ছবি, তুমি রক্তমাংসের এক আস্ত মানুষ,
তোমার চালে-চলনে, আঙুলের অনায়াস দোলায়,
ক্লান্তি আর হাসির মধ্যবর্তী সেই বিশেষ আলোয়
প্রতিদিন এক আশ্চর্য জাগতিক সত্য বেঁচে থাকে।
তোমার চুলে রোদের সুবাস পাওয়ার চেয়ে,
তোমাকে কাছে টেনে নাম ধরে ডাকার চেয়ে,
এই যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার ব্যাকুল মুহূর্ত,
এই যে তোমাকে শূন্যতায় বানিয়ে তোলার নিঃশব্দ কারুকাজ,
এর চেয়ে জীবন্ত আর কিছু কি হতে পারে?
তুমি পাশে বসলে হঠাৎ কথা ফুরিয়ে যায়,
ঘড়ির কাঁটা বড় বেশি যান্ত্রিক শোনায়,
কিন্তু তুমি যখন হেঁটে চলে যাও বাস স্টপের দিকে,
তোমার শাড়ির আঁচল বাতাস ছুঁয়ে চলে যায় দূরে,
ঠিক তখনই আমার কবিতার ভেতরে
তুমি ফুটতে শুরু করো রক্তজবার মতো।
তোমাকে পাওয়া মানে তো এক স্থির শেষ বিন্দু,
একটি নিশ্চিত সমাপ্তি, এক প্রথাগত পূর্ণচ্ছেদ।
কিন্তু তোমাকে অনুভব করার এই যে অবারিত তৃষ্ণা,
তা তো আমায় এক চিরন্তন নদীর তীরে দাঁড় করিয়ে দেয়।
আমি তোমায় বাহুবন্ধনে বাঁধার চেয়ে বেশি ভালোবাসি
আমার খাতার সাদা পাতায় তোমার হেঁটে যাওয়া দেখতে।
সেখানে তুমি থমকে দাঁড়াও, হাত বাড়াও,
চোখে জমে থাকে সামান্য নাগরিক বিরক্তি আর গাঢ় মমতা।
রক্তমাংসের ছবি হয়তো একদিন বয়সের ভারে বদলাবে,
কিন্তু আমার দূরত্বের ক্যানভাসে আঁকা ছবি,
সে তো প্রতি মুহূর্তে নতুন করে জন্ম নেয়।
পেতে চাওয়া একরকম অধিকারের অহংকার,
আর না পেয়ে আঁকার চেষ্টা হলো এক গোপন ইবাদত।
তাই তোমাকে পুরোটা পাওয়ার কোনো তীব্র দাবি নেই আমার,
তোমার নামটা ঠোঁটে চেপে রেখে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলার স্বাধীনতা চাই।
তুমি ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাও, কোনো ক্ষতি নেই,
তুমি অন্য কারো ছায়ায় বোসো, তাহলেও কিছু এসে যায় না,
কারণ আমার কাছে তোমার এই অধরা থেকে যাওয়াই সত্য।
পাওয়ার আয়ু থাকে খুব কম, ছবি,
কিন্তু তোমার বিরহে তোমাকে পুনর্নির্মাণ করার আয়ু,
এ যেন আস্ত এক দীর্ঘ জীবন,
যেখানে প্রতিটা না পাওয়া মূহূর্তই
ভালোবাসার স্পন্দন হয়ে বুকের ভেতর ধুকধুক করে।