বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি। জানালার কাচে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো আছড়ে পড়ছিল, আর ট্রেনের চাকার শব্দের সঙ্গে মিশে তৈরি হচ্ছিল এক অদ্ভুত সুর। দূরে সবুজ ধানখেত, ছোট ছোট গ্রাম আর পানিতে ডুবে থাকা পথগুলো দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছিল।
জানালার পাশে বসে ছিলেন শিউলি। পরনে পুরোনো ছাপা শাড়ি, কোলে রাখা একটি টিফিন ক্যারিয়ার। পাশে বসে থাকা আট বছরের ছেলে রাহাতের চোখে ছিল অদ্ভুত উচ্ছ্বাস।
“মা, আরেকটা পরোটা দাও না!”
শিউলি হেসে টিফিন ক্যারিয়ার খুললেন।
“এই তো একটু আগেই একটা দিলাম। এত খেলে পেট ব্যথা করবে যে!”
“হবে না! তুমি বানিয়েছ, তাই আমার পেট ব্যথা করবে না।”
ছেলের কথা শুনে শিউলি হেসে ফেললেন। তারপর পরোটার সঙ্গে আলুভাজি দিয়ে বললেন, “আচ্ছা, শেষবার। এরপর আর কিন্তু চাইতে পারবে না।”
রাহাত পরোটাটা হাতে নিয়ে জানালার দিকে তাকাল। বৃষ্টির ছাঁট মুখে এসে পড়তেই সে খিলখিল করে হেসে উঠল।
“মা, বৃষ্টি কি আমাদের সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াচ্ছে?”
“না রে, আমরা দৌড়াচ্ছি। বৃষ্টি তো নিজের মতোই পড়ছে।”
“তাহলে আমরা থেমে গেলে বৃষ্টিও থেমে যাবে?”
শিউলি ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
“জীবনে সবকিছু আমাদের থামার জন্য থামে না, বাবা। কিছু কিছু জিনিস নিজের নিয়মেই চলে।”
কথাটা বলতে গিয়ে হঠাৎ তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। জানালার বাইরে তাকিয়ে তিনি গভীর একটা নিশ্বাস ফেললেন।
আজ থেকে বারো বছর আগে এমনই এক বৃষ্টির দিনে এই ট্রেনেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।
সেদিন শিউলির বয়স ছিল মাত্র উনিশ। বিয়ের দুই বছরও হয়নি। স্বামী অর্ণব চাকরির জন্য শহরে থাকতেন। বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অর্ণব নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একসময় সবাই ধরে নিয়েছিল, অর্ণব আর বেঁচে নেই।
সেই সময় শিউলি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
পরিবারের অনেকে তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছিল। কেউ বলেছিল, যে মানুষ আর কোনো দিন ফিরবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই, তার জন্য জীবন নষ্ট করার মানে হয় না।
কিন্তু শিউলি রাজি হননি।
তিনি শুধু বলেছিলেন, “অর্ণব যদি সত্যিই আর না ফেরে, তবু তার ভালোবাসার একটা অংশ তো আমার কাছে আছে। আমি তাকে নিয়েই বাঁচব।”
তারপর জন্ম হয়েছিল রাহাতের।
অভাবের সংসারে শিউলি কখনো অন্যের বাড়িতে রান্না করেছেন, কখনো সেলাই করে টাকা উপার্জন করেছেন। ছেলের স্কুলের বেতন দিতে নিজের শখের গয়না বিক্রি করেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজ করেছেন, কিন্তু রাহাতকে কখনো বুঝতে দেননি যে তাঁদের সংসারে কতটা অভাব।
রাহাত জানত, তার বাবা অনেক দূরে চলে গেছেন। মা কখনো বাবার মৃত্যুর কথা বলেননি। শুধু বলতেন, একদিন বাবা ফিরে আসবেন।
কিন্তু শিউলি নিজেও জানতেন না, সেই কথাটা তিনি বিশ্বাস করে বলতেন, নাকি ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য।
হঠাৎ রাহাত মায়ের হাত ধরে বলল, “মা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
“তোমার বাবার শহরে।”
“বাবা কি সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে?”
