মনে আছে তোমার? একদিন বৃষ্টিভেজা রাস্তার
মোড়ে হঠাৎ ছাতা বন্ধ করে তুমি ডেকে
উঠেছিলে আমায়, তখন আমরা দুজনেই প্রথাগত
প্রেমের রূপকথা সাজাতে চেয়েছিলাম। তারপর
কত ট্রাফিক সিগন্যাল বদলে গেল, কত শত
বাস চলে গেল দূর দিগন্তে, আমাদের
সম্পর্কের শরীরে লেগে গেল শহরের প্রাত্যহিক
ধুলো আর ক্লান্তি। আজ আর সেই উন্মাদের মতো
ছুটে গিয়ে ফুটপাতে দাঁড়ানোর প্রহর নেই,
এখন তুমি আর আমি মাঝবয়সী শান্ত দুটো
নদীর মতো পাশাপাশি চলি। তুমি কথা বলো খুব
সংক্ষেপে, মেপে মেপে; কপালে জমে থাকা
কাজের রেখা আর সংসারের ভিড়ে আমি তোমাকে দেখি।
অথচ, সময় যখন আমাদের ভেতরের
তীব্র ব্যাকুলতাকে ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আমি
তখনও তোমাকেই এঁকে চলি অন্য এক ম্লান
আলোয়। আজ তোমাকে অনুপস্থিতির ভেতর রেখে
তোমাকে আঁকার এই যে স্পর্ধা,
আমায় আজও তরুণ বানিয়ে রাখে।
তোমার শাড়ির আঁচলে এখন আর হয়তো ফুলের
সুবাস মেলে না, সেখানে লেগে থাকে ব্যস্ত
বিকেলের ঘ্রাণ; তবুও শহরের এই ধোঁয়াটে
গোধূলিতে আমি যখন তোমার নাম উচ্চারণ করি,
আকাশ জুড়ে তোমার এক অলৌকিক ছায়া পড়ে।
ছবি, তোমার এই বদলে যাওয়া রূপটাকেই
আমি শব্দে বাঁধি, কারণ তোমার না থাকাটাই আজ
আমার জন্য এক দারুণ ঐশ্বরিক উপহার।