ভুলে কখনো ফুল ফোটে, কখনো বিঁধে কাঁটা
তবুও তো এক জীবনে ভুলের পথেই হাঁটা।
ভুলের পরেই ভুলের রেশে সাজাই রঙিন ঘর
আপন মানুষ নিমিষেই তো হয়ে যায় যে পর।
চোখের আলোয় দেখতে গিয়ে ভুল মানুষের মুখ
বুকের ভেতর আজীবন জমাই নীরব দুখ।
সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে মরিচীকার পিছু
জীবনখানা ফুরিয়ে গেল, রইল না আর কিছু।
কতটা ভুল পাড়ি দিলে সঠিক নদীর কূল
জানল না কেউ এই জীবনে ভাঙল কবে ভুল।
পথের বাঁকে আলো ভেবে জড়িয়ে নিলাম ছায়া
মিথ্যে জানার পরেও কেন কাটল না এই মায়া?
পাথর বুকে গোলাপ ভেবে দিলাম কত জল
প্রতিদানে পেলাম শুধুই চোখের অশ্রুজল।
ভুল বিশ্বাসে সঁপেছিলাম সরল মনের ডাল
ঝড়ের হাওয়ায় ভেঙে গেল ভালোবাসার পাল।
রাত কেটে যায় একলা জেগে তারার পানে চেয়ে
ভুলের স্মৃতি মেঘের মতো নামল বাদল বেয়ে।
কত প্রহর ভুল ঠিকানায় পাঠিয়েছি যে চিঠি
উত্তরহীন শূন্য খামে রইল চোখের দিঠি।
ভুল জেনেও হাত বাড়িয়েছি কাঁটার গভীর বনে
রক্তাক্ত সেই ক্ষতগুলো জ্বলছে আজও মনে।
ক্ষমার চাদর গায়ে জড়িয়ে ভুলতে চাই যে সব
হৃদয় জুড়ে তবু বাজে স্মৃতির কলরব।
ভুল তো কেবল পতন নয়, পথ চেনারও গান
ভুলের আগুনে পুড়েই খাঁটি হয় তো অভিমান।
হোঁচট খেয়েই শিখেছি তো শক্ত করে চলা
না-বলা সেই ভুলের কথা কতই বাকি বলা।
কিছুটা ভুল জীবন জুড়েই থাকুক নীরব ক্ষত
সব ভুলেতেই কি মানুষ হয় নিজের মতো রত?
পাপড়ি খসে কাঁটার আঘাত সইব হাসিমুখে
ভুলকে ভালোবেসেই মানুষ বাঁচে পরম সুখে।
হিসেব-নিকাশ উল্টে দিয়ে চলি অচিন বাঁকে
ভুলগুলো সব মায়াবী এক আলপনা হয়ে থাকে।
জীবনের এই ভাঙাগড়ায় ভুলই তো এক টান
ভুলের সুরেই লেখা হলো বাঁচার মধুর গান।
ভুলে কখনো ফুল ফোটে, কখনো বিঁধে কাঁটা
তবুও তো এই এক জীবনে ভুলের পথেই হাঁটা।