শিউলি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকলেন।
“জানি না, বাবা। তবে একটা খবর পেয়েছি। তাই একবার দেখতে যাচ্ছি।”
কয়েক দিন আগে গ্রামের এক বৃদ্ধ পোস্টম্যান তাঁকে একটি চিঠি দিয়ে গিয়েছিলেন। চিঠিটা এসেছিল জেলা শহরের একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র থেকে। সেখানে লেখা ছিল, বারো বছর আগে নিখোঁজ হওয়া অর্ণব নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি নিজের পরিচয়ের কিছু তথ্য মনে করতে পেরেছেন। পুরোনো নথি ঘেঁটে তাঁর স্ত্রীর নাম পাওয়া গেছে শিউলি।
চিঠির সঙ্গে একটি ছবিও ছিল।
ছবির মানুষটির মুখে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুলে পাক ধরেছে। কিন্তু চোখ দুটো ছিল অর্ণবের মতোই।
ছবিটা হাতে নিয়ে শিউলি সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। বারো বছর ধরে বুকের ভেতর চাপা পড়ে থাকা আশাটা আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল।
তবে মনের ভেতর ভয়ও ছিল। অর্ণব যদি তাঁকে ভুলে গিয়ে থাকেন? যদি অন্য কোথাও নতুন জীবন গড়ে থাকেন? যদি ফিরে এসেও তাঁদের গ্রহণ না করেন?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর তাঁর কাছে ছিল না।
ঠিক তখনই কামরার দরজার কাছে একজন বৃদ্ধ লোক এসে দাঁড়ালেন। পরনে ভেজা শার্ট, হাতে একটি পুরোনো ব্যাগ। চেহারায় ক্লান্তির ছাপ, চোখে অদ্ভুত এক অস্থিরতা।
তিনি একবার শিউলির দিকে তাকালেন, তারপর রাহাতের দিকে।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর জিজ্ঞেস করলেন, “ছেলেটার নাম কী?”
শিউলি একটু অবাক হয়ে বললেন, “রাহাত।”
লোকটির ঠোঁট কেঁপে উঠল।
“পুরো নাম?”
“রাহাত অর্ণব।”
লোকটি যেন হঠাৎ নিজের পায়ের নিচে মাটি হারিয়ে ফেললেন। পাশের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি।
শিউলি ভয় পেয়ে বললেন, “আপনি ঠিক আছেন?”
লোকটি কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু কাঁপা হাতে পকেট থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করলেন। ছবিতে এক তরুণ দম্পতি। মেয়েটি শিউলি, আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি অর্ণব।
রাহাত ছবিটার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, “মা! তোমার ছোটবেলার ছবি!”
বৃদ্ধ লোকটির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
“তোমার ডান কানের পেছনে কি একটা ছোট কালো দাগ আছে, বাবা?”
রাহাত অবাক হয়ে মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ। তুমি জানলে কী করে?”
লোকটি কাঁপা গলায় বললেন, “কারণ তোমার জন্মের আগেই তোমার বাবার সেই দাগটার কথা জানা ছিল। আর তোমার মুখটা... আমার খুব চেনা।”
শিউলির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
“আপনি... অর্ণব?”
লোকটি ধীরে ধীরে মাথা তুললেন।
“শিউলি...”
একটা নাম। মাত্র একটা নাম। অথচ সেই নামের ভেতর লুকিয়ে ছিল বারো বছরের অপেক্ষা, হাজার রাতের কান্না আর অসংখ্য না বলা কথা।
শিউলি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। তাঁর চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরতে লাগল।
“তুমি এত দিন কোথায় ছিলে, অর্ণব? আমি কত খুঁজেছি তোমাকে!”
অর্ণব মাথা নিচু করলেন।
“দুর্ঘটনার পর আমাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলাম। নিজের নাম, ঠিকানা, কিছুই মনে ছিল না। কয়েক বছর বিভিন্ন জায়গায় কাটিয়েছি। পরে একটা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে শুরু করি। সম্প্রতি পুরোনো কাগজপত্র আর কিছু স্মৃতি ফিরে আসতে শুরু করেছে। তোমাদের খুঁজছিলাম, কিন্তু জানতাম না কোথায় যাব।”
শিউলি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি।”
অর্ণব তাঁর দিকে তাকালেন। কিন্তু সেই চোখে আনন্দের পাশাপাশি এমন এক অপরাধবোধ ছিল, যা শিউলি আগে কখনো দেখেননি।
রাহাত ধীরে ধীরে বাবার কাছে এগিয়ে গেল।
“তুমি কি সত্যিই আমার বাবা?”
