মতিঝিলের পুরোনো পাঁচতলা ভবনের তিনতলায় ‘মেঘনা ডিস্ট্রিবিউশন’ অফিসের সকালটা আর দশটা দিনের মতোই নিস্তরঙ্গ ছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মৃদু শোঁ-শোঁ শব্দ, কি-বোর্ডের খটখট আর দূরে চায়ের কাপের টুংটাং ছাড়া কোনো কোলাহল ছিল না। ঠিক সকাল দশটা বেজে পনেরো মিনিটে সেই নিস্তরঙ্গ কাঁচের মতো পরিবেশ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। অ্যাকাউন্টস অফিসার মতিন সাহেব হন্তদন্ত হয়ে করিডোর দিয়ে ছুটে এলেন। তাঁর পরনের চেক শার্টের ওপরের বোতাম ছেঁড়া, ইন করা শার্টের একপাশ প্যান্টের বেল্ট ফুঁড়ে বাইরে উঁকি মারছে। মাথার পাতলা কাঁচাপাকা চুলগুলো যেন চারশো চল্লিশ ভোল্টের বিদ্যুতের শক খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ডানহাতে ধরা একটি তালি দেওয়া জীর্ণ ছাতা, আর বাঁহাতে ঝুলছে প্লাস্টিকের একটি লাল বাজারব্যাগ,যাতে কোনো ভার নেই, কেবল একদলা বাতাস আর দীর্ঘশ্বাস বন্দি।
কোনো দরজায় টোকা দেওয়ার বা ‘স্যার আসব?’ বলার তোয়াক্কা না করে তিনি সোজা জেনারেল ম্যানেজার সোলাইমান সাহেবের খাস কামরায় ঢুকে পড়লেন। দরজা খোলার শব্দে সোলাইমান সাহেব হাতের কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়ে বিষম খাওয়ার উপক্রম হলেন। চোখে রূপালী ফ্রেমের চশমা আঁটা সোলাইমান সাহেব অত্যন্ত ধীরস্থির এবং নিয়মানুবর্তী মানুষ। তিনি চশমাটা নাকের ডগা পর্যন্ত নামিয়ে হতভম্ব হয়ে বললেন, "আরে মতিন সাহেব! শান্ত হন, আগে এক ঢোক পানি খান। আপনাকে এমন পেরেশান আর বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে কেন? কোনো ক্লায়েন্ট কি চেক বাউন্স করেছে? নাকি অডিট টিম অফিসে হানা দিল?"
মতিন সাহেব সামনের গদিআঁটা চেয়ারটায় একরকম আছড়ে পড়লেন। হাতের ছাতাটা টেবিলের ওপর এমনভাবে রাখলেন যেন ওটা কোনো জাদুকরী তলোয়ার।
"স্যার! কেমনে শান্ত থাকব বলেন?" মতিন সাহেবের কণ্ঠ দিয়ে যেন লাভা বের হলো। "অডিট টিম এলে তো তাও ফাইল লুকিয়ে জান বাঁচানো যেত! এ তো সাক্ষাৎ যমদূত বাজারে নেমেছে স্যার! সরকার বেতন বাড়াল কাদের? সরকারি কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের! পে-স্কেল হলো তাদের, গ্যাজেট বের হলো সচিবালয়ে, আর সেই আগুনে পুড়ে কয়লা হতে হলো আমাদের মতো হতভাগা প্রাইভেট কোম্পানির কেরানিদের! মাছ, মাংস, চাল, ডাল, কাঁচামরিচ,যেখানেই হাত দিই, সেখানেই মনে হয় চারশো ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগুন! দাম রাতারাতি দ্বিগুণ! আমাদের মতো এই ছা-পোষা, বেসরকারি মানুষগুলো বাঁচবে কেমনে স্যার? আমরা কি ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকব? নাকি ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো খেয়ে পেটের ক্ষুধা মেটাব?"
