একলা ঘরের কোণে যখন নেমে আসে বিকেল,
সে ভুলে যায় মিছিলের গর্জন, মাইকের তপ্ত চিৎকার।
তার শুকনো চেতনায় ভেসে ওঠে সেই ছেঁড়া চটাই, ফুটপাতের নোনা হাওয়ায় আধপেটা শীতের রাত।
তখন তার চোখের কোণে সামান্য জল জমে,
মনে পড়ে মা রুটি সেঁকছে, আর বাবা শূন্য থালা নিয়ে চেয়ে আছে জানলার দিকে।
সে কি সত্যি জল? নাকি কেবলই পুরোনো স্মৃতির ছাই?
কারণ পরক্ষণেই দরজায় কড়া নাড়ে নিজস্ব ছায়া,
রেশমের কুর্তা জড়িয়ে সে আবার মুছে ফেলে চোখের কাঁচ।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে শত শত বুভুক্ষু হাত,
আর সে তাদের খিদের ওপর পা দিয়ে উঁচু করে তার নতুন সিংহাসন।
সে বোঝে না কীভাবে হাত দুটি বদলে গেল এক নিমেষে,
যে হাত একদিন ভিক্ষা চাইত, সে হাতই আজ ছাটাই করে মানুষের অধিকার।
নিজের ভেতর সেই দরিদ্র বালকটিকে সে রোজ খুন করে,
তারপর হাসিমুখে বের হয়ে আসে, নতুন চাবুকটি হাতে নিয়ে।