" আপনার চেহারা আমার বোনের মতো। আপনি আমার বোন হবেন। "
" আপনার চেহারা আমার বোনের মতো। আপনি আমার বোন হবেন। "
অপর্না আর তার বান্ধবী রিতু কলেজ যাচ্ছিল৷ তখন তাদের রাস্তা আটকে দাড়ায়। রাজ অপর্নাকে কথাগুলো বলেছিল। আরো অনেকদিন বলেছে। অপর্না পাত্তা দেয়নি৷
আজ অপর্না বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে৷
রাজ খুশি হয়ে তার পকেট থেকে ১০০টাকা বের করো দিল। তারপর অপর্নার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, বোন। সাবধানে কলেজ যা। আজ সি এন জি চালাতে গেলাম। রাজ চলে গেল।
রিতু বলল, এই ছেলেটা কে? আর তোকে বোন কেন বানালো?
অপর্না বলল, যে ইচ্ছে হোক আমার কী? আমাকে টাকা দিয়েছে কলেজ শেষে চল ফুসকা খাবো। যতদিন পারবো একে ভাঙিয়ে যাবো। দেখি কতদিন এই বোনের ড্রামা করে৷ ছেলেরা এমনই প্রথমে বোন পরে বলে খাটে চলো।
পরেরদিন যখন অপর্না ও রিতু কলেজ যাচ্ছিল। তখন তারা দূর থেকে দেখে রাস্তার ওপাশে সি এন জি দাড়িয়ে আছে। অপর্না কে দেখে রাজ তাড়াহুড়া করে সি.এন.জি ঘুড়িয়ে তাদের কাছে আসতে চায়। তখনই একটা ট্রাক ব্রেক ফেইল করে রাজের সি.এন.জির ওপর উঠিয়ে দেয় তার গাড়ি। রাজের সি.এন.জি কয়েকটা ডিক বাজি খেয়ে গাছের কাছে গিয়ে থামে।
এসব ই হয়েছে অপর্নার চোখের সামনে। সে হতবাক। সে সি.এন.জির কাছে গেল। রাজ সি.এন.জি তে বসা সামনে গ্লাস ভেঙ্গে তার বুকে গেথে গেছে। সবাই মিলে ধরে তাকে রিক্শা দিয়ে হাসপাতাল আনলো। রিক্সায় বসে ছিল রিতু ও অপর্না। অপর্নার কোলে রাজের রক্তাক্ত মাথা। রাজ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। কথা বলতে পারছে না। হাতের ঈশারায় বলতে চাচ্ছে তার বুক পকেটে কি যেন আছে।
রাজ হাসপাতালে অপারেশন হচ্ছে। বাইরে দাড়িয়ে রিতু ও অপর্না। রাজের বাটন ফোন ভেঙ্গে গেছে। সেখান থেকে সিম নিয়ে ফোন করা হয় রাজের মামাকে।
রাজের মামা হাসপাতালে আসলেন সন্ধাবেলা। অপর্নাকে দেখে তিনি খানিকটা অবাক হলেন।
রাজের মামা বললেন, তুমি ই অপর্না। পুরো রাজের বোনের মতো চেহারা। প্রথমে রাজ যখন বলেছিল বিশ্বাস করিনি। রাজের পৃথিবীর কেউ নাই। তার বাবা মা তাদের ফেলে দুজন দুদিকে সংসার করে। রাজের বয়স তখন ৫। তার ছোটবোন কনকের বয়স তখন ১ বছর। সেই থেকে রাজ কাজ করে তার বোনকে মানুষ করে।
অপর্না বলল, তাহলে তার বোন এখন কোথায়?