সোলাইমান সাহেব কোনো কথা বললেন না। তিনি টেবিলের ওপর রাখা পেপারওয়েটটা নীরবে ঘোরাতে লাগলেন। কারণ এই প্রশ্নের উত্তর কোনো অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে নেই, এমনকি তাঁর নিজের জীবনের খতিয়ানেও নেই। তিনিও একজন বেতনভুক চাকুরে। তিনি ভালো করেই জানেন,বাজারে যখন আগুন লাগে, সেই আগুন কোনো পরিচয়পত্র দেখে না।
সোলাইমান সাহেব এক গ্লাস ঠান্ডা পানি মতিন সাহেবের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। মতিন সাহেব এক ঢোকে পানি শেষ করে টেবিলের ওপর সেই লাল রঙের খালি থলেটা উপুড় করে রাখলেন।
"স্যার, এই থলেটার দিকে তাকান," মতিন সাহেব আক্ষেপভরা গলায় বললেন। "সকাল সাতটায় কারওয়ান বাজারে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল মাসের বাজারটা একবারে সেরে ফেলব। পকেটে ছিল গত মাসের বাঁচিয়ে রাখা কষ্টার্জিত সাড়ে চার হাজার টাকা। বাজারে ঢোকার মুখে দেখি কাঁচামরিচের স্তূপ। ভাবলাম আধা কেজি কাঁচামরিচ নিই, তরকারিতে একটু ঝাল না হলে তো জীবনটাই বিস্বাদ লাগে। দোকানিকে বললাম, 'মামা, আড়াইশো গ্রাম কাঁচামরিচ দেন।' দোকানি আমার মুখের দিকে এমনভাবে তাকাল স্যার, যেন আমি তার কাছে কিডনি চেয়ে বসেছি!"
সোলাইমান সাহেব কৌতূহলী চোখে তাকালেন, "কেন? দাম কত চাইল?"
"দাম স্যার?" মতিন সাহেব চোখ কপালে তুললেন, "দোকানি অত্যন্ত ভাবলেশহীন মুখে বলল, 'আড়াইশো গ্রাম একশো কুড়ি টাকা। কেজি চারশো আশি!' আমি বললাম, 'কী বলিস ব্যাটা! গত পরশু তো একশো ষাট টাকা ছিল!' দোকানি এক গাল পানের পিক ফেলে অবলীলায় বলল, 'ক্যা কাকা, শোনেন নাই? কালকে টিভিতে দেখাইল না পে-স্কেল হইছে? সরকারি চাকুরেরা তো মোটা টাকা পাইতাছে। তাদের বেতন বাড়লে কাঁচামরিচের গাছ কি মাগনা পানি খায়? নিলে লন, না নিলে সামনে বাড়েন!' ভাবুন স্যার! কাঁচামরিচ যেন কোনো কৃষিপণ্য নয়, ওটা এখন সরাসরি স্বর্ণের খাঁচায় রেখে বিক্রির জিনিস! শেষমেশ পঞ্চাশ টাকার কাঁচামরিচ চাইলাম, দোকানি আমাকে এমন চারটা শুকনো মরিচ দিল,যা দেখে মনে হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতিসংঘ ত্রাণ পাঠিয়েছে!"
