'বুঝলেন ভাই। যখন চাকু দিয়ে একটার পর একটা কোপ দিয়েছি। মনটা শান্তি হয়ে গেছে। সালায় আমারে চাদা দিব না। কত বড় সাহস। এবার বুঝ ঠ্যলা।'
রংবাজ মন্ট কথাটা বলল আমাকে। আমি চায়ে চুমুক দিলাম।
আমি বললাম, তারপর কি হলো?
মন্টু বলল, তারপর আমার নামে মামলা করলো। কোন বাল হইসে? আমার মামায় ডিবির লোক। আমারে ছাড়াইয়া আনসে।
আমি বললাম, এই যে আপনি চাকু দিয়ে কোপ দিলেন। আপনার কোন অনুতপ্ত নেই?
মন্টু বলল, ভাই মাল খাইলা লইছিলাম। মাল খাইলে আমার মাথা ঠিক থাকে না। অন্য এক মন্টু হইয়া যাই। তখন কোন খারাপ কাজ ই খারাপ মনে হয় না।
আমি বললাম, আসেন আমার সাথে।
মন্টু ভাই বললেন, কই যাবা?
আমি তাকে নিয়ে ঢাকার অলি গলি পেড়িয়ে একটা টিনসেট বাসায় আসলাম। এক মহিলা দরজার সামনে গালে হাত দিয়ে বসে ছিল।
আমি তাকে সালাম দিয়ে বললাম, ভালো আছেন। আপনার স্বামী কেমন আছে?
এখনও হাসপাতালে ওনার পেছনে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আমরা গরীব মানুষ। একটাই মেয়ে আমার। বিয়ের বয়স হয়েছে। বিয়ে দিতে পারছি না। এদিকে ওর বাপেরে সবজীর ব্যবসা করতে দিলাম। লজ্জায় করতে চায় না। আমি ই জোর করায় করতো। তারপর এক গুন্ডা নাকি চাদা না দেওয়া তাকে চাকু দিয়ে পার মারছে।
কথা শেষ না হতেই শাড়ির আঁচড়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলো মহিলা। মন্টু ভাই অবাক হয়ে দেখছে।
এমন সময় ঘর থেকে একটি কিশোরি মেয়ে বের হয়ে এলো। হাতে দুই কাপ চা। হয়তো ভেতর থেকে লক্ষ্য করেছে আমাদের।
কিশোরী মেয়ের জামা খুব ময়লা, চোখের নিচে কালি। চেহারা ভাঙ্গা, চোখে মুখে অভাবের চিন্হ। আমাকে চা এগিয়ে দিতে দিতে বলল, ভালো আছেন ভাইজান।
আমি মুচকি হাসলাম। মন্টু ভাই দেখলাম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে যেন প্রেম প্রেম ভাব। কিন্তু কঠিন বাস্তব হলো এই মেয়ের বাবাকেই সে চাকু মেরেছে। তার জন্যই এই পরিবারের এই অবস্থা। এটা বুঝতে পেরে মন্টু ভাই চুপ করে আছে।
মহিলা চোখের জল মুছে বলল, আপনারা মেহমান। ঘরে কিছু নাই। একটা বিস্কুট ও নাই যে দিব।
কিশোরী মেয়েটা একবার ঘরে চলে গেছিল। এবার ফিরে এলো চোখে অশ্রু নিয়ে। একদম কাদো কাদো হয়ে বলল, মা। বাবা আর নেই।
মন্টু ভাই দেখলাম আমার থেকেও বেশি অবাক হলেন। উনার হাত কাপতে লাগল আর হঠাৎ হাত থেকে চায়ের কাপ মাটিতে পড়ে গেল। উনার চোখেও দেখলাম জল।
তার মানে কি মন্টু ভাই অবশেষে অনুতপ্ত হলেন?
নিজের ভুল বুঝতে পারলেন?
(সমাপ্ত)
ছোট গল্প: অপরাধী
লেখক: রুদ্র সিয়াম