নিজেকে উপোস রেখে কষ্ট দেওয়া যাবে না। আপনি খেয়েই ওজন কমাবেন।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—কোনো রোগ বা ওষুধের কারণে ওজন কমাতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আরও কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন
১. স্বাভাবিক ওজন কমানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি নবী (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে সপ্তাহে দুই দিন রোজা রাখতে পারলে রাখতে পারেন।
২. সকালের নাশতা স্বাস্থ্যকর রাখুন, যাতে সারাদিন কাজ করার শক্তি পান।
৩. রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন।
৪. প্রতিদিন সকালে ১০ মিনিট রোদে থাকার চেষ্টা করুন।
৫. প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটুন। সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে হাঁটার সময় বাড়াতে পারেন।
মনে রাখবেন, ওজন কমানো খুব কঠিন কিছু নয়। শুধু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে, খাবারের পরিমাণ হিসাব করে এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।