রাজের মামা বললেন, তার বোনের যখন ১০ বছর একদিন কুয়োর পড়ে মারা যায়। সেদিন ছিল 'রাখী' পড়ানোর দিন। রাজ তার বোনকে 'রাখী' পড়াতে পারেনি।
হঠাৎ ডক্টর এসে বললেন, রাজ মারা গেছে। তার পকেটে একটা 'রাখী' পাওয়া গেছে।
(সমাপ্ত)
ছোটগল্প: রাখী
লেখক: রুদ্র সিয়াম
অপর্না আর তার বান্ধবী রিতু কলেজ যাচ্ছিল৷ তখন তাদের রাস্তা আটকে দাড়ায়। রাজ অপর্নাকে কথাগুলো বলেছিল। আরো অনেকদিন বলেছে। অপর্না পাত্তা দেয়নি৷
আজ অপর্না বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে৷
রাজ খুশি হয়ে তার পকেট থেকে ১০০টাকা বের করো দিল। তারপর অপর্নার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, বোন। সাবধানে কলেজ যা। আজ সি এন জি চালাতে গেলাম। রাজ চলে গেল।
রিতু বলল, এই ছেলেটা কে? আর তোকে বোন কেন বানালো?
অপর্না বলল, যে ইচ্ছে হোক আমার কী? আমাকে টাকা দিয়েছে কলেজ শেষে চল ফুসকা খাবো। যতদিন পারবো একে ভাঙিয়ে যাবো। দেখি কতদিন এই বোনের ড্রামা করে৷ ছেলেরা এমনই প্রথমে বোন পরে বলে খাটে চলো।
পরেরদিন যখন অপর্না ও রিতু কলেজ যাচ্ছিল। তখন তারা দূর থেকে দেখে রাস্তার ওপাশে সি এন জি দাড়িয়ে আছে। অপর্না কে দেখে রাজ তাড়াহুড়া করে সি.এন.জি ঘুড়িয়ে তাদের কাছে আসতে চায়। তখনই একটা ট্রাক ব্রেক ফেইল করে রাজের সি.এন.জির ওপর উঠিয়ে দেয় তার গাড়ি। রাজের সি.এন.জি কয়েকটা ডিক বাজি খেয়ে গাছের কাছে গিয়ে থামে।
এসব ই হয়েছে অপর্নার চোখের সামনে। সে হতবাক। সে সি.এন.জির কাছে গেল। রাজ সি.এন.জি তে বসা সামনে গ্লাস ভেঙ্গে তার বুকে গেথে গেছে। সবাই মিলে ধরে তাকে রিক্শা দিয়ে হাসপাতাল আনলো। রিক্সায় বসে ছিল রিতু ও অপর্না। অপর্নার কোলে রাজের রক্তাক্ত মাথা। রাজ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। কথা বলতে পারছে না। হাতের ঈশারায় বলতে চাচ্ছে তার বুক পকেটে কি যেন আছে।
রাজ হাসপাতালে অপারেশন হচ্ছে। বাইরে দাড়িয়ে রিতু ও অপর্না। রাজের বাটন ফোন ভেঙ্গে গেছে। সেখান থেকে সিম নিয়ে ফোন করা হয় রাজের মামাকে।
রাজের মামা হাসপাতালে আসলেন সন্ধাবেলা। অপর্নাকে দেখে তিনি খানিকটা অবাক হলেন।
রাজের মামা বললেন, তুমি ই অপর্না। পুরো রাজের বোনের মতো চেহারা। প্রথমে রাজ যখন বলেছিল বিশ্বাস করিনি। রাজের পৃথিবীর কেউ নাই। তার বাবা মা তাদের ফেলে দুজন দুদিকে সংসার করে। রাজের বয়স তখন ৫। তার ছোটবোন কনকের বয়স তখন ১ বছর। সেই থেকে রাজ কাজ করে তার বোনকে মানুষ করে।
অপর্না বলল, তাহলে তার বোন এখন কোথায়?
রাজের মামা বললেন, তার বোনের যখন ১০ বছর একদিন কুয়োর পড়ে মারা যায়। সেদিন ছিল 'রাখী' পড়ানোর দিন। রাজ তার বোনকে 'রাখী' পড়াতে পারেনি।
হঠাৎ ডক্টর এসে বললেন, রাজ মারা গেছে। তার পকেটে একটা 'রাখী' পাওয়া গেছে।
(সমাপ্ত)
ছোটগল্প: রাখী
লেখক: রুদ্র সিয়াম