পুরনো বইয়ের দোকানের এক কোণে ধূলিমলিন প্রচ্ছদ মোছা শেষ হলে,
হলদে হয়ে যাওয়া পাতা আর জং ধরা তাকের আড়ালে
নীরবে ফুটে ওঠে স্মৃতির পাতায় ঝুলে থাকা এক অচিন সময়।
বাইরে তখন ব্যস্ত রাজপথ, হর্নের শব্দে চুরমার ফ্রেমে বাঁধা বর্তমান,
অথচ এই কাঠের চোরগলিতে স্থির হয়ে থাকে শতাব্দীর বিষণ্ন ধূলিকণা।
কাউন্টারে বসা চশমা পরা বৃদ্ধের আনমনে পাতা উল্টানোর খসখস শব্দে
কত না দেখা শহরের রূপরেখা আঁকা হয়ে যায় নীরব বাতাসে।
বাইন্ডিং ছেড়ে আসা কোনো এক পুরনো ডায়েরির ভাঁজে
আজও থমকে আছে এক শুকিয়ে যাওয়া লাল গোলাপের বিষাদ;
যার প্রেরক হয়তো হারিয়ে গেছে স্মৃতির ধোঁয়াটে কোনো কোলাহলে,
কিন্তু রেখে গেছে এক চিরন্তন অপেক্ষার ভিজে সুবাস।
তাকবন্দী যত না বলা প্রহর
ধূপের ধোঁয়ায় মোড়া এই অলিতে
আমাদের নিয়ে যায়
স্মৃতির অলিন্দে অজ্ঞাত সফরে।