সোলাইমান সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "বাজারের অর্থনীতি বড় জটিল মতিন সাহেব। সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেটের কারসাজি।"
"অর্থনীতি আপনি বোঝেন স্যার, আমি বুঝি পেটের জঠরজ্বালা!" মতিন সাহেব এবার টেবিলের ওপর ঝুঁকে এলেন। "কাঁচামরিচের শক সামলে গেলাম মাছের বাজারে। রুই মাছের এক বিক্রেতাকে বললাম, 'দেড় কেজি ওজনের একটা ভালো রুই দাও তো ভাই।' মাছওয়ালা মাছের আঁশ ছাড়ানো ছুরিটা পাথরে শান দিতে দিতে বলল, 'সাড়ে চারশো টাকা কেজি।' আমি আঁতকে উঠে বললাম, 'কালকেও তো তিনশো টাকা ছিল!' মাছওয়ালা হাসল স্যার! এমন এক শয়তানি হাসি, যা দেখলে বাঘও লজ্জা পাবে। সে বলল, 'হুজুর, রুই মাছ কি আর আগের মতো নদীতে সাঁতার কাটে? সরকারি কর্মচারীরা সব বড় বড় মাছের অগ্রিম বায়না দিয়া রাখছে। নদীতে মাছের সাপ্লাই কম। এই মাছ খাইলে বুদ্ধি বাড়ে, যারা সরকারি পরীক্ষা দিয়া বেতন বাড়াইছে, তারাই এটা খাওয়ার যোগ্য!' আমি মাছের চোখের দিকে তাকালাম স্যার। বিশ্বাস করুন, মরা রুই মাছটাও যেন আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মারছিল আর বলছিল,'ভাগ ব্যাটা কেরানি, তুই তো পাঙ্গাশেরও যোগ্য না!'"
সোলাইমান সাহেব হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। তিনি মৃদু হেসে বললেন, "তারপর? শেষমেশ কী কিনলেন?"
"আরে না স্যার, পাঙ্গাশও এখন ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বসে আছে! শেষমেশ আধা কেজি তেলাপিয়া আর তিনশো গ্রাম আলু নিয়ে আমাকে পালিয়ে আসতে হলো। বাড়ি ফিরতেই আমার গিন্নি খাদিজা থলের ভেতর উঁকি দিয়ে বলল,'এই তোমার সাড়ে চার হাজার টাকার বাজার? এর চেয়ে বাজারে যাওয়ার পথে একটা ডাকাতির মামলা করে এলেই তো ভালো করতে!' এখন আপনিই বলেন স্যার, আমরা এই বেসরকারি চাকুরেরা যাব কোথায়?"
মতিন সাহেব পকেট থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ বের করলেন।
"স্যার, এই দেখুন আমার গিন্নির তৈরি চলতি মাসের বাজেট। আমার বেতন পঁচিশ হাজার টাকা। গত পাঁচ বছরে মালিকপক্ষ ইনক্রিমেন্ট দিয়েছে মোটে বারোশো টাকা। অথচ বাড়িওয়ালা প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এসে এমন মিষ্টি হাসি দেয়, যেন সে কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী, আর বলে,'মতিন ভাই, জিনিসের যে দাম! বাড়িভাড়াটা পনেরোশো টাকা না বাড়ালে তো আমার সংসার চলে না!' ফলে বাড়িভাড়াতেই চলে যায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার। বাকি থাকে সাড়ে দশ হাজার।"
সোলাইমান সাহেব একমনে হিসাব দেখতে লাগলেন।
"এখন এই সাড়ে দশ হাজারের মধ্যে ছেলের স্কুলের বেতন, মেয়ের কোচিং, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল দিয়ে বাকি থাকে চার হাজার টাকা। এই চার হাজার টাকায় চারজন মানুষের ত্রিশ দিন তিন বেলা খেতে হবে। মানে প্রতি বেলার জন্য বরাদ্দ থাকে প্রায় এগারো টাকা! স্যার, আমাকে একটা হিসাব বের করে দিন তো,১১ টাকায় একজন মানুষ কী খেতে পারে? একটা ডিমের দাম এখন পনেরো টাকা! তার মানে একবেলা যদি একটা পুরো ডিম খেতে চাই, তবে পরদিনের একবেলা আমাদের না খেয়ে কাটাতে হবে!"
সোলাইমান সাহেব বললেন, "আসলে ডিমের বিকল্প হিসেবে ডাল..."