অর্ণব হাঁটু গেড়ে বসে ছেলের হাত ধরলেন।
“হ্যাঁ, বাবা। আমি তোমার বাবা।”
রাহাত আর কিছু বলল না। শুধু বাবার গলা জড়িয়ে ধরল। অর্ণব ছেলেকে বুকে চেপে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
কামরার কয়েকজন যাত্রী নীরবে তাকিয়ে ছিলেন। কেউ চোখ মুছছিলেন, কেউ মুখ ফিরিয়ে জানালার বাইরে তাকাচ্ছিলেন।
কিছুক্ষণ পর শিউলি নিজেকে সামলে বললেন, “এবার আমাদের সঙ্গে বাড়ি চলো। রাহাতের জন্য, আমার জন্য... আমরা আবার নতুন করে শুরু করব।”
অর্ণব চুপ করে রইলেন।
শিউলি তাঁর হাত ধরলেন।
“কী হলো? তুমি কিছু বলছ না কেন?”
অর্ণব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “শিউলি, তোমাকে একটা কথা বলা দরকার। দুর্ঘটনার পর আমার স্মৃতি হারিয়ে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু সবকিছু ফিরে পাওয়ার পর একটা সত্য বুঝেছি। এতগুলো বছর আমি তোমাদের কাছে ছিলাম না। তোমরা কীভাবে বেঁচেছ, কত কষ্ট করেছ, আমি জানি না। আর এখন ফিরে এসে কীভাবে তোমাদের জীবনে জায়গা চাইব?”
শিউলি চোখ মুছে বললেন, “তুমি আমার স্বামী। তোমার জায়গা তো আমার জীবনেই।”
অর্ণব মাথা নাড়লেন।
“শুধু স্বামী হলেই কি সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? তুমি একা হাতে রাহাতকে বড় করেছ। ওর অসুখে, ওর স্কুলে, ওর প্রতিটি জন্মদিনে তুমি ছিলে। আমি ছিলাম না। আমি চাই না, শুধু আমার ফিরে আসার আনন্দে তোমরা তোমাদের গড়ে তোলা জীবনটা ভুলে যাও।”
শিউলি কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু অর্ণব পকেট থেকে একটি খাম বের করে তাঁর হাতে দিলেন।
“এটা কী?” শিউলি জিজ্ঞেস করলেন।
“আমার বর্তমান ঠিকানা। আর কিছু কাগজপত্র। আমি শহরের একটি ছোট কারখানায় কাজ করি। নিজের মতো করে জীবন গুছিয়েছি। আমি চাই, তোমরা আগে সবকিছু ভেবে দেখো। শুধু আমার ফিরে আসার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ো না।”
শিউলির চোখে এবার অভিমান জমল।
“তুমি কি আবার চলে যেতে চাইছ?”
অর্ণব ধীরে বললেন, “আমি তোমাদের ছেড়ে যেতে চাই না। কিন্তু তোমাদের জীবনে ফিরে আসার অধিকারটাও জোর করে নিতে চাই না।”
ঠিক তখনই রাহাত বাবার হাত শক্ত করে ধরে বলল, “বাবা, তুমি কি কালও আমাদের সঙ্গে থাকবে?”
অর্ণব ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “তুমি যদি চাও, আমি থাকব।”
রাহাত মায়ের দিকে তাকাল।
“মা, বাবা এত দিন ছিল না বলে কি আমরা তাকে আর আমাদের সঙ্গে থাকতে দেব না?”
শিউলি ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই ছোট্ট ছেলেটাই বাবার অনুপস্থিতিতে বড় হয়েছে। তার প্রথম স্কুলে যাওয়া, প্রথম পুরস্কার পাওয়া, অসুখে রাত জাগা—সবকিছুর সাক্ষী ছিলেন শিউলি একা। এত বছর ধরে তিনি নিজের কষ্ট আড়াল করে ছেলেকে আগলে রেখেছেন। আজ হঠাৎ অর্ণব ফিরে এসেছেন বলে কি সেই সব স্মৃতি মুছে যাবে?