"ডাল?" মতিন সাহেব হাত নাড়লেন, "মসুর ডালের কেজি একশো চল্লিশ টাকা! আমার গিন্নি কাল রাতে এমন পাতলা ডাল রেঁধেছিল স্যার, যে ডালের বাটিতে নিজের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল! আয়নার দরকার পড়ে না! বাটির একপাশে একটা মসুরির দানা সাঁতার কাটছিল, অন্যপাশে এক ফোঁটা হলুদ। ছেলেটা বাটি নাড়াচাড়া করে বলল, 'বাবা, এই ডালে কি ডুবসাঁতার দেওয়া যাবে?' গিন্নি এখন রান্নাঘরে নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেছে স্যার।"
"কীসের গবেষণা?" সোলাইমান সাহেব চোখ পিটপিট করলেন।
"বায়ুমণ্ডলীয় রান্না!" মতিন সাহেব শূন্যে হাত নাড়লেন। "তেলের যে দাম, সয়াবিন তেলের বোতল এখন আমরা শোকেসে সাজিয়ে রাখি। আত্মীয়স্বজন এলে ড্রয়িংরুমের শোকেস দেখিয়ে বলি,'দেখুন, আমাদের ঘরে এক লিটার রূপচাঁদা তেল আছে!' রান্না করার সময় গিন্নি তেলের বোতলের ছিপিটা সামান্য খোলে, তারপর কড়াইয়ের ওপর ধরে তিনবার বাতাস দেয়! যাতে তেলের সুবাসটা কড়াইয়ের গায়ে লাগে! আর পেঁয়াজ? আস্ত একটা পেঁয়াজ সুতো দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়, তরকারির ওপর দুবার চুবিয়ে আবার তুলে ফেলা হয়,যাতে পরের দিন আবার ব্যবহার করা যায়!"
সোলাইমান সাহেব এবার আর হাসি থামাতে পারলেন না। তাঁর গম্ভীর মুখের ভেতর থেকে অট্টহাসির রোল বের হয়ে এলো। পুরো রুম যেন কেঁপে উঠল।
দুপুর দেড়টায় অফিসের ছোট লাঞ্চরুমে কর্মীরা নিজেদের টিফিন বক্স খুলে বসলেন। সেখানে যেন এক নীরব শোকসভা চলছে। মতিন সাহেবের টিফিন বক্সে দুটি ভাজা পটল আর একটু শুকনো মরিচ ভর্তা। পাশে বসা জুনিয়র এক্সিকিউটিভ তানভীরের বক্সে শুধু আলুভাজি। তানভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "মতিন ভাই, ব্রয়লার মুরগি এখন আড়াইশো টাকা। মুরগি আমাকে দেখে খাঁচার ভেতর থেকে এমনভাবে তাকাল যেন বলছে,'তোর চেহারা আয়নায় দেখেছিস? তুই আমাকে খাওয়ার স্বপ্ন দেখিস?' শেষমেশ বউ বাপের বাড়ি যাওয়ার হুমকি দিয়েছে!"
এমন সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে লাঞ্চরুমে ঢুকলেন স্বয়ং জেনারেল ম্যানেজার সোলাইমান সাহেব। তাঁর হাতেও একটি স্টিলের টিফিন বক্স। তিনি মতিন সাহেবের পাশের খালি চেয়ারটায় বসে পড়লেন। সবাই তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়াতে গেলে সোলাইমান সাহেব হাত তুলে বসতে বললেন। তিনি নিজের টিফিন বক্স খুললেন। দেখা গেল,এক বাটি পাতলা খিচুড়ি আর সাথে দুটো সেদ্ধ ডিম! কোনো মাছ নেই, মাংস নেই।
মতিন সাহেব অবাক হয়ে বললেন, "স্যার! আপনি জিএম মানুষ... আপনার খাবারের এই অবস্থা?"
সোলাইমান সাহেব এক চামচ খিচুড়ি মুখে দিয়ে হাসলেন। "মতিন সাহেব, জিএম মানেই কিন্তু কুবেরের ধন নয়। আমার ছেলেটা নর্থ সাউথে পড়ে, মেয়ের কোচিং চলছে। বাজারে গিয়ে যখন চালের বস্তায় হাত দিই, তখন আমারও বুক কাঁপে। বাজারে আগুন লাগলে শুধু কেরানি নয়, সমাজের সমস্ত সীমিত আয়ের মানুষের ঘরই পোড়ে।"
খাওয়া শেষ করে সোলাইমান সাহেব এক কাপ গরম চা হাতে নিয়ে সবার মুখের দিকে তাকালেন।
"আমাদের এই পরিস্থিতির পেছনে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক শিক্ষা আছে," সোলাইমান সাহেব শান্ত গলায় বললেন।
"প্রথমত, সুযোগসন্ধানী মানসিকতা ও সিন্ডিকেট। সরকার যখন দেশের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি চাকুরের জন্য পে-স্কেল দেয়, তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা মনে করে দেশের সবার পকেটেই টাকার ফোয়ারা ছুটছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পঁচানব্বই শতাংশ বেসরকারি ও সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রস্তুতি ও কৃচ্ছ্রসাধনের অভাব। আমরা মধ্যবিত্তরা সবসময় লোকদেখানো সামাজিকতায় গা ভাসাই। ঘরে টান থাকলেও বাইরে বড় বড় ভাব দেখাই। এই সংকটের মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন সচেতনতা এবং ঐক্য।" সোলাইমান সাহেব পকেট থেকে একটি সই করা মেমো বের করলেন।
"আমি এমডি সাহেবের সাথে এক ঘণ্টা মিটিং করেছি। তিনি তিনটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন:
১. জরুরি জীবনযাত্রার ভাতা: চলতি মাস থেকেই পিওন থেকে অফিসার সবার মূল বেতনের সাথে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ 'জরুরি মহার্ঘ ভাতা' যুক্ত হবে।
২. কোম্পানি ন্যায্যমূল্যের রেশন ব্যবস্থা: আমাদের নিজস্ব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সরাসরি মিল থেকে পাইকারি মূল্যে চাল, ডাল, তেল কেনা হবে এবং কর্মীরা বাজারদরের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম মূল্যে তা কিস্তিতে কিনতে পারবেন।
৩. অপ্রয়োজনীয় পণ্য বর্জন: আমরা নিজেরা বাজারে গিয়ে অযৌক্তিক দামে কোনো পণ্য কিনব না। কাঁচামরিচ আর বড় মাছ যদি এক সপ্তাহ কেনা বন্ধ রাখি, তবে সিন্ডিকেটের পচন তাদের ঘরেই শুরু হবে।"
লাঞ্চরুমে এক মুহূর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে এলো। পরের মুহূর্তেই মতিন সাহেব এক লাফে দাঁড়িয়ে উঠলেন। তাঁর মুখে স্বস্তির হাসি। "স্যার! তার মানে আমার গিন্নিকে আর পাতলা ডালে নিজের মুখ দেখতে হবে না? আমরা কম দামে চাল-ডাল পাব?"
সোলাইমান সাহেব হেসে মেমোটি মতিন সাহেবের হাতে তুলে দিলেন। "হ্যাঁ মতিন সাহেব। তবে মনে রাখবেন,সরকার পে-স্কেল দিক আর নাই দিক, বাজারে আগুন লাগলে হাহাকার না করে বিকল্প খোঁজা, মিতব্যয়ী হওয়া আর একতাবদ্ধভাবে সিন্ডিকেটকে বয়কট করাই হলো মধ্যবিত্তের আসল বেঁচে থাকার হাতিয়ার।"
ছুটির পর মতিঝিলের রাস্তায় নেমে মতিন সাহেব যখন হাঁটা শুরু করলেন, তাঁর হাতে থাকা লাল থলেটা তখনো খালি। কিন্তু তাঁর চোখে আর কোনো আতঙ্ক ছিল না। তিনি মনে মনে ভাবলেন,কাল সকালে কাঁচামরিচওয়ালার সামনে দিয়ে একগাল হেসে হেঁটে যাবেন, আর বলবেন, "মরিচ তুমি সিন্ডিকেটের গলায় মালা হয়ে ঝুলে থাকো, আমি ডাল-ভাতেই দিব্যি সুখী!"