না, মুছে যাবে না।
কিন্তু তার মানে এই নয় যে নতুন কোনো স্মৃতি তৈরি করা যাবে না।
শিউলি ধীরে ধীরে অর্ণবের হাত ধরলেন।
“তুমি আজই আমাদের সঙ্গে বাড়ি চলো। তবে একটা কথা মনে রেখো, বারো বছর আগের জায়গায় আমরা আর নেই। আমি সেই উনিশ বছরের মেয়ে নই, আর রাহাতও তোমার অপেক্ষায় থাকা সেই অনাগত সন্তান নেই। আমাদের জীবন বদলে গেছে। তোমাকে আবার আমাদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।”
অর্ণবের চোখ ভিজে উঠল।
“আমি রাজি, শিউলি। যত দিন লাগে, আমি অপেক্ষা করব।”
ট্রেন তখন স্টেশনে ঢুকছে। বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে। ভেজা প্ল্যাটফর্মে সকালের আলো পড়েছে।
রাহাত বাবার এক হাত আর মায়ের এক হাত ধরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু নামার আগে হঠাৎ থেমে মায়ের দিকে তাকাল।
“মা, একটা কথা বলব?”
“বল, বাবা।”
রাহাত একটু ইতস্তত করে বলল, “তুমি ছোটবেলা থেকে বলতে, বাবা একদিন ফিরে আসবে। আমি জানতাম না তুমি সত্যি বিশ্বাস করতে, নাকি আমাকে কষ্ট থেকে বাঁচাতে বলতে। কিন্তু একটা কথা আমি কখনো তোমাকে বলিনি।”
শিউলি ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।
“কী কথা?”
রাহাত মৃদু হেসে বলল, “আমি ছোটবেলায় প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বাবাকে বলতাম, ‘তুমি যদি সত্যি কোথাও থাকো, তাহলে মাকে আর কাঁদিও না।’”
শিউলির চোখ আবার ভিজে উঠল। অর্ণব ছেলেকে বুকে টেনে নিলেন।
তারপর রাহাত এমন একটি কথা বলল, যা শুনে দুজনেই স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
“বাবা, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো—মা যখন তোমার জন্য কাঁদত, তখন আমি মাকে বলতাম, তুমি ফিরে না এলেও আমরা দুজন ভালো থাকব। তাই তুমি ফিরে এসেছ বলে আমাদের সুখী হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তুমি যদি সত্যি আমাদের ভালোবাসো, তাহলে আমাদের সুখী হতে সাহায্য করবে।”
কামরার ভেতর নেমে এল গভীর নীরবতা।
অর্ণব ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আট বছরের একটি শিশু যেন তাঁকে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়ে গেল।
তিনি শিউলির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমরা আমাকে আরেকটা সুযোগ দেবে?”
শিউলি উত্তর দিলেন না। শুধু তাঁর হাতটা শক্ত করে ধরলেন।
কখনো কখনো ভালোবাসা মানে কাউকে ফিরে পাওয়া নয়; ভালোবাসা মানে তার জীবনে ফিরে আসার আগে নিজের ভুলের দায় স্বীকার করা। আর বিশ্বাস ফিরে পেতে সময় লাগলেও, সেই সময়টুকু দেওয়ার সাহস রাখা।
ট্রেন থেকে নেমে তিনজন পাশাপাশি হাঁটতে লাগলেন। সামনে কী অপেক্ষা করছে, কেউ জানতেন না। হয়তো অভিমান থাকবে, হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। হয়তো অর্ণবকে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সত্যিই ফিরে এসেছেন।
তবু সেদিন শিউলির মনে হলো, বারো বছরের অপেক্ষার শেষ মানেই সব ক্ষত এক মুহূর্তে সেরে যাওয়া নয়।
কখনো কখনো অপেক্ষার শেষেই শুরু হয় সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়—আবার বিশ্বাস করতে শেখার অধ্যায়।
সমাপ্ত। ❤️
লেখানী- রেজেকা লিস